۞ بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَٰنِ الرَّحِيمِ ۞
অনুবাদকে টিক দিন        


সমগ্র কুরআনে সার্চ করার জন্য আরবি অথবা বাংলা শব্দ দিন...


তথ্য খুজুন: যেমন মায়িদা x
সুরা লিস্ট দেখুন

সূরা নাম (Sura Name): �������� ������������ -- Az-Zukhruf -- ������-������������������
Arabic Font Size:
আয়ত নাম্বার বায়ান ফাউন্ডেশন মুজিবুর রহমান তাইসীরুল কুরআন আরবি
1 হা-মীম। হা, মীম। হা-মীম। حٰمٓۚۛ﴿١ ﴾
2 সুস্পষ্ট কিতাবের কসম! শপথ সুস্পষ্ট কিতাবের! শপথ সুস্পষ্ট কিতাবের। وَ الْكِتٰبِ الْمُبِیْنِۙۛ﴿٢ ﴾
3 নিশ্চয় আমি তো একে আরবী কুরআন বানিয়েছি, যাতে তোমরা বুঝতে পার। আমি এটা অবতীর্ণ করেছি আরাবী ভাষায় কুরআন রূপে, যাতে তোমরা বুঝতে পার। আমি ওটাকে করেছি আরবী ভাষার কুরআন যাতে তোমরা বুঝতে পারে। اِنَّا جَعَلْنٰهُ قُرْءٰنًا عَرَبِیًّا لَّعَلَّكُمْ تَعْقِلُوْنَۚ﴿٣ ﴾
4 আর নিশ্চয় তা আমার কাছে উম্মুল কিতাবে সুউচ্চ মর্যাদাসম্পন্ন, প্রজ্ঞাপূর্ণ। এটা রয়েছে আমার নিকট উম্মুল কিতাবে; এটা মহান, জ্ঞানগর্ভ। আমার কাছে তা উম্মুল কিতাবে (লাওহে মাহফুজে) সংরক্ষিত আছে, আর তা হল অতি উচ্চ মর্যাদাসম্পন্ন জ্ঞান-বিজ্ঞানে পূর্ণ। وَ اِنَّهٗ فِیْۤ اُمِّ الْكِتٰبِ لَدَیْنَا لَعَلِیٌّ حَكِیْمٌؕ﴿٤ ﴾
5 তোমরা সীমালঙ্ঘনকারী জাতি, এ কারণে কি আমি তোমাদের কাছ থেকে এ উপদেশবাণী সম্পূর্ণরূপে প্রত্যাহার করে নেব? আমি কি তোমাদের হতে এই উপদেশ বাণী সম্পূর্ণরূপে প্রত্যাহার করে নিব এই কারণে যে, তোমরা সীমালংঘনকারী সম্প্রদায়? তোমরা এক সীমালঙ্ঘনকারী জাতি- এ কারণে কি আমি তোমাদের কাছ থেকে কুরআন প্রত্যাহার করে নেব? اَفَنَضْرِبُ عَنْكُمُ الذِّكْرَ صَفْحًا اَنْ كُنْتُمْ قَوْمًا مُّسْرِفِیْنَ﴿٥ ﴾
6 আর পূর্ববর্তীদের মধ্যে আমি বহু নবী পাঠিয়েছিলাম। পূর্ববর্তীদের নিকট আমি বহু নাবী প্রেরণ করেছিলাম। পূর্বেকার জাতিগুলোর মধ্যে আমি বহু রসূল পাঠিয়েছিলাম। وَ كَمْ اَرْسَلْنَا مِنْ نَّبِیٍّ فِی الْاَوَّلِیْنَ﴿٦ ﴾
7 আর যখনই তাদের কাছে কোন নবী এসেছে তারা তাকে নিয়ে ঠাট্টা-বিদ্রূপ করেছে। এবং যখনই তাদের নিকট কোন নাবী এসেছে, তারা তাকে ঠাট্টা বিদ্রুপ করেছে। তাদের কাছে এমন কোন নবী আসেনি যাকে তারা ঠাট্টা-বিদ্রূপ করেনি। وَ مَا یَاْتِیْهِمْ مِّنْ نَّبِیٍّ اِلَّا كَانُوْا بِهٖ یَسْتَهْزِءُوْنَ﴿٧ ﴾
8 ফলে তাদের চেয়েও শক্তিতে প্রবলদেরকে আমি ধ্বংস করে দিয়েছিলাম। আর পূর্ববর্তীদের দৃষ্টান্ত অতীত হয়ে গেছে। তাদের মধ্যে যারা এদের অপেক্ষা শক্তিতে প্রবল ছিল তাদেরকে আমি ধ্বংস করেছিলাম; আর এভাবে চলে আসছে পূর্ববর্তীদের অনুরূপ দৃষ্টান্ত। আমি তাদেরকে ধ্বংস করেছি- যারা ছিল এদের চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী। পূর্বের জাতিগুলোর উদাহরণ অতীত হয়ে গেছে। فَاَهْلَكْنَاۤ اَشَدَّ مِنْهُمْ بