۞ بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَٰنِ الرَّحِيمِ ۞
অনুবাদকে টিক দিন        


সমগ্র কুরআনে সার্চ করার জন্য আরবি অথবা বাংলা শব্দ দিন...


তথ্য খুজুন: যেমন মায়িদা x
সুরা লিস্ট দেখুন

সূরা নাম (Sura Name): �������� ���������������� -- Al-Mu'minun -- ������-���������������������
Arabic Font Size:
আয়ত নাম্বার বায়ান ফাউন্ডেশন মুজিবুর রহমান তাইসীরুল কুরআন আরবি
1 অবশ্যই মুমিনগণ সফল হয়েছে, অবশ্যই সফলকাম হয়েছে মু’মিনগণ- মু’মিনরা সফলকাম হয়ে গেছে। قَدْ اَفْلَحَ الْمُؤْمِنُوْنَۙ﴿١ ﴾
2 যারা নিজদের সালাতে বিনয়াবনত। যারা নিজেদের সালাতে বিনয়, নম্র – যারা নিজেদের নামাযে বিনয় নম্রতা অবলম্বন করে। الَّذِیْنَ هُمْ فِیْ صَلَاتِهِمْ خٰشِعُوْنَۙ﴿٢ ﴾
3 আর যারা অনর্থক কথাকর্ম থেকে বিমুখ। যারা অসার ক্রিয়া-কলাপ হতে বিরত থাকে – যারা অসার কথাবার্তা এড়িয়ে চলে। وَ الَّذِیْنَ هُمْ عَنِ اللَّغْوِ مُعْرِضُوْنَۙ﴿٣ ﴾
4 আর যারা যাকাতের ক্ষেত্রে সক্রিয়। যারা যাকাত প্রদানে সক্রিয় – যারা যাকাত দানে সক্রিয়। وَ الَّذِیْنَ هُمْ لِلزَّكٰوةِ فٰعِلُوْنَۙ﴿٤ ﴾
5 আর যারা তাদের নিজদের লজ্জাস্থানের হিফাযতকারী। যারা নিজেদের যৌনাংগকে সংযত রাখে – যারা নিজেদের যৌনাঙ্গকে সংরক্ষণ করে। وَ الَّذِیْنَ هُمْ لِفُرُوْجِهِمْ حٰفِظُوْنَۙ﴿٥ ﴾
6 তবে তাদের স্ত্রী ও তাদের ডান হাত যার মালিক হয়েছে তারা ছাড়া, নিশ্চয় এতে তারা নিন্দিত হবে না। নিজেদের পত্নী অথবা অধিকারভুক্ত দাসীগণ ব্যতীত, এতে তারা নিন্দনীয় হবেনা। নিজেদের স্ত্রী ও মালিকানাভুক্ত দাসী ব্যতীত, কারণ এ ক্ষেত্রে তারা নিন্দা থেকে মুক্ত। اِلَّا عَلٰۤی اَزْوَاجِهِمْ اَوْ مَا مَلَكَتْ اَیْمَانُهُمْ فَاِنَّهُمْ غَیْرُ مَلُوْمِیْنَۚ﴿٦ ﴾
7 অতঃপর যারা এদের ছাড়া অন্যকে কামনা করে তারাই সীমালঙ্ঘনকারী। সুতরাং কেহ এদেরকে ছাড়া অন্যকে কামনা করলে তারা হবে সীমালংঘনকারী, এদের অতিরিক্ত যারা কামনা করে তারাই সীমালঙ্ঘনকারী। فَمَنِ ابْتَغٰی وَرَآءَ ذٰلِكَ فَاُولٰٓىِٕكَ هُمُ الْعٰدُوْنَۚ﴿٧ ﴾
8 আর যারা নিজদের আমানতসমূহ ও অঙ্গীকারে যত্নবান। এবং যারা আমানত ও প্রতিশ্রুতি রক্ষা করে – আর যারা নিজেদের আমানাত ও ওয়াদা পূর্ণ করে। وَ الَّذِیْنَ هُمْ لِاَمٰنٰتِهِمْ وَ عَهْدِهِمْ رٰعُوْنَۙ﴿٨ ﴾
9 আর যারা নিজদের সালাতসমূহ হিফাযত করে। আর যারা নিজেদের সালাতে যত্নবান – আর যারা নিজেদের নামাযের ব্যাপারে যত্নবান। وَ الَّذِیْنَ هُمْ عَلٰی صَلَوٰتِهِمْ یُحَافِظُوْنَۘ﴿٩ ﴾
10 তারাই হবে ওয়ারিস। তারাই হবে উত্তরাধিকারী। তারাই হল উত্তরাধিকারী। اُولٰٓىِٕكَ هُمُ الْوٰرِثُوْنَۙ﴿١٠ ﴾
11 যারা ফিরদাউসের অধিকারী হবে। তারা সেখানে স্থায়ী হবে। অধিকারী হবে ফিরদাউসের, যাতে তারা বসবাস করবে চিরকাল। তারা ফিরদাউসের উত্তরাধিকার লাভ করবে, যাতে তারা চিরস্থায়ী হবে। الَّذِیْنَ یَرِثُوْنَ الْفِرْدَوْسَ ؕ هُمْ فِیْهَا خٰلِدُوْنَ﴿١١ ﴾
12 আর অবশ্যই আমি মানুষকে মাটির নির্যাস থেকে সৃষ্টি করেছি। আমিতো মানুষকে সৃষ্টি করেছি মাটির উপাদান হতে। আমি মানুষকে মাটির সারাংশ থেকে সৃষ্টি করেছি। وَ لَقَدْ خَلَقْنَا الْاِنْسَانَ مِنْ سُلٰلَةٍ مِّنْ طِیْنٍۚ﴿١٢ ﴾
13 তারপর আমি তাকে শুক্ররূপে সংরক্ষিত আধারে স্থাপন করেছি। অতঃপর আমি ওকে শুক্রবিন্দু রূপে স্থাপন করি এক নিরাপদ আধারে। অতঃপর আমি তাকে শুক্রবিন্দু রূপে এক সংরক্ষিত আধারে স্থাপন করেছি। ثُمَّ جَعَلْنٰهُ نُطْفَةً فِیْ قَرَارٍ مَّكِیْنٍ۪﴿١٣ ﴾
14 তারপর শুক্রকে আমি ‘আলাকায় পরিণত করি। তারপর ‘আলাকাকে গোশতপিন্ডে পরিণত করি। তারপর গোশতপিন্ডকে হাড়ে পরিণত করি। তারপর হাড়কে গোশ্ত দিয়ে আবৃত করি। অতঃপর তাকে অন্য এক সৃষ্টিরূপে গড়ে তুলি। অতএব সর্বোত্তম স্রষ্টা আল্লাহ কত বরকতময়! পরে আমি শুক্রবিন্দুকে পরিণত করি রক্তপিন্ডে, অতঃপর রক্তপিন্ডকে পরিণত করি মাংসপিন্ডে এবং মাংসপিন্ডকে পরিণত করি অস্থিপঞ্জরে; অতঃপর অস্থিপঞ্জরকে ঢেকে দিই মাংস দ্বারা; অবশেষে ওকে গড়ে তুলি অন্য এক সৃষ্টি রূপে; অতএব নিপুণতম স্রষ্টা আল্লাহ কত কল্যাণময়! পরে আমি শুক্রবিন্দুকে পরিণত করি জমাট বাঁধা রক্তে, অতঃপর মাংসপিন্ডকে পরিণত করি হাড্ডিতে, অতঃপর হাড্ডিকে আবৃত করি মাংস দিয়ে, অতঃপর তাকে এক নতুন সৃষ্টিতে উন্নীত করি। কাজেই সর্বোত্তম স্রষ্টা আল্লাহ কতই না মহান! ثُمَّ خَلَقْنَا النُّطْفَةَ عَلَقَةً فَخَلَقْنَا الْعَلَقَةَ مُضْغَةً فَخَلَقْنَا الْمُضْغَةَ عِظٰمًا فَكَسَوْنَا الْعِظٰمَ لَحْمًا ۗ ثُمَّ اَنْشَاْنٰهُ خَلْقًا اٰخَرَ ؕ فَتَبٰرَكَ اللّٰهُ اَحْسَنُ الْخٰلِقِیْنَؕ﴿١٤ ﴾
15 এরপর অবশ্যই তোমরা মরবে। এরপর অবশ্যই তোমরা মৃত্যু বরণ করবে। এরপর তোমরা অবশ্যই মরবে। ثُمَّ اِنَّكُمْ بَعْدَ ذٰلِكَ لَمَیِّتُوْنَؕ﴿١٥ ﴾
16 তারপর কিয়ামতের দিন অবশ্যই তোমরা পুনরুত্থিত হবে। অতঃপর কিয়ামাত দিবসে তোমাদের পুনরুত্থিত করা হবে। তারপর কিয়ামাতের দিন তোমাদেরকে পুনরুত্থিত করা হবে। ثُمَّ اِنَّكُمْ یَوْمَ الْقِیٰمَةِ تُبْعَثُوْنَ﴿١٦ ﴾
17 আর অবশ্যই আমি তোমাদের উপর সাতটি স্তর সৃষ্টি করেছি। আর আমি সৃষ্টি সম্পর্কে উদাসীন ছিলাম না। আমিতো তোমাদের উর্ধ্বে সৃষ্টি করেছি সপ্ত স্তর এবং আমি সৃষ্টি বিষয়ে অসতর্ক নই। আমি তোমাদের উপরে সপ্ত স্তর সৃষ্টি করেছি, আমি (আমার) সৃষ্টির ব্যাপারে অমনোযোগী নই। وَ لَقَدْ خَلَقْنَا فَوْقَكُمْ سَبْعَ طَرَآىِٕقَ ۖۗ وَ مَا كُنَّا عَنِ الْخَلْقِ غٰفِلِیْنَ﴿١٧ ﴾
18 আর আমি আকাশ থেকে পরিমিতভাবে পানি বর্ষণ করেছি। অতঃপর আমি তা যমীনে সংরক্ষণ করেছি। আর অবশ্যই আমি সেটাকে অপসারণ করতেও সক্ষম। এবং আমি আকাশ হতে বারি বর্ষণ করি পরিমিতভাবে, অতঃপর আমি তা মাটিতে সংরক্ষিত করি; আমি ওকে অপসারিত করতেও সক্ষম। আমি আকাশ থেকে পরিমিত বৃষ্টি বর্ষণ করি, অতঃপর আমি তা যমীনে সংরক্ষণ করি আর আমি পানিকে সরিয়ে দিতে অবশ্যই সক্ষম। وَ اَنْزَلْنَا مِنَ السَّمَآءِ مَآءًۢ بِقَدَرٍ فَاَسْكَنّٰهُ فِی الْاَرْضِ ۖۗ وَ اِنَّا عَلٰی ذَهَابٍۭ بِهٖ لَقٰدِرُوْنَۚ﴿١٨ ﴾
19 তারপর আমি তা দ্বারা তোমাদের জন্য খেজুর ও আঙ্গুরের বাগানসমূহ সৃষ্টি করেছি। তাতে তোমাদের জন্য প্রচুর ফল থাকে। আর তা থেকেই তোমরা খাও। অতঃপর আমি ওটা দ্বারা তোমাদের জন্য খেজুর ও আঙ্গুরের বাগান সৃষ্টি করি; এতে তোমাদের জন্য আছে প্রচুর ফল; আর তা হতে তোমরা আহার কর। অতঃপর আমি তা দিয়ে তোমাদের জন্য খেজুর ও আঙ্গুরের বাগান সৃষ্টি করি, ওতে তোমাদের জন্য আছে পর্যাপ্ত ফল, যাথেকে তোমরা খাও (আর সুখভোগ কর)। فَاَنْشَاْنَا لَكُمْ بِهٖ جَنّٰتٍ مِّنْ نَّخِیْلٍ وَّ اَعْنَابٍ ۘ لَكُمْ فِیْهَا فَوَاكِهُ كَثِیْرَةٌ وَّ مِنْهَا تَاْكُلُوْنَۙ﴿١٩ ﴾
20 আর এক বৃক্ষ যা সিনাই পাহাড় হতে উদগত হয়, যা আহারকারীদের জন্য তেল ও তরকারী উৎপন্ন করে। এবং সৃষ্টি করি এক বৃক্ষ যা জন্মে সিনাই পর্বতে, এতে উৎপন্ন হয় ভোজনকারীদের জন্য তেল ও ব্যঞ্জন। আর (আমি সৃষ্টি করি) এক বৃক্ষ যা সিনাই পর্বতে জন্মে, যাথেকে তেল উৎপন্ন হয়, আর ভক্ষণকারীদের জন্য রসনা তৃপ্তিকর। وَ شَجَرَةً تَخْرُجُ مِنْ طُوْرِ سَیْنَآءَ تَنْۢبُتُ بِالدُّهْنِ وَ صِبْغٍ لِّلْاٰكِلِیْنَ﴿٢٠ ﴾
21 আর নিশ্চয় গবাদিপশুর মধ্যে তোমাদের জন্য শিক্ষণীয় বিষয় রয়েছে। তাদের পেটে যা আছে তা থেকে আমি তোমাদেরকে পান করাই। আর এতে তোমাদের জন্য প্রচুর উপকারিতা রয়েছে এবং তা থেকে তোমরা খাও। এবং তোমাদের জন্য অবশ্যই শিক্ষণীয় বিষয় রয়েছে চতুস্পদ জন্তুসমূহের মধ্যে। তোমাদেরকে আমি পান করাই ওদের যা আছে তা থেকে; এবং এতে তোমাদের জন্য রয়েছে প্রচুর উপকারিতা এবং তোমরা উহা হতে আহার কর। আর গবাদি পশুর ভিতরে তোমাদের জন্য আছে অবশ্যই শিক্ষণীয় দৃষ্টান্ত। তাদের পেটে যা আছে তাত্থেকে আমি তোমাদেরকে পান করাই (দুধ) আর ওতে তোমাদের জন্য আছে বহুবিধ উপকার। তোমরা তাথেকে খাও (গোশত)। وَ اِنَّ لَكُمْ فِی الْاَنْعَامِ لَعِبْرَةً ؕ نُسْقِیْكُمْ مِّمَّا فِیْ بُطُوْنِهَا وَ لَكُمْ فِیْهَا مَنَافِعُ كَثِیْرَةٌ وَّ مِنْهَا تَاْكُلُوْنَۙ﴿٢١ ﴾
22 আর এসব পশু ও নৌকায় তোমাদেরকে আরোহণ করানো হয়। এবং তোমরা তাতে এবং নৌযানে আরোহণও করে থাক। আর ওতে আর নৌযানে তোমরা আরোহণ কর। وَ عَلَیْهَا وَ عَلَی الْفُلْكِ تُحْمَلُوْنَ﴿٢٢ ﴾
23 আর অবশ্যই আমি নূহকে তার কওমের নিকট প্রেরণ করেছিলাম। অতঃপর সে বলল, ‘হে আমার কওম, তোমরা আল্লাহর ইবাদাত কর। তিনি ছাড়া তোমাদের কোন ইলাহ নেই। তবুও কি তোমরা তাকওয়া অবলম্বন করবে না’? আমি নূহকে পাঠিয়েছিলাম তার সম্প্রদায়ের নিকট। সে বলেছিলঃ হে আমার সম্প্রদায়! আল্লাহর ইবাদাত কর, তিনি ছাড়া তোমাদের অন্য কোন মা‘বূদ নেই, তবুও কি তোমরা সাবধান হবেনা? আমি নূহকে তাঁর সম্প্রদায়ের কাছে পাঠিয়েছিলাম। সে বলেছিল : ‘হে আমার জাতি! তোমরা আল্লাহর ‘ইবাদাত কর, তিনি ছাড়া তোমাদের কোন ইলাহ নেই, তোমরা কি (তাঁকে) ভয় করবে না?’ وَ لَقَدْ اَرْسَلْنَا نُوْحًا اِلٰی قَوْمِهٖ فَقَالَ یٰقَوْمِ اعْبُدُوا اللّٰهَ مَا لَكُمْ مِّنْ اِلٰهٍ غَیْرُهٗ ؕ اَفَلَا تَتَّقُوْنَ﴿٢٣ ﴾
24 তারপর তার সম্প্রদায়ের নেতৃস্থানীয়গণ, যারা কুফরী করেছিল- তারা বলল, ‘এতো তোমাদের মত একজন মানুষ ছাড়া কিছুই না। সে তোমাদের উপর শ্রেষ্ঠত্ব লাভ করতে চায়। আর আল্লাহ ইচ্ছা করলে অবশ্যই ফেরেশতা নাযিল করতেন। এ কথাতো আমরা আমাদের পূর্ববর্তী পিতৃপুরুষদের সময়েও শুনিনি’। তার সম্প্রদায়ের কাফির প্রধানরা বলেছিলঃ এ লোকতো তোমাদের মতই একজন মানুষ, সে তোমাদের উপর শ্রেষ্ঠত্ব লাভ করতে চাচ্ছে, আল্লাহ ইচ্ছা করলে মালাক/ফেরেশতা পাঠাতেন; আমরাতো আমাদের পূর্ব-পুরুষদের যামানায় এরূপ ঘটেছে বলে শুনিনি। তার সম্প্রদায়ের প্রধানগণ যারা কুফুরী করেছিল- বলেছিল : ‘এতো তোমাদের মত মানুষ ছাড়া কিছুই না, সে তোমাদের উপর প্রাধান্য লাভ করতে চায়, আল্লাহ (কাউকে নবীরূপে পাঠানোর) ইচ্ছে করলে তো তিনি ফেরেশতা পাঠাতেন, আমরা আমাদের পূর্ব পুরুষদের সময়ে এ সব কথা তো শুনিনি।’ فَقَالَ الْمَلَؤُا الَّذِیْنَ كَفَرُوْا مِنْ قَوْمِهٖ مَا هٰذَاۤ اِلَّا بَشَرٌ مِّثْلُكُمْ ۙ یُرِیْدُ اَنْ یَّتَفَضَّلَ عَلَیْكُمْ ؕ وَ لَوْ شَآءَ اللّٰهُ لَاَنْزَلَ مَلٰٓىِٕكَةً ۖۚ مَّا سَمِعْنَا بِهٰذَا فِیْۤ اٰبَآىِٕنَا الْاَوَّلِیْنَۚ﴿٢٤ ﴾
25 ‘সে কেবল এমন এক লোক, যার মধ্যে পাগলামী রয়েছে। অতএব তোমরা তার সম্পর্কে কিছুকাল অপেক্ষা কর’। সেতো এক উম্মাদ ব্যক্তি বৈ নয়; সুতরাং এর সম্পর্কে তোমরা কিছুকাল অপেক্ষা কর। এতো এমন লোক যাকে পাগলামিতে পেয়েছে, কাজেই তার ব্যাপারে তোমরা কিছু কাল অপেক্ষা কর। اِنْ هُوَ اِلَّا رَجُلٌۢ بِهٖ جِنَّةٌ فَتَرَبَّصُوْا بِهٖ حَتّٰی حِیْنٍ﴿٢٥ ﴾
26 নূহ বলল, ‘হে আমার রব, আমাকে সাহায্য করুন। কেননা তারা আমাকে মিথ্যাবাদী বলেছে’। নূহ বলেছিলঃ হে আমার রাব্ব! আমাকে সাহায্য করুন। কারণ তারা আমাকে মিথ্যাবাদী বলেছে। নূহ বলল : ‘হে আমার প্রতিপালক! তুমি আমাকে সাহায্য কর, কারণ তারা আমাকে মিথ্যেবাদী বলছে।’ قَالَ رَبِّ انْصُرْنِیْ بِمَا كَذَّبُوْنِ﴿٢٦ ﴾
27 তারপর আমি তার কাছে ওহী প্রেরণ করলাম যে, তুমি আমার চোখের সামনে ও আমার ওহী অনুযায়ী নৌকা তৈরী কর। তারপর যখন আমার আদেশ আসবে এবং চুলা (পানিতে) উথলে উঠবে তখন প্রত্যেক জীবের এক জোড়া ও তোমার পরিবারবর্গকে নৌযানে তুলে নিও; তবে তাদের মধ্যে যাদের ব্যাপারে পূর্বে সিদ্ধান্ত হয়ে আছে তারা ছাড়া। আর যারা যুলম করেছে তাদের ব্যাপারে তুমি আমাকে সম্বোধন করো না। নিশ্চয় তারা নিমজ্জিত হবে। অতঃপর আমি তার কাছে অহী করলামঃ তুমি আমার তত্ত্বাবধানে ও আমার অহী অনুযায়ী নৌযান নির্মাণ কর, অতঃপর যখন আমার আদেশ আসবে ও উনূন উথলে উঠবে তখন উঠিয়ে নিবে প্রত্যেক জীবের এক এক জোড়া স্ত্রী ও পুরুষ এবং তোমার পরিবার-পরিজনকে, তাদের মধ্যে যাদের বিরুদ্ধে পূর্বে সিদ্ধান্ত হয়েছে তাদের সম্পর্কে তুমি আমাকে কিছু বলনা, তারাতো নিমজ্জিত হবে। তখন আমি তার কাছে ওয়াহী পাঠালাম- আমার দৃষ্টির সম্মুখে আমার নির্দেশ অনুযায়ী নৌযান তৈরি কর, অতঃপর যখন আমার নির্দেশ আসবে আর উনুন (পানিতে) উথলে উঠবে, তখন নৌকায় তুলে নাও প্রত্যেক জীবের এক এক জোড়া আর তোমার পরিবারবর্গকে, তাদের মধ্যে যাদের বিপক্ষে পূর্বে সিদ্ধান্ত হয়ে গেছে তাদেরকে বাদ দিয়ে। আর অন্যায়কারীদের পক্ষে আমার নিকট আবেদন করো না, তারা (বানে) ডুববেই। فَاَوْحَیْنَاۤ اِلَیْهِ اَنِ اصْنَعِ الْفُلْكَ بِاَعْیُنِنَا وَ وَحْیِنَا فَاِذَا جَآءَ اَمْرُنَا وَ فَارَ التَّنُّوْرُ ۙ فَاسْلُكْ فِیْهَا مِنْ كُلٍّ زَوْجَیْنِ اثْنَیْنِ وَ اَهْلَكَ اِلَّا مَنْ سَبَقَ عَلَیْهِ الْقَوْلُ مِنْهُمْ ۚ وَ لَا تُخَاطِبْنِیْ فِی الَّذِیْنَ ظَلَمُوْا ۚ اِنَّهُمْ مُّغْرَقُوْنَ﴿٢٧ ﴾
28 অতঃপর যখন তুমি ও তোমার সঙ্গীরা নৌযানে আরোহণ করবে তখন বলবে, ‘সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি আমাদেরকে যালিম কওম থেকে মুক্তি দিয়েছেন’। যখন তুমি ও তোমার সঙ্গীরা নৌযানে আরোহণ করবে তখন বলঃ সমস্ত প্রশংসা ঐ আল্লাহরই যিনি আমাদের উদ্ধার করেছেন যালিম সম্প্রদায় হতে। যখন তুমি নৌযানে উঠে যাবে, তুমি আর তোমার সঙ্গীরা- তখন বলবে : ‘সকল প্রশংসা আল্লাহরই যিনি আমাদেরকে যালিম সম্প্রদায় থেকে উদ্ধার করেছেন।’ فَاِذَا اسْتَوَیْتَ اَنْتَ وَ مَنْ مَّعَكَ عَلَی الْفُلْكِ فَقُلِ الْحَمْدُ لِلّٰهِ الَّذِیْ نَجّٰىنَا مِنَ الْقَوْمِ الظّٰلِمِیْنَ﴿٢٨ ﴾
29 তুমি আরও বলবে, ‘হে আমার রব, আমাকে বরকতময় অবতরণস্থলে অবতরণ করান। আর আপনিই সর্বশ্রেষ্ঠ অবতরণকারী’। আর বলঃ হে আমার রাব্ব! আমাকে এমনভাবে অবতরণ করিয়ে নিন যা হবে কল্যাণকর; আর আপনিই শ্রেষ্ঠ অবতরণকারী। আর বলো : হে আমার প্রতিপালক! আমাকে কল্যাণকরভাবে নামিয়ে দাও, নামানোতে তুমিই সর্বোত্তম। وَ قُلْ رَّبِّ اَنْزِلْنِیْ مُنْزَلًا مُّبٰرَكًا وَّ اَنْتَ خَیْرُ الْمُنْزِلِیْنَ﴿٢٩ ﴾
30 নিশ্চয় এর মধ্যে অনেক নিদর্শন রয়েছে। আর নিশ্চয় আমি পরীক্ষাকারী ছিলাম। এতে অবশ্যই নিদর্শন রয়েছে; আমিতো তাদেরকে পরীক্ষা করেছিলাম। এতে অবশ্যই নিদর্শন রয়েছে (মানুষের বুঝার জন্য), আমি (মানুষকে) পরীক্ষা করি। اِنَّ فِیْ ذٰلِكَ لَاٰیٰتٍ وَّ اِنْ كُنَّا لَمُبْتَلِیْنَ﴿٣٠ ﴾
31 তারপর তাদের পরে আমি অন্য প্রজন্ম সৃষ্টি করেছি। অতঃপর তাদের পর আমি অন্য এক সম্প্রদায় সৃষ্টি করেছিলাম। অতঃপর তাদের পর আরেক মানব বংশ (‘আদ সম্প্রদায়কে) সৃষ্টি করেছিলাম। ثُمَّ اَنْشَاْنَا مِنْۢ بَعْدِهِمْ قَرْنًا اٰخَرِیْنَۚ﴿٣١ ﴾
32 অতঃপর তাদের মধ্যে তাদেরই একজনকে আমি রাসূলরূপে প্রেরণ করেছিলাম যে, তোমরা আল্লাহর ইবাদাত করবে, তিনি ছাড়া তোমাদের অন্য কোন (সত্য) ইলাহ নেই। তবুও কি তোমরা তাকওয়া অবলম্বন করবে না। এরপর তাদেরই একজনকে তাদের নিকট রাসূল করে পাঠিয়েছিলাম; সে বলেছিলঃ তোমরা আল্লাহর ইবাদাত কর, তিনি ছাড়া তোমাদের অন্য কোন মা‘বূদ নেই, তবুও কি তোমরা সাবধান হবেনা? আর তাদের মাঝে তাদেরই একজনকে রসূল করে পাঠিয়েছিলাম এই ব’লে যে, তোমরা আল্লাহর ‘ইবাদাত কর, তিনি ছাড়া তোমাদের কোন ইলাহ নেই, তবুও কি তোমরা (তাঁকে) ভয় করবে না? فَاَرْسَلْنَا فِیْهِمْ رَسُوْلًا مِّنْهُمْ اَنِ اعْبُدُوا اللّٰهَ مَا لَكُمْ مِّنْ اِلٰهٍ غَیْرُهٗ ؕ اَفَلَا تَتَّقُوْنَ﴿٣٢ ﴾
33 আর তার সম্প্রদায়ের নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিগণ যারা কুফরী করেছে, আখেরাতের সাক্ষাতকে অস্বীকার করেছে এবং আমি দুনিয়ার জীবনে যাদের ভোগ বিলাসিতা দিয়েছিলাম, তারা বলল, ‘সে কেবল তোমাদের মত একজন মানুষ, সে তাই খায় যা থেকে তোমরা খাও এবং সে তাই পান করে যা থেকে তোমরা পান কর’। তার সম্প্রদায়ের প্রধানরা যারা কুফরী করেছিল ও আখিরাতের সাক্ষাতকে অস্বীকার করেছিল এবং যাদেরকে আমি দিয়েছিলাম পার্থিব জীবনে প্রচুর ভোগ সম্ভার, তারা বলেছিলঃ এতো তোমাদেরই মত একজন মানুষ; তোমরা যা আহার কর সেতো তা’ই আহার করে এবং তোমরা যা পান কর সেও তা’ই পান করে। কিন্তু তার সম্প্রদায়ের প্রধানগণ- যারা কুফুরী করেছিল, আর আখিরাতের সাক্ষাৎকে মিথ্যা বলে প্রত্যাখ্যান করেছিল, যাদেরকে আমি পার্থিব জীবনে সুখ স্বাচ্ছন্দ্য দিয়েছিলাম- বলেছিল : ‘সে তো তোমাদের মত মানুষ ছাড়া কিছু নয়। তোমরা যা খাও, সেও তাই খায়, তোমরা যা পান কর, সেও তাই পান করে। وَ قَالَ الْمَلَاُ مِنْ قَوْمِهِ الَّذِیْنَ كَفَرُوْا وَ كَذَّبُوْا بِلِقَآءِ الْاٰخِرَةِ وَ اَتْرَفْنٰهُمْ فِی الْحَیٰوةِ الدُّنْیَا ۙ مَا هٰذَاۤ اِلَّا بَشَرٌ مِّثْلُكُمْ ۙ یَاْكُلُ مِمَّا تَاْكُلُوْنَ مِنْهُ وَ یَشْرَبُ مِمَّا تَشْرَبُوْنَ۪ۙ﴿٣٣ ﴾
34 ‘আর যদি তোমরা তোমাদের মতই একজন মানুষের আনুগত্য কর, তবে তোমরা অবশ্যই ক্ষতিগ্রস্ত হবে’। যদি তোমরা তোমাদেরই মত একজন মানুষের আনুগত্য কর তাহলে তোমরা অবশ্যই ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তোমরা যদি তোমাদের মতই একজন মানুষের আনুগত্য কর, তাহলে তোমরা অবশ্যই ক্ষতিগ্রস্ত হবে। وَ لَىِٕنْ اَطَعْتُمْ بَشَرًا مِّثْلَكُمْ اِنَّكُمْ اِذًا لَّخٰسِرُوْنَۙ﴿٣٤ ﴾
35 ‘সে কি তোমাদের ওয়াদা দেয় যে, তোমরা যখন মারা যাবে এবং তোমরা মাটি ও হাড়ে পরিণত হয়ে যাবে। তোমাদেরকে অবশ্যই বের করা হবে?’ সে কি তোমাদেরকে এই প্রতিশ্রুতিই দেয় যে, তোমাদের মৃত্যু হলে এবং তোমরা মাটি ও অস্থিতে পরিণত হলেও তোমাদেরকে পুনরুত্থিত করা হবে? সে কি তোমাদের সঙ্গে এই ওয়া‘দা করে যে, যখন তোমরা মরে যাবে আর মাটি ও হাড্ডিতে পরিণত হবে তখন তোমাদেরকে আবার জীবিত করা হবে। اَیَعِدُكُمْ اَنَّكُمْ اِذَا مِتُّمْ وَ كُنْتُمْ تُرَابًا وَّ عِظَامًا اَنَّكُمْ مُّخْرَجُوْنَ۪ۙ﴿٣٥ ﴾
36 অনেক দূর, তোমাদের যে ওয়াদা দেয়া হয়েছে তা অনেক দূর। অসম্ভব, তোমাদেরকে যে বিষয়ে প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়েছে তা অসম্ভব! দূরে ওটা, বহু দূরে যার ওয়া‘দা তোমাদেরকে দেয়া হচ্ছে। هَیْهَاتَ هَیْهَاتَ لِمَا تُوْعَدُوْنَ۪ۙ﴿٣٦ ﴾
37 ‘এ শুধু আমাদের দুনিয়ার জীবন। আমরা মরে যাই এবং বেঁচে থাকি। আর আমরা পুনরুত্থিত হবার নই’। একমাত্র পার্থিব জীবনই আমাদের জীবন, আমরা মরি বাঁচি এখানেই এবং আমরা পুনরুত্থিত হবনা। আমাদের এ দুনিয়ার জীবন ছাড়া কিছুই নেই, এখানেই আমরা মরি বাঁচি, আমাদেরকে কক্ষনো আবার উঠানো হবে না। اِنْ هِیَ اِلَّا حَیَاتُنَا الدُّنْیَا نَمُوْتُ وَ نَحْیَا وَ مَا نَحْنُ بِمَبْعُوْثِیْنَ۪ۙ﴿٣٧ ﴾
38 ‘সে শুধু এক ব্যক্তি যে আল্লাহর উপর মিথ্যা আরোপ করেছে; আর আমরা তাঁর প্রতি ঈমান আনয়নকারী নই’। সে তো এমন ব্যক্তি যে আল্লাহ সম্বন্ধে মিথ্যা উদ্ভাবন করেছে এবং আমরা তাকে বিশ্বাস করার নই। সে তো এমন এক ব্যক্তি যে আল্লাহ সম্পর্কে মিথ্যে বানিয়ে নিয়েছে। আমরা তাকে বিশ্বাস করি না।’ اِنْ هُوَ اِلَّا رَجُلُ ِ۟افْتَرٰی عَلَی اللّٰهِ كَذِبًا وَّ مَا نَحْنُ لَهٗ بِمُؤْمِنِیْنَ﴿٣٨ ﴾
39 সে বলল, ‘হে আমার রব, আমাকে সাহায্য করুন, কারণ তারা আমাকে মিথ্যাবাদী বলেছে’। সে বললঃ হে আমার রাব্ব! আমাকে সাহায্য করুন; কারণ তারা আমাকে মিথ্যাবাদী বলছে। (নবী) বলল : ‘হে আমার প্রতিপালক! তারা আমাকে মিথ্যেবাদী ব’লে দোষারোপ করছে- এ ব্যাপারে তুমি আমাকে সাহায্য কর।’ قَالَ رَبِّ انْصُرْنِیْ بِمَا كَذَّبُوْنِ﴿٣٩ ﴾
40 আল্লাহ বললেন, ‘কিছু সময়ের মধ্যেই তারা নিশ্চিতরূপে অনুতপ্ত হবে’। (আল্লাহ) বললেনঃ অচিরেই তারা অনুতপ্ত হবেই। আল্লাহ বললেন, ‘অল্প সময়ের মধ্যেই তারা অনুতপ্ত হবে।’ قَالَ عَمَّا قَلِیْلٍ لَّیُصْبِحُنَّ نٰدِمِیْنَۚ﴿٤٠ ﴾
41 অতঃপর যথার্থই তাদেরকে এক বিকট আওয়াজ পেয়ে বসল, তারপর আমি তাদেরকে খড়কুটায় পরিণত করলাম। সুতরাং যালিম কওমের জন্য ধ্বংস। অতঃপর সত্য সত্যই এক বিকট শব্দ তাদেরকে আঘাত করল এবং আমি তাদেরকে তরঙ্গ তাড়িত আবর্জনা সদৃশ করে দিলাম; সুতরাং ধ্বংস হয়ে গেল যালিম সম্প্রদায়। অতঃপর সত্যি সত্যিই এক ভয়ঙ্কর শব্দ তাদেরকে আঘাত করল আর তাদেরকে ভাগাড়ে পরিণত করলাম, কাজেই ধ্বংস হোক পাপী সম্প্রদায়। فَاَخَذَتْهُمُ الصَّیْحَةُ بِالْحَقِّ فَجَعَلْنٰهُمْ غُثَآءً ۚ فَبُعْدًا لِّلْقَوْمِ الظّٰلِمِیْنَ﴿٤١ ﴾
42 তারপর তাদের পরে আমি অন্য প্রজন্ম সৃষ্টি করেছি। অতঃপর তাদের পরে আমি বহু জাতি সৃষ্টি করেছি। অতঃপর তাদের পরে আমি বহু জাতি সৃষ্টি করেছিলাম। ثُمَّ اَنْشَاْنَا مِنْۢ بَعْدِهِمْ قُرُوْنًا اٰخَرِیْنَؕ﴿٤٢ ﴾
43 কোন জাতি থেকে তার নির্দিষ্ট মেয়াদ এগিয়ে আসে না এবং বিলম্বিতও হয় না। কোন জাতিই তার নির্ধারিত কালকে ত্বরান্বিত করতে পারেনা, আর না পারে বিলম্বিত করতে। কোন জাতিই তাদের নির্দিষ্ট কালকে অগ্র পশ্চাৎ করতে পারে না। مَا تَسْبِقُ مِنْ اُمَّةٍ اَجَلَهَا وَ مَا یَسْتَاْخِرُوْنَؕ﴿٤٣ ﴾
44 এরপর আমি আমাদের রাসূলদেরকে ধারাবাহিকভাবে প্রেরণ করেছি, যখনই কোন জাতির কাছে তাদের রাসূল আসত, তখনই তারা তাকে অস্বীকার করত। অতঃপর আমি এদের এককে অপরের অনুসরণে ধ্বংস করে দিয়েছি এবং তাদেরকে কাহিনীতে পরিণত করেছি। সুতরাং ধ্বংস হোক সে কওম যারা ঈমান আনে না। অতঃপর আমি একের পর এক আমার রাসূল প্রেরণ করেছি। যখনই কোন জাতির নিকট তাদের রাসূল এসেছে তখনই তারা তাকে মিথ্যাবাদী বলেছে। অতঃপর আমি তাদের একের পর এককে ধ্বংস করলাম; আমি তাদেরকে কাহিনীর বিষয় করেছি; সুতরাং ধ্বংস হোক অবিশ্বাসীরা! এরপর একাদিক্রমে আমি আমার রসূলদেরকে পাঠিয়েছি। যখনই কোন জাতির কাছে তাদের রসূল এসেছে, তারা তাকে মিথ্যে বলে প্রত্যাখ্যান করেছে, অতঃপর শাস্তি প্রাপ্তির ব্যাপারে তারা একে অন্যের অনুসরণ করেছে, অতঃপর তাদেরকে কাহিনী বানিয়ে দিলাম। কাজেই যে জাতি ঈমান আনে না তারা ধ্বংস হোক! ثُمَّ اَرْسَلْنَا رُسُلَنَا تَتْرَا ؕ كُلَّمَا جَآءَ اُمَّةً رَّسُوْلُهَا كَذَّبُوْهُ فَاَتْبَعْنَا بَعْضَهُمْ بَعْضًا وَّ جَعَلْنٰهُمْ اَحَادِیْثَ ۚ فَبُعْدًا لِّقَوْمٍ لَّا یُؤْمِنُوْنَ﴿٤٤ ﴾
45 তারপর আমি মূসা ও তার ভাই হারূনকে আমার নিদর্শনাবলী ও সুস্পষ্ট প্রমাণসহ প্রেরণ করেছি। অতঃপর আমি আমার নিদর্শন ও সুস্পষ্ট প্রমাণসহ মূসা ও তার ভাই হারূনকে পাঠালাম – অতঃপর আমি মূসা ও তার ভাই হারূনকে পাঠিয়েছিলাম নিদর্শন আর সুস্পষ্ট প্রমাণ সহকারে। ثُمَّ اَرْسَلْنَا مُوْسٰی وَ اَخَاهُ هٰرُوْنَ ۙ۬ بِاٰیٰتِنَا وَ سُلْطٰنٍ مُّبِیْنٍۙ﴿٤٥ ﴾
46 ফির‘আউন ও তার পারিষদবর্গের কাছে; কিন্তু তারা অহঙ্কার করল এবং তারা ছিল উদ্ধত কওম। ফির‘আউন ও তার পরিষদবর্গের নিকট; কিন্তু তারা অহঙ্কার করল; তারা ছিল উদ্ধত সম্প্রদায়। ফেরাউন ও তার প্রধানগণের কাছে। কিন্তু তারা অহংকার করল, তারা ছিল এক উদ্ধত জাতি। اِلٰی فِرْعَوْنَ وَ مَلَاۡىِٕهٖ فَاسْتَكْبَرُوْا وَ كَانُوْا قَوْمًا عَالِیْنَۚ﴿٤٦ ﴾
47 অতঃপর তারা বলল, আমরা কি আমাদের মতই দু’জন মানুষের প্রতি ঈমান আনব অথচ তাদের কওম আমাদের সেবাদাস। তারা বললঃ আমরা কি এমন দু’ ব্যক্তিতে বিশ্বাস স্থাপন করব যারা আমাদেরই মত এবং যাদের সম্প্রদায় আমাদের দাসত্ব করে? তারা বলল, ‘আমরা কি আমাদেরই মত দু’জন লোকের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করব, অথচ তাদের সম্প্রদায় আমাদের দাস?’ فَقَالُوْۤا اَنُؤْمِنُ لِبَشَرَیْنِ مِثْلِنَا وَ قَوْمُهُمَا لَنَا عٰبِدُوْنَۚ﴿٤٧ ﴾
48 অতএব তারা তাদের উভয়কে মিথ্যাবাদী বলল। ফলে তারা ধ্বংসপ্রাপ্তদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে গেল। অতঃপর তারা তাদেরকে মিথ্যাবাদী বলল। ফলে তারা ধ্বংসপ্রাপ্তদের শামিল হল। তারা তাদের দু’জনকে মিথ্যে বলে প্রত্যাখ্যান করল, ফলে তারা ধ্বংসপ্রাপ্তদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে গেল। فَكَذَّبُوْهُمَا فَكَانُوْا مِنَ الْمُهْلَكِیْنَ﴿٤٨ ﴾
49 আর অবশ্যই আমি মূসাকে কিতাব প্রদান করেছিলাম যাতে তারা হিদায়াতপ্রাপ্ত হয়। আমি মূসাকে কিতাব দিয়েছিলাম যাতে তারা সৎপথ প্রাপ্ত হয়। আমি মূসাকে কিতাব দিয়েছিলাম যাতে তারা সঠিক পথ পেতে পারে। وَ لَقَدْ اٰتَیْنَا مُوْسَی الْكِتٰبَ لَعَلَّهُمْ یَهْتَدُوْنَ﴿٤٩ ﴾
50 আর আমি মারইয়াম-পুত্র ও তার মাকে নিদর্শন বানালাম এবং তাদেরকে আবাসযোগ্য ও ঝর্নাবিশিষ্ট এক উঁচু ভূমিতে আশ্রয় দিলাম। এবং আমি মারইয়াম তনয় ও তার জননীকে করেছিলাম এক নিদর্শন, তাদেরকে আশ্রয় দিয়েছিলাম এক নিরাপদ ও প্রস্রবন বিশিষ্ট উচ্চ ভূমিতে। আমি মারইয়াম-পুত্র আর তার মাকে নিদর্শন করেছিলাম আর তাদেরকে স্বস্তি নিরাপত্তা ও ঝর্ণা বিশিষ্ট উচ্চ স্থানে আশ্রয় দিয়েছিলাম। وَ جَعَلْنَا ابْنَ مَرْیَمَ وَ اُمَّهٗۤ اٰیَةً وَّ اٰوَیْنٰهُمَاۤ اِلٰی رَبْوَةٍ ذَاتِ قَرَارٍ وَّ مَعِیْنٍ﴿٥٠ ﴾
51 ‘হে রাসূলগণ, তোমরা পবিত্র ও ভাল বস্ত্ত থেকে খাও এবং সৎকর্ম কর। নিশ্চয় তোমরা যা কর সে সর্ম্পকে আমি সম্যক জ্ঞাত। হে রাসূলগণ! তোমরা পবিত্র বস্তু হতে আহার কর ও সৎ কাজ কর; তোমরা যা কর সেই সম্বন্ধে আমি সবিশেষ অবগত। হে রসূলগণ! পবিত্র বস্তু আহার কর, আর সৎ কাজ কর, তোমরা যা কর সে সম্পর্কে আমি পূর্ণরূপে অবগত। یٰۤاَیُّهَا الرُّسُلُ كُلُوْا مِنَ الطَّیِّبٰتِ وَ اعْمَلُوْا صَالِحًا ؕ اِنِّیْ بِمَا تَعْمَلُوْنَ عَلِیْمٌؕ﴿٥١ ﴾
52 তোমাদের এই দীন তো একই দীন। আর আমি তোমাদের রব, অতএব তোমরা আমাকে ভয় কর। এবং তোমাদের এই যে জাতি এটাতো একই জাতি এবং আমিই তোমাদের রাব্ব; অতএব আমাকে ভয় কর। তোমাদের এসব উম্মাত তো একই উম্মাত, আর আমিই তোমাদের প্রতিপালক, কাজেই আমাকেই ভয় কর। وَ اِنَّ هٰذِهٖۤ اُمَّتُكُمْ اُمَّةً وَّاحِدَةً وَّ اَنَا رَبُّكُمْ فَاتَّقُوْنِ﴿٥٢ ﴾
53 তারপর লোকেরা তাদের মাঝে তাদের দীনকে বহুভাগে বিভক্ত করেছে। প্রত্যেক দলই তাদের কাছে যা আছে তা নিয়ে উৎফুল্ল। কিন্তু মানুষ নিজেদের মধ্যে তাদের দীনকে বহুধা বিভক্ত করেছে; প্রত্যেক দলই তাদের নিকট যা আছে তা নিয়েই সন্তুষ্ট। কিন্তু মানুষ তাদের কর্তব্য কর্মকে বহুধা বিভক্ত করে ফেলেছে, আর প্রত্যেক দলই তাদের কাছে যা আছে তাই নিয়ে আনন্দিত। فَتَقَطَّعُوْۤا اَمْرَهُمْ بَیْنَهُمْ زُبُرًا ؕ كُلُّ حِزْبٍۭ بِمَا لَدَیْهِمْ فَرِحُوْنَ﴿٥٣ ﴾
54 সুতরাং কিছু সময়ের জন্য তাদেরকে স্বীয় বিভ্রান্তিতে থাকতে দাও। সুতরাং কিছুকালের জন্য তাদেরকে স্বীয় বিভ্রান্তিতে থাকতে দাও। কাজেই তাদেরকে কিছুকাল তাদের অজ্ঞানতাপ্রসূত বিভ্রান্তিতে থাকতে দাও। فَذَرْهُمْ فِیْ غَمْرَتِهِمْ حَتّٰی حِیْنٍ﴿٥٤ ﴾
55 তারা কি মনে করছে যে, ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি থেকে যা আমি তাদেরকে দেই। তারা কি মনে করে যে, আমি তাদেরকে সাহায্য স্বরূপ যে ধনৈশ্বর্য ও সন্তান-সন্ততি দান করি তদ্দারা – তারা কি ভেবে নিয়েছে, আমি যে তাদেরকে ধনৈশ্বর্য ও সন্তানাদির প্রাচুর্য দিয়ে সাহায্য করেছি اَیَحْسَبُوْنَ اَنَّمَا نُمِدُّهُمْ بِهٖ مِنْ مَّالٍ وَّ بَنِیْنَۙ﴿٥٥ ﴾
56 (তা দ্বারা) আমি তাদের কল্যাণে দ্রুত এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছি; বরং তারা উপলদ্ধি করতে পারছে না। তাদের জন্য সর্ব প্রকার মঙ্গল ত্বরান্বিত করছি? না, তারা বুঝেনা – এর দ্বারা কি তাদের কল্যাণ ত্বরান্বিত করছি? না, তারা বুঝে না। نُسَارِعُ لَهُمْ فِی الْخَیْرٰتِ ؕ بَلْ لَّا یَشْعُرُوْنَ﴿٥٦ ﴾
57 নিশ্চয় যারা তাদের রবের ভয়ে ভীত-সন্ত্রস্ত, যারা তাদের রবের ভয়ে সন্ত্রস্ত – নিশ্চয় যারা তাদের প্রতিপালকের ভয়ে ভীত-সন্ত্রস্ত হয়ে থাকে, اِنَّ الَّذِیْنَ هُمْ مِّنْ خَشْیَةِ رَبِّهِمْ مُّشْفِقُوْنَۙ﴿٥٧ ﴾
58 আর যারা তাদের রবের আয়াতসমূহে ঈমান আনে। যারা তাদের রবের নিদর্শনাবলীতে ঈমান আনে – যারা তাদের প্রতিপালকের নিদর্শনাবলীতে বিশ্বাস স্থাপন করে, وَ الَّذِیْنَ هُمْ بِاٰیٰتِ رَبِّهِمْ یُؤْمِنُوْنَۙ﴿٥٨ ﴾
59 আর যারা তাদের রবের সাথে শিরক করে না, যারা তাদের রবের সাথে শরীক করেনা। যারা তাদের প্রতিপালকের সঙ্গে শরীক করে না, وَ الَّذِیْنَ هُمْ بِرَبِّهِمْ لَا یُشْرِكُوْنَۙ﴿٥٩ ﴾
60 আর যারা যা দান করে তা ভীত-কম্পিত হৃদয়ে করে থাকে এজন্য যে, তারা তাদের রবের দিকে প্রত্যাবর্তনশীল। আর যারা তাদের রবের নিকট প্রত্যাবর্তন করবে, এই বিশ্বাসে তাদের যা দান করার তা দান করে ভীত-কম্পিত হৃদয়ে। যারা তাদের দানের বস্তু দান করে আর তাদের অন্তর ভীত শংকিত থাকে এ জন্যে যে, তাদেরকে তাদের প্রতিপালকের কাছে ফিরে যেতে হবে। وَ الَّذِیْنَ یُؤْتُوْنَ مَاۤ اٰتَوْا وَّ قُلُوْبُهُمْ وَجِلَةٌ اَنَّهُمْ اِلٰی رَبِّهِمْ رٰجِعُوْنَۙ﴿٦٠ ﴾
61 তারাই কল্যাণসমূহের দিকে দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে। এবং তাতে তারা অগ্রগামী। তারাই দ্রুত সম্পাদন করে কল্যাণকর কাজ এবং তারা তাতে অগ্রগামী হয়। এরাই কল্যাণকাজে দ্রুতগতি, আর তাতে তারা অগ্রগামী। اُولٰٓىِٕكَ یُسٰرِعُوْنَ فِی الْخَیْرٰتِ وَ هُمْ لَهَا سٰبِقُوْنَ﴿٦١ ﴾
62 আর আমি কাউকে তার সাধ্যের বাইরে কোন দায়িত্ব দেই না। আমার নিকট আছে এমন কিতাব যা সত্য কথা বলে এবং তারা অত্যাচারিত হবে না। আমি কেহকেও তার সাধ্যাতীত দায়িত্ব অর্পন করিনা এবং আমার নিকট আছে এক কিতাব যা সত্য ব্যক্ত করে এবং তাদের প্রতি যুল্‌ম করা হবেনা। আমি কাউকে তার সাধ্যাতীত কষ্ট দেই না, আর আমার কাছে এমন এক কিতাব আছে যা সত্য বলে, আর তাদের প্রতি মোটেই যুলম করা হবে না। وَ لَا نُكَلِّفُ نَفْسًا اِلَّا وُسْعَهَا وَ لَدَیْنَا كِتٰبٌ یَّنْطِقُ بِالْحَقِّ وَ هُمْ لَا یُظْلَمُوْنَ﴿٦٢ ﴾
63 বরং তাদের অন্তরসমূহ এ বিষয়ে বিভ্রান্তিতে রয়েছে। এছাড়া তাদের আরও আনেক আমল রয়েছে, যা তারা করছে। বরং এ বিষয়ে তাদের অন্তর অজ্ঞানতায় আচ্ছন্ন, এতদ্ব্যতীত আরও কাজ আছে যা তারা করে থাকে। বরং তাদের অন্তর এ বিষয়ে অজ্ঞানতায় আচ্ছন্ন হয়ে আছে, এছাড়া তাদের আরো (মন্দ) কাজ আছে যা তারা করতে থাকবে। بَلْ قُلُوْبُهُمْ فِیْ غَمْرَةٍ مِّنْ هٰذَا وَ لَهُمْ اَعْمَالٌ مِّنْ دُوْنِ ذٰلِكَ هُمْ لَهَا عٰمِلُوْنَ﴿٦٣ ﴾
64 অবশেষে যখন আমি তাদের ভোগবিলাসপূর্ণ জীবনধারীদের আযাব দ্বারা পাকড়াও করব, তখন তারা সজোরে আর্তনাদ করে উঠবে। আর আমি যখন তাদের ঐশ্বর্যশালী ব্যক্তিদেরকে শাস্তি দ্বারা ধৃত করি তখনই তারা আর্তনাদ করে উঠে। অবশেষে আমি যখন তাদের (অর্থাৎ কাফিরদের) মধ্যে বিত্ত সম্পদশালীদেরকে শাস্তি দ্বারা পাকড়াও করব, তখন তারা চিৎকার জুড়ে দেবে। حَتّٰۤی اِذَاۤ اَخَذْنَا مُتْرَفِیْهِمْ بِالْعَذَابِ اِذَا هُمْ یَجْـَٔرُوْنَؕ﴿٦٤ ﴾
65 আজ তোমরা সজোরে আর্তনাদ করো না। নিশ্চয় তোমরা আমার পক্ষ থেকে সাহায্যপ্রাপ্ত হবে না। তাদেরকে বলা হবেঃ আজ আর্তনাদ করনা, তোমরা আমার সাহায্য পাবেনা। (বলা হবে) ‘আজ চিৎকার করো না, আমার কাছ থেকে তোমরা সাহায্য পাবে না।’ لَا تَجْـَٔرُوا الْیَوْمَ ۫ اِنَّكُمْ مِّنَّا لَا تُنْصَرُوْنَ﴿٦٥ ﴾
66 আমার আয়াতসমূহ তোমাদের সামনে অবশ্যই তিলাওয়াত করা হত, তারপর তোমরা তোমাদের পেছন ফিরে চলে যেতে, আমার আয়াত তোমাদের কাছে পাঠ করা হত, কিন্তু তোমরা পিছন ফিরে সরে পড়তে – আমার আয়াত তোমাদের কাছে পড়ে শোনানো হত, কিন্তু তোমরা গোড়ালির ভরে পিছনে ঘুরে দাঁড়াতে। قَدْ كَانَتْ اٰیٰتِیْ تُتْلٰی عَلَیْكُمْ فَكُنْتُمْ عَلٰۤی اَعْقَابِكُمْ تَنْكِصُوْنَۙ﴿٦٦ ﴾
67 এর উপর অহঙ্কারবশে, রাত জেগে অর্থহীন গল্প-গুজব করতে। দম্ভ ভরে, এ বিষয়ে অর্থহীন গল্প গুজব করতে। অহংকারবশতঃ (কুরআন) সম্পর্কে অর্থহীন কথা বলতে যেমন কেউ রাতে গল্প বলে। مُسْتَكْبِرِیْنَ ۖۗ بِهٖ سٰمِرًا تَهْجُرُوْنَ﴿٦٧ ﴾
68 তারা কি এ বাণী সম্পর্কে চিন্তা-ভাবনা করে না? নাকি তাদের কাছে এমন কিছু এসেছে যা তাদের পূর্ববর্তী পিতৃপুরুষদের কাছে আসেনি? তাহলে কি তারা এই বাণী অনুধাবন করেনা? অথচ তাদের নিকট কি এমন কিছু এসেছে যা তাদের পূর্ব-পুরুষদের নিকট আসেনি? তাহলে তারা কি (আল্লাহর) এ বাণী সম্পর্কে চিন্তা-ভাবনা করে না? কিংবা তাদের কাছে এমন কিছু (নতুন বস্তু) এসেছে যা তাদের পূর্বপুরুষদের কাছে আসেনি? اَفَلَمْ یَدَّبَّرُوا الْقَوْلَ اَمْ جَآءَهُمْ مَّا لَمْ یَاْتِ اٰبَآءَهُمُ الْاَوَّلِیْنَؗ﴿٦٨ ﴾
69 নাকি তারা তাদের রাসূলকে চিনতে পারেনি, ফলে তারা তাকে অস্বীকার করছে? অথচ তারা কি তাদের রাসূলকে চিনেনা বলে তাকে অস্বীকার করে? কিংবা তারা কি তাদের রসূলকে চিনতে পারে না এজন্য তারা তাকে অস্বীকার করছে اَمْ لَمْ یَعْرِفُوْا رَسُوْلَهُمْ فَهُمْ لَهٗ مُنْكِرُوْنَؗ﴿٦٩ ﴾
70 নাকি তারা বলছে যে, তার মধ্যে কোন পাগলামী রয়েছে? না, বরং সে তাদের কাছে সত্য নিয়েই এসেছিল। আর তাদের অধিকাংশ লোকই সত্যকে অপছন্দকারী। অথবা তারা কি বলে যে, সে উন্মাদ? বস্তুতঃ সে তাদের নিকট সত্য এনেছে এবং তাদের অধিকাংশ সত্যকে অপছন্দ করে। অথবা তারা কি বলে যে, সে উন্মাদ? না, প্রকৃতপক্ষে সে তাদের কাছে সত্য নিয়ে এসেছে, কিন্তু তাদের অধিকাংশই সত্যকে অপছন্দ করে। اَمْ یَقُوْلُوْنَ بِهٖ جِنَّةٌ ؕ بَلْ جَآءَهُمْ بِالْحَقِّ وَ اَكْثَرُهُمْ لِلْحَقِّ كٰرِهُوْنَ﴿٧٠ ﴾
71 আর যদি সত্য তাদের কামনা-বাসনার অনুগামী হত, তবে আসমানসমূহ, যমীন ও এতদোভয়ের মধ্যস্থিত সব কিছু বিপর্যস্ত হয়ে যেত; বরং আমি তাদেরকে দিয়েছি তাদের উপদেশবাণী (কুরআন)। অথচ তারা তাদের উপদেশ হতে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে। সত্য যদি তাদের কামনার অনুগামী হত তাহলে বিশৃংখল হয়ে পড়ত আকাশমন্ডলী, পৃথিবী এবং ওদের মধ্যবর্তী সব কিছুই। পক্ষান্তরে আমি তাদেরকে দিয়েছি উপদেশ, কিন্তু তারা উপদেশ হতে মুখ ফিরিয়ে নেয়। সত্য যদি তাদের ইচ্ছে-আকাঙ্ক্ষার অনুসারী হত তাহলে আকাশ পৃথিবী আর এ দু’য়ের মাঝে যা আছে সব লন্ডভন্ড হয়ে যেত। (তাদের কামনা-বাসনার) বিপরীতে আমি তাদেরকে দিয়েছি তাদের জন্য উপদেশবাণী কিন্তু তারা উপদেশবাণী থেকে মুখ ফিরিয়ে রাখে। وَ لَوِ اتَّبَعَ الْحَقُّ اَهْوَآءَهُمْ لَفَسَدَتِ السَّمٰوٰتُ وَ الْاَرْضُ وَ مَنْ فِیْهِنَّ ؕ بَلْ اَتَیْنٰهُمْ بِذِكْرِهِمْ فَهُمْ عَنْ ذِكْرِهِمْ مُّعْرِضُوْنَؕ﴿٧١ ﴾
72 নাকি তুমি তাদের কাছে কোন প্রতিদান চাও? তবে তোমার রবের প্রতিদান সর্বোত্তম। আর তিনিই সর্বোত্তম রিয্কদাতা। অথবা তুমি কি তাদের কাছে কোন প্রতিদান চাও? তোমার রবের প্রতিদানই শ্রেষ্ঠ এবং তিনিই শ্রেষ্ঠ রিয্কদাতা। অথবা তুমি কি তাদের কাছ থেকে কোন প্রতিদান চাও? তোমার প্রতিপালকের প্রতিদানই সর্বোত্তম, আর তিনিই সর্বশ্রেষ্ঠ রিযকদাতা। اَمْ تَسْـَٔلُهُمْ خَرْجًا فَخَرَاجُ رَبِّكَ خَیْرٌ ۖۗ وَّ هُوَ خَیْرُ الرّٰزِقِیْنَ﴿٧٢ ﴾
73 আর নিশ্চয় তুমি তাদের সরল-সঠিক পথের দাওয়াত দিচ্ছ। তুমিতো তাদেরকে সরল পথে আহবান করছ। তুমি তো নিশ্চিতই তাদেরকে সরল সুদৃঢ় পথের দিকে ডাকছ। وَ اِنَّكَ لَتَدْعُوْهُمْ اِلٰی صِرَاطٍ مُّسْتَقِیْمٍ﴿٧٣ ﴾
74 আর নিশ্চয় যারা আখেরাতের প্রতি ঈমান আনে না, তারাই এই পথ থেকে বিচ্যুত। যারা আখিরাতে বিশ্বাস করেনা তারাতো সরল পথ হতে বিচ্যুত। যারা আখিরাতে বিশ্বাস করে না তারা সরল পথ থেকে বিচ্যুত হয়ে গেছে। وَ اِنَّ الَّذِیْنَ لَا یُؤْمِنُوْنَ بِالْاٰخِرَةِ عَنِ الصِّرَاطِ لَنٰكِبُوْنَ﴿٧٤ ﴾
75 আর যদি আমি তাদের দয়া করতাম এবং তাদের দুঃখ-দুর্দশা থেকে মুক্ত করতাম, তবুও তারা অবাধ্যতায় বিভ্রান্ত হয়ে ঘুরে বেড়াত। আমি তাদের উপর দয়া করলেও এবং তাদের দুঃখ-দৈন্য দূর করলেও তারা অবাধ্যতায় বিভ্রান্তের ন্যায় ঘুরতে থাকবে। আমি তাদের প্রতি দয়া করলেও আর তাদের দুঃখ দুর্দশা দূর করলেও তারা তাদের অবাধ্যতায় ঘুরপাক খেতে থাকবে। وَ لَوْ رَحِمْنٰهُمْ وَ كَشَفْنَا مَا بِهِمْ مِّنْ ضُرٍّ لَّلَجُّوْا فِیْ طُغْیَانِهِمْ یَعْمَهُوْنَ﴿٧٥ ﴾
76 আর অবশ্যই আমি তাদেরকে আযাব দ্বারা পাকড়াও করলাম, তবুও তারা তাদের রবের কাছে নত হয়নি এবং বিনীত প্রার্থনাও করে না। আমি তাদেরকে শাস্তি দ্বারা ধৃত করলাম, কিন্তু তারা তাদের রবের প্রতি বিনত হলনা এবং কাতর প্রার্থনাও করলনা। আমি তাদেরকে শাস্তি দ্বারা পাকড়াও করেছিলাম, কিন্তু তারা তাদের প্রতিপালকের নিকট নত হল না, আর তারা কাকুতি মিনতিও করল না। وَ لَقَدْ اَخَذْنٰهُمْ بِالْعَذَابِ فَمَا اسْتَكَانُوْا لِرَبِّهِمْ وَ مَا یَتَضَرَّعُوْنَ﴿٧٦ ﴾
77 অবশেষে আমি যখন তাদের জন্য কঠিন আযাবের দুয়ার খুলে দেই তখনই তাতে তারা হতাশ হয়ে পড়ে। অবশেষে যখন আমি তাদের জন্য কঠিন শাস্তির দ্বার খুলে দিই তখনই তারা হতাশ হয়ে পড়ে। অবশেষে আমি তাদের জন্য কঠিন শাস্তির দরজা খুলে দেব, তখন তারা তাতে হতাশ হয়ে পড়বে। حَتّٰۤی اِذَا فَتَحْنَا عَلَیْهِمْ بَابًا ذَا عَذَابٍ شَدِیْدٍ اِذَا هُمْ فِیْهِ مُبْلِسُوْنَ﴿٧٧ ﴾
78 আর তিনিই তোমাদের জন্য কান, চোখসমূহ ও অন্তরসমূহ সৃষ্টি করেছেন; তোমরা কমই কৃতজ্ঞতা প্রকাশ কর। তিনিই তোমাদের জন্য কর্ণ, চক্ষু ও অন্তঃকরণ সৃষ্টি করেছেন; তোমরা অল্পই কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে থাক। তিনিই তোমাদের জন্য সৃষ্টি করেছেন কান, চোখ ও অন্তর; তোমরা কৃতজ্ঞতা অল্পই করে থাক। وَ هُوَ الَّذِیْۤ اَنْشَاَ لَكُمُ السَّمْعَ وَ الْاَبْصَارَ وَ الْاَفْـِٕدَةَ ؕ قَلِیْلًا مَّا تَشْكُرُوْنَ﴿٧٨ ﴾
79 আর তিনিই পৃথিবীতে তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছেন এবং তোমাদেরকে তাঁরই কাছে একত্র করা হবে। তিনিই তোমাদেরকে পৃথিবীতে বিস্তৃত করেছেন এবং তোমাদেরকে তাঁরই নিকট একত্রিত করা হবে। তিনিই তোমাদেরকে পৃথিবীতে ছড়িয়ে দিয়েছেন আর তাঁর কাছেই তোমাদেরকে একত্রিত করা হবে। وَ هُوَ الَّذِیْ ذَرَاَكُمْ فِی الْاَرْضِ وَ اِلَیْهِ تُحْشَرُوْنَ﴿٧٩ ﴾
80 আর তিনিই জীবন দেন ও মৃত্যু দেন এবং রাত ও দিনের পরিবর্তন তাঁরই অধিকারে। তবুও কি তোমরা বুঝবে না? তিনিই জীবন দান করেন এবং মৃত্যু ঘটান, আর তাঁরই অধিকারে রাত ও দিনের পরিবর্তন, তবুও কি তোমরা বুঝবেনা? তিনিই জীবন দেন ও মৃত্যু ঘটান আর দিন-রাতের পরিবর্তন তাঁর দ্বারাই হয়, তবুও কি তোমরা বুঝবে না? وَ هُوَ الَّذِیْ یُحْیٖ وَ یُمِیْتُ وَ لَهُ اخْتِلَافُ الَّیْلِ وَ النَّهَارِ ؕ اَفَلَا تَعْقِلُوْنَ﴿٨٠ ﴾
81 বরং তারা তাই বলে যেমনটি পূর্ববর্তীরা বলত। এতদসত্ত্বেও তারা তা’ই বলে যেমন বলেছিল পূর্ববর্তীরা। বরং তারা তাই বলেছিল যা বলেছিল আগের লোকেরা। بَلْ قَالُوْا مِثْلَ مَا قَالَ الْاَوَّلُوْنَ﴿٨١ ﴾
82 তারা বলে, যখন আমরা মরে যাব এবং আমরা মাটি ও হাড়ে পরিণত হব তখনও কি আমরা পুনরুত্থিত হব? তারা বলেঃ আমাদের মৃত্যু ঘটলে এবং আমরা মাটি ও অস্থিতে পরিণত হলেও কি আমরা পুনরুত্থিত হব? তারা বলে- ‘আমরা যখন ম’রে মাটি ও হাড়-হাড্ডি হয়ে যাব (তারপরেও কি) আমাদেরকে আসলেই আবার উঠানো হবে? قَالُوْۤا ءَاِذَا مِتْنَا وَ كُنَّا تُرَابًا وَّ عِظَامًا ءَاِنَّا لَمَبْعُوْثُوْنَ﴿٨٢ ﴾
83 অবশ্যই আমাদেরকে ও ইতঃপূর্বে আমাদের পিতৃপুরুষদেরকে এই ওয়াদা দেয়া হয়েছিল। এসব কেবল পুরান কালের উপাখ্যান ছাড়া আর কিছু না। আমাদেরকে তো এ বিষয়েই প্রতিশ্রুতি প্রদান করা হয়েছে এবং অতীতে আমাদের পূর্ব-পুরুষদেরকেও; এটাতো প্রাচীন কালের কল্পকথা ব্যতীত আর কিছুই নয়। এ বিষয়ে আমাদেরকে ওয়া‘দা দেয়া হয়েছে আর অতীতে আমাদের পূর্ব পুরুষদেরকেও। এসব তো পুরনো কালের কিসসা কাহিনী ছাড়া কিছুই না। لَقَدْ وُعِدْنَا نَحْنُ وَ اٰبَآؤُنَا هٰذَا مِنْ قَبْلُ اِنْ هٰذَاۤ اِلَّاۤ اَسَاطِیْرُ الْاَوَّلِیْنَ﴿٨٣ ﴾
84 বল, ‘তোমরা যদি জান তবে বল, ‘এ যমীন ও এতে যারা আছে তারা কার?’ জিজ্ঞেস করঃ এই পৃথিবী এবং এতে যা আছে তা কার, যদি তোমরা জান তো বল? বল : এ পৃথিবী আর তার ভিতরে যা আছে তা কার? (বল) যদি তোমরা জান! قُلْ لِّمَنِ الْاَرْضُ وَ مَنْ فِیْهَاۤ اِنْ كُنْتُمْ تَعْلَمُوْنَ﴿٨٤ ﴾
85 অচিরেই তারা বলবে, ‘আল্লাহর’। বল, ‘তবুও কি তোমরা উপদেশ গ্রহণ করবে না?’ তারা বলবেঃ আল্লাহর! বলঃ তবুও কি তোমরা শিক্ষা গ্রহণ করবেনা? তারা বলবে- আল্লাহর। বল : তবুও কি তোমরা শিক্ষা গ্রহণ করবে না? سَیَقُوْلُوْنَ لِلّٰهِ ؕ قُلْ اَفَلَا تَذَكَّرُوْنَ﴿٨٥ ﴾
86 বল, ‘কে সাত আসমানের রব এবং মহা আরশের রব’? জিজ্ঞেস করঃ কে সপ্তাকাশের রাব্ব এবং কে’ইবা মহান আরশের রাব্ব? বলঃ সাত আসমান আর মহান আরশের মালিক কে? قُلْ مَنْ رَّبُّ السَّمٰوٰتِ السَّبْعِ وَ رَبُّ الْعَرْشِ الْعَظِیْمِ﴿٨٦ ﴾
87 তারা বলবে, ‘আল্লাহ।’ বল, ‘তবুও কি তোমরা তাকওয়া অবলম্বন করবে না?’ তারা বলবেঃ আল্লাহ! বলঃ তবুও কি তোমরা আল্লাহভীরু হবেনা? তারা বলবেঃ (এগুলোর মালিকানা) আল্লাহর। বলঃ তবুও কি তোমরা (আল্লাহকে) ভয় করবে না? سَیَقُوْلُوْنَ لِلّٰهِ ؕ قُلْ اَفَلَا تَتَّقُوْنَ﴿٨٧ ﴾
88 বল, ‘তিনি কে যার হাতে সকল কিছুর কর্তৃত্ব, যিনি আশ্রয় দান করেন এবং যাঁর ওপর কোন আশ্রয়দাতা নেই?’ যদি তোমরা জান। জিজ্ঞেস করঃ যদি তোমরা জান তাহলে বল সব কিছুর কর্তৃত্ব কার হাতে, কে আশ্রয় দান করেন, যাঁর উপর আশ্রয়দাতা নেই? বলঃ সব কিছুর একচ্ছত্র কর্তৃত্ব কার হাতে? তিনি (সকলকে) আশ্রয় দেন, তাঁর উপর কোন আশ্রয় দাতা নেই, (বল) তোমরা যদি জান। قُلْ مَنْۢ بِیَدِهٖ مَلَكُوْتُ كُلِّ شَیْءٍ وَّ هُوَ یُجِیْرُ وَ لَا یُجَارُ عَلَیْهِ اِنْ كُنْتُمْ تَعْلَمُوْنَ﴿٨٨ ﴾
89 তারা বলবে, ‘আল্লাহ।’ বল, ‘তবুও কীভাবে তোমরা মোহাচ্ছন্ন হয়ে আছ?’ তারা বলবেঃ আল্লাহর! বলঃ তবুও তোমরা কেমন করে বিভ্রান্ত হচ্ছ? তারা বলবে (সকল কিছুর কর্তৃত্ব) আল্লাহর। তাহলে কেমন করে তোমরা যাদুগ্রস্ত হয়ে পড়ছ? سَیَقُوْلُوْنَ لِلّٰهِ ؕ قُلْ فَاَنّٰی تُسْحَرُوْنَ﴿٨٩ ﴾
90 বরং আমি তাদের কাছে সত্য পৌঁছিয়েছি, আর নিশ্চয় তারা মিথ্যাবাদী। বরং আমিতো তাদের নিকট সত্য পৌঁছিয়েছি; কিন্তু তারা মিথ্যাবাদী। কিছুই না, আমি তাদের নিকট সত্য পাঠিয়েছি কিন্তু তারা বাস্তবিকই মিথ্যেবাদী। بَلْ اَتَیْنٰهُمْ بِالْحَقِّ وَ اِنَّهُمْ لَكٰذِبُوْنَ﴿٩٠ ﴾
91 আল্লাহ কোন সন্তান গ্রহণ করেননি, তাঁর সাথে অন্য কোন ইলাহও নেই। (যদি থাকত) তবে প্রত্যেক ইলাহ নিজের সৃষ্টিকে নিয়ে পৃথক হয়ে যেত এবং একে অন্যের উপর প্রাধান্য বিস্তার করত; তারা যা বর্ণনা করে তা থেকে আল্লাহ কত পবিত্র! আল্লাহ কোন সন্তান গ্রহণ করেননি এবং তাঁর সাথে অপর কোন মা‘বূদ নেই; যদি থাকত তাহলে প্রত্যেক মা‘বূদ স্বীয় সৃষ্টি নিয়ে পৃথক হয়ে যেত এবং একে অপরের উপর প্রাধান্য বিস্তার করত। তারা যা বলে তা হতে আল্লাহ অতি পবিত্র! আল্লাহ কোন সন্তান গ্রহণ করেননি, আর তাঁর সাথে অন্য কোন ইলাহ নেই, (থাকলে) প্রত্যেক ইলাহ আপন সৃষ্টি নিয়ে অবশ্যই চলে যেত, আর অবশ্যই একে অপরের উপর চড়াও হত, তারা তাঁর প্রতি যা আরোপ করে তাত্থেকে তিনি কত মহান ও পবিত্র! مَا اتَّخَذَ اللّٰهُ مِنْ وَّلَدٍ وَّ مَا كَانَ مَعَهٗ مِنْ اِلٰهٍ اِذًا لَّذَهَبَ كُلُّ اِلٰهٍۭ بِمَا خَلَقَ وَ لَعَلَا بَعْضُهُمْ عَلٰی بَعْضٍ ؕ سُبْحٰنَ اللّٰهِ عَمَّا یَصِفُوْنَۙ﴿٩١ ﴾
92 তিনি গায়েব ও উপস্থিতের জ্ঞানী, তারা যা শরীক করে তিনি তার ঊর্ধ্বে। তিনি দৃশ্য ও অদৃশ্যের পরিজ্ঞাতা, তারা যাকে শরীক করে তিনি তার উর্ধ্বে। তিনি দৃশ্য ও অদৃশ্যের জ্ঞানের অধিকারী, তারা যা তাঁর শরীক বানায়, তাত্থেকে তিনি বহু ঊর্ধ্বে। عٰلِمِ الْغَیْبِ وَ الشَّهَادَةِ فَتَعٰلٰی عَمَّا یُشْرِكُوْنَ﴿٩٢ ﴾
93 বল, ‘হে আমার রব, যে বিষয়ে তাদেরকে ওয়াদা দেয়া হচ্ছে তা যদি আমাকে দেখাতে চান, বলঃ হে আমার রাব্ব! যে বিষয়ে তাদেরকে প্রতিশ্রুতি প্রদান করা হয়েছে, তা যদি আপনি আমাকে দেখাতেন – বল, ‘হে আমার প্রতিপালক! তুমি যদি আমাকে দেখাও (আমার জীবদ্দশায়) যার প্রতিশ্রুতি তাদেরকে দেয়া হয়েছে, قُلْ رَّبِّ اِمَّا تُرِیَنِّیْ مَا یُوْعَدُوْنَۙ﴿٩٣ ﴾
94 ‘হে আমার রব, তাহলে আমাকে যালিম সম্প্রদায়ভুক্ত করবেন না।’ তবে হে আমার রাব্ব! আপনি আমাকে যালিম সম্প্রদায়ের অন্তর্ভুক্ত করবেননা। তাহলে হে আমার প্রতিপালক! তুমি আমাকে যালিম সম্প্রদায়ের অন্তর্ভুক্ত করো না’। رَبِّ فَلَا تَجْعَلْنِیْ فِی الْقَوْمِ الظّٰلِمِیْنَ﴿٩٤ ﴾
95 আর যে বিষয়ে আমি তাদেরকে ওয়াদা দিয়েছি, অবশ্যই আমি তা তোমাকে দেখাতে সক্ষম। আমি তাদেরকে যে বিষয়ে প্রতিশ্রুতি প্রদান করেছি তা আমি তোমাকে দেখাতে অবশ্যই সক্ষম। আমি তাদেরকে (শাস্তি প্রদানের) যে ওয়াদা করেছি তা আমি তোমাকে দেখাতে অবশ্যই সক্ষম। وَ اِنَّا عَلٰۤی اَنْ نُّرِیَكَ مَا نَعِدُهُمْ لَقٰدِرُوْنَ﴿٩٥ ﴾
96 যা উত্তম তা দিয়ে মন্দ প্রতিহত কর; তারা যা বলে আমি তা সম্পর্কে অধিক জ্ঞানী। মন্দের মুকাবিলা কর উত্তম দ্বারা, তারা যা বলে আমি সেই সম্বন্ধে সবিশেষ অবহিত। মন্দের মুকাবিলা কর যা উত্তম তাই দিয়ে, তারা যা বলে সে সম্পর্কে আমি সবিশেষ অবগত। اِدْفَعْ بِالَّتِیْ هِیَ اَحْسَنُ السَّیِّئَةَ ؕ نَحْنُ اَعْلَمُ بِمَا یَصِفُوْنَ﴿٩٦ ﴾
97 আর বল, ‘হে আমার রব, আমি শয়তানের প্ররোচনা থেকে আপনার কাছে পানাহ চাই’। আর বলঃ হে আমার রাব্ব! আমি আপনার আশ্রয় প্রার্থনা করি শাইতানের প্ররোচনা হতে। আর বল : ‘হে আমার প্রতিপালক! আমি শয়ত্বানের কুমন্ত্রণা হতে তোমার নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি। وَ قُلْ رَّبِّ اَعُوْذُ بِكَ مِنْ هَمَزٰتِ الشَّیٰطِیْنِۙ﴿٩٧ ﴾
98 আর হে আমার রব, আমার কাছে তাদের উপস্থিতি হতে আপনার কাছে পানাহ চাই।’ হে আমার রাব্ব! আমি আপনার আশ্রয় প্রার্থনা করি আমার নিকট ওদের উপস্থিতি হতে। আর আমি তোমার নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি, হে আমার প্রতিপালক! যাতে তারা আমার কাছে আসতে না পারে।’ وَ اَعُوْذُ بِكَ رَبِّ اَنْ یَّحْضُرُوْنِ﴿٩٨ ﴾
99 অবশেষে যখন তাদের কারো মৃত্যু আসে, সে বলে, ‘হে আমার রব, আমাকে ফেরত পাঠান, যখন তাদের কারও মৃত্যু উপস্থিত হয় তখন সে বলেঃ হে আমার রাব্ব! আমাকে পুনরায় প্রেরণ করুন – এমনকি যখন তাদের কারো কাছে মৃত্যু এসে হাজির হয় তখন সে বলে : ‘হে আমার প্রতিপালক! আমাকে আবার (দুনিয়াতে) পাঠিয়ে দাও। حَتّٰۤی اِذَا جَآءَ اَحَدَهُمُ الْمَوْتُ قَالَ رَبِّ ارْجِعُوْنِۙ﴿٩٩ ﴾
100 যেন আমি সৎকাজ করতে পারি যা আমি ছেড়ে দিয়েছিলাম।’ কখনো নয়, এটি একটি বাক্য যা সে বলবে। যেদিন তাদেরকে পুনরুত্থিত করা হবে সেদিন পর্যন্ত তাদের সামনে থাকবে বরযখ। যাতে আমি সৎ কাজ করতে পারি যা আমি পূর্বে করিনি। না এটা হবার নয়; এটাতো তার একটা উক্তি মাত্র; তাদের সামনে বারযাখ থাকবে পুনরুত্থান দিন পর্যন্ত। যাতে আমি সৎ কাজ করতে পারি যা আমি করিনি। কক্ষনো না, এটা তো তার একটা কথার কথা মাত্র। তাদের সামনে পর্দা থাকবে পুনরুত্থানের দিন পর্যন্ত। لَعَلِّیْۤ اَعْمَلُ صَالِحًا فِیْمَا تَرَكْتُ كَلَّا ؕ اِنَّهَا كَلِمَةٌ هُوَ قَآىِٕلُهَا ؕ وَ مِنْ وَّرَآىِٕهِمْ بَرْزَخٌ اِلٰی یَوْمِ یُبْعَثُوْنَ﴿١٠٠ ﴾
101 অতঃপর যেদিন শিঙ্গায় ফুঁক দেয়া হবে সেদিন তাদের মাঝে কোন আত্মীয়তার বন্ধন থাকবে না, কেউ কারো বিষয়ে জানতে চাইবে না। অতঃপর যে দিন শিঙ্গায় ফুৎকার দেয়া হবে সেদিন পরস্পরের মধ্যে আত্মীয়তার বন্ধন থাকবেনা, এবং একে অপরের খোঁজ খবর নিবেনা। অতঃপর যখন শিঙ্গায় ফুঁ দেয়া হবে সেদিন তাদের পরস্পরের মাঝে আত্মীয় বন্ধন থাকবে না। একে অপরের কাছে জিজ্ঞেসও করবে না। فَاِذَا نُفِخَ فِی الصُّوْرِ فَلَاۤ اَنْسَابَ بَیْنَهُمْ یَوْمَىِٕذٍ وَّ لَا یَتَسَآءَلُوْنَ﴿١٠١ ﴾
102 অতঃপর যাদের পাল্লা ভারী হবে তারাই হবে সফলকাম। সুতরাং যাদের পাল্লা ভারী হবে তারাই হবে সফলকাম। যাদের (সৎ কাজের) পাল্লা ভারী হবে তারাই হবে সফলকাম। فَمَنْ ثَقُلَتْ مَوَازِیْنُهٗ فَاُولٰٓىِٕكَ هُمُ الْمُفْلِحُوْنَ﴿١٠٢ ﴾
103 আর যাদের পাল্লা হালকা হবে তারাই নিজদের ক্ষতি করল; জাহান্নামে তারা হবে স্থায়ী। আর যাদের পাল্লা হালকা হবে তারাই নিজেদের ক্ষতি করেছে; তারা জাহান্নামে স্থায়ী হবে। যাদের পাল্লা হালকা হবে তারাই ওরা যারা নিজেদের ক্ষতিসাধন করেছে, জাহান্নামে তারা চিরস্থায়ী হবে। وَ مَنْ خَفَّتْ مَوَازِیْنُهٗ فَاُولٰٓىِٕكَ الَّذِیْنَ خَسِرُوْۤا اَنْفُسَهُمْ فِیْ جَهَنَّمَ خٰلِدُوْنَۚ﴿١٠٣ ﴾
104 আগুন তাদের চেহারা দগ্ধ করবে, সেখানে তারা হবে বীভৎস চেহারাবিশিষ্ট। আগুন তাদের মুখমন্ডল দগ্ধ করবে এবং তারা সেখানে থাকবে বীভৎস চেহারায়। আগুন তাদের মুখমন্ডল দগ্ধ করবে আর তারা বীভৎস চেহারা নিয়ে তার ভিতরে দাঁত কটমট করতে থাকবে। تَلْفَحُ وُجُوْهَهُمُ النَّارُ وَ هُمْ فِیْهَا كٰلِحُوْنَ﴿١٠٤ ﴾
105 ‘আমার আয়াতসমূহ কি তোমাদের কাছে পাঠ করা হত না?’ তারপর তোমরা তা অস্বীকার করতে’। তোমাদের নিকট কি আমার আয়াতসমূহ আবৃত্তি হতনা? অথচ তোমরা ওগুলি অস্বীকার করতে! (তাদেরকে বলা হবে) ‘তোমাদের নিকট কি আমার আয়াতগুলো আবৃত্তি করা হত না? তোমরা সেগুলোকে মিথ্যে জেনে প্রত্যাখ্যান করেছিলে। اَلَمْ تَكُنْ اٰیٰتِیْ تُتْلٰی عَلَیْكُمْ فَكُنْتُمْ بِهَا تُكَذِّبُوْنَ﴿١٠٥ ﴾
106 তারা বলবে, ‘হে আমাদের রব, দুর্ভাগ্য আমাদেরকে পেয়ে বসেছিল, আর আমরা ছিলাম পথভ্রষ্ট’। তারা বলবেঃ হে আমাদের রাব্ব! দুর্ভাগ্য আমাদেরকে পেয়ে বসেছিল এবং আমরা ছিলাম এক বিভ্রান্ত সম্প্রদায়। তারা বলবে- ‘হে আমাদের প্রতিপালক! দুর্ভাগ্য আমাদেরকে পরাস্ত করেছিল, আর আমরা ছিলাম এক পথভ্রষ্ট জাতি। قَالُوْا رَبَّنَا غَلَبَتْ عَلَیْنَا شِقْوَتُنَا وَ كُنَّا قَوْمًا ضَآلِّیْنَ﴿١٠٦ ﴾
107 ‘হে আমাদের রব, এ থেকে আমাদেরকে বের করে দিন, তারপর যদি আমরা আবার তা করি তবে অবশ্যই আমরা হব যালিম।’ হে আমাদের রাব্ব! এই আগুন হতে আমাদেরকে উদ্ধার করুন; অতঃপর আমরা যদি পুনরায় কুফরী করি তাহলেতো আমরা অবশ্যই সীমালংঘনকারী হব। হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদেরকে এত্থেকে বের করে নাও, আমরা যদি আবার কুফুরী করি তাহলে আমরা তো যালিম হিসেবে পরিগণিত হব। رَبَّنَاۤ اَخْرِجْنَا مِنْهَا فَاِنْ عُدْنَا فَاِنَّا ظٰلِمُوْنَ﴿١٠٧ ﴾
108 আল্লাহ বলবেন, ‘তোমরা ধিকৃত অবস্থায় এখানেই থাক, আর আমার সাথে কথা বলো না।’ আল্লাহ বলবেনঃ তোমরা হীন অবস্থায় এখানেই থাক এবং আমার সাথে কোন কথা বলনা। আল্লাহ বলবেন- ‘তোমরা ধিকৃত অবস্থায় এখানেই পড়ে থাক, আমার সঙ্গে কোন কথা বল না।’ قَالَ اخْسَـُٔوْا فِیْهَا وَ لَا تُكَلِّمُوْنِ﴿١٠٨ ﴾
109 আমার বান্দাদের একদল ছিল যারা বলত, ‘হে আমাদের রব, আমরা ঈমান এনেছি, অতএব আমাদেরকে ক্ষমা ও দয়া করুন, আর আপনি সর্বশ্রেষ্ঠ দয়ালু।’ আমার বান্দাদের মধ্যে একদল ছিল যারা বলতঃ হে আমাদের রাব্ব! আমরা ঈমান এনেছি, সুতরাং আপনি আমাদেরকে ক্ষমা করুন এবং আমাদের উপর দয়া করুন, আপনিতো দয়ালুগণের মধ্যে শ্রেষ্ঠ দয়ালু। আমার বান্দাহদের একদল বলত- ‘হে আমাদের প্রতিপালক! আমরা ঈমান এনেছি, তুমি আমাদেরকে ক্ষমা কর, আমাদের প্রতি দয়া কর, তুমি তো সর্বশ্রেষ্ঠ দয়ালু।’ اِنَّهٗ كَانَ فَرِیْقٌ مِّنْ عِبَادِیْ یَقُوْلُوْنَ رَبَّنَاۤ اٰمَنَّا فَاغْفِرْ لَنَا وَ ارْحَمْنَا وَ اَنْتَ خَیْرُ الرّٰحِمِیْنَۚۖ﴿١٠٩ ﴾
110 ‘তারপর তাদেরকে নিয়ে তোমরা ঠাট্টা করতে। অবশেষে তা তোমাদেরকে আমার স্মরণ ভুলিয়ে দিয়েছিল। আর তোমরা তাদের নিয়ে হাসি-তামাশা করতে।’ কিন্তু তাদেরকে নিয়ে তোমরা এতো ঠাট্টা বিদ্রুপ করতে যে, তা তোমাদেরকে আমার স্মরণ ভুলিয়ে দিয়েছিল; তোমরাতো তাদেরকে নিয়ে হাসি-ঠাট্টাই করতে। কিন্তু তাদেরকে নিয়ে তোমরা হাসি তামাশা করতে এমনকি তা তোমাদেরকে আমার কথা ভুলিয়ে দিয়েছিল, তোমরা তাদেরকে নিয়ে হাসি-ঠাট্টাই করতে। فَاتَّخَذْتُمُوْهُمْ سِخْرِیًّا حَتّٰۤی اَنْسَوْكُمْ ذِكْرِیْ وَ كُنْتُمْ مِّنْهُمْ تَضْحَكُوْنَ﴿١١٠ ﴾
111 নিশ্চয় আমি তাদের ধৈর্যের কারণে আজ তাদেরকে পুরস্কৃত করলাম; নিশ্চয় তারাই হল সফলকাম। আমি আজ তাদেরকে তাদের ধৈর্যের কারণে এমনভাবে পুরস্কৃত করলাম যে, তারাই হল সফলকাম। আজ আমি তাদেরকে পুরস্কৃত করলাম তাদের ধৈর্য ধারণের কারণে, আজ তারাই তো সফলকাম। اِنِّیْ جَزَیْتُهُمُ الْیَوْمَ بِمَا صَبَرُوْۤا ۙ اَنَّهُمْ هُمُ الْفَآىِٕزُوْنَ﴿١١١ ﴾
112 আল্লাহ বলবেন, ‘বছরের হিসাবে তোমরা যমীনে কত সময় অবস্থান করেছিলে?’ তিনি বলবেনঃ তোমরা পৃথিবীতে কত বছর অবস্থান করেছিলে? আল্লাহ বলবেন : ‘পৃথিবীতে কয় বছর তোমরা অবস্থান করেছিলে?’ قٰلَ كَمْ لَبِثْتُمْ فِی الْاَرْضِ عَدَدَ سِنِیْنَ﴿١١٢ ﴾
113 তারা বলবে, ‘আমরা একদিন বা দিনের কিছু অংশ অবস্থান করেছি; সুতরাং আপনি গণনাকারীদেরকে জিজ্ঞাসা করুন।’ তারা বলবেঃ আমরা অবস্থান করেছিলাম একদিন অথবা একদিনের কিছু অংশ, আপনি না হয় গণনাকারীদেরকে জিজ্ঞেস করুন। তারা বলবে : ‘আমরা একদিন বা এক দিনের কিছু অংশ অবস্থান করেছি। অতএব তুমি গণনাকারীদের জিজ্ঞেস কর।’ قَالُوْا لَبِثْنَا یَوْمًا اَوْ بَعْضَ یَوْمٍ فَسْـَٔلِ الْعَآدِّیْنَ﴿١١٣ ﴾
114 তিনি বলবেন, ‘তোমরা কেবল অল্পকালই অবস্থান করেছিলে, তোমরা যদি নিশ্চিত জানতে!’ তিনি বলবেনঃ তোমরা অল্পকালই অবস্থান করেছিলে, যদি তোমরা জানতে। তিনি বলবেন : ‘তোমরা অল্প সময়ই অবস্থান করেছিলে, তোমরা যদি জানতে! قٰلَ اِنْ لَّبِثْتُمْ اِلَّا قَلِیْلًا لَّوْ اَنَّكُمْ كُنْتُمْ تَعْلَمُوْنَ﴿١١٤ ﴾
115 ‘তোমরা কি মনে করেছিলে যে, আমি তোমাদেরকে কেবল অনর্থক সৃষ্টি করেছি এবং তোমরা আমার দিকে প্রত্যাবর্তিত হবে না’? তোমরা কি মনে করেছিলে যে, আমি তোমাদেরকে অনর্থক সৃষ্টি করেছি এবং তোমরা আমার নিকট প্রত্যাবর্তিত হবেনা? তোমরা কি ভেবেছিলে যে, আমি তোমাদেরকে তামাশার বস্তু হিসেবে সৃষ্টি করেছি আর তোমাদেরকে আমার কাছে ফিরিয়ে আনা হবে না? اَفَحَسِبْتُمْ اَنَّمَا خَلَقْنٰكُمْ عَبَثًا وَّ اَنَّكُمْ اِلَیْنَا لَا تُرْجَعُوْنَ﴿١١٥ ﴾
116 সুতরাং সত্যিকারের মালিক আল্লাহ মহিমান্বিত, তিনি ছাড়া কোন (সত্য) ইলাহ নেই; তিনি সম্মানিত ‘আরশের রব। মহিমান্বিত আল্লাহ যিনি প্রকৃত মালিক, তিনি ব্যতীত কোন মা‘বূদ নেই; সম্মানিত আরশের তিনিই রাব্ব। সুউচ্চ মহান আল্লাহ যিনি প্রকৃত মালিক, তিনি ছাড়া সত্যিকারের কোন ইলাহ নেই, সম্মানিত আরশের অধিপতি। فَتَعٰلَی اللّٰهُ الْمَلِكُ الْحَقُّ ۚ لَاۤ اِلٰهَ اِلَّا هُوَ ۚ رَبُّ الْعَرْشِ الْكَرِیْمِ﴿١١٦ ﴾
117 আর যে আল্লাহর সাথে অন্য ইলাহকে ডাকে, যে বিষয়ে তার কাছে প্রমাণ নেই; তার হিসাব কেবল তার রবের কাছে। নিশ্চয় কাফিররা সফলকাম হবে না। যে ব্যক্তি আল্লাহর সাথে ডাকে অন্য ইলাহকে যার নিকট কোন সনদ নেই, তার হিসাব রয়েছে তার রবের নিকট, নিশ্চয়ই কাফিরেরা সফলকাম হবেনা। যে ব্যক্তি আল্লাহর সঙ্গে অন্য ইলাহকেও ডাকে, এ ব্যাপারে তার কাছে কোন দলীল প্রমাণ নেই, একমাত্র তার প্রতিপালকের কাছেই তার হিসাব হবে, কাফিরগণ অবশ্যই সফলকাম হবে না। وَ مَنْ یَّدْعُ مَعَ اللّٰهِ اِلٰهًا اٰخَرَ ۙ لَا بُرْهَانَ لَهٗ بِهٖ ۙ فَاِنَّمَا حِسَابُهٗ عِنْدَ رَبِّهٖ ؕ اِنَّهٗ لَا یُفْلِحُ الْكٰفِرُوْنَ﴿١١٧ ﴾
118 আর বল, ‘হে আমাদের রব, আপনি ক্ষমা করুন, দয়া করুন এবং আপনিই সর্বশ্রেষ্ঠ দয়ালু।’ বলঃ হে আমার রাব্ব! ক্ষমা করুন ও দয়া করুন, দয়ালুদের মধ্যে আপনিইতো শ্রেষ্ঠ দয়ালু। কাজেই বল : ‘হে আমার প্রতিপালক! ক্ষমা কর ও রহম কর, তুমি রহমকারীদের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ।’ وَ قُلْ رَّبِّ اغْفِرْ وَ ارْحَمْ وَ اَنْتَ خَیْرُ الرّٰحِمِیْنَ﴿١١٨ ﴾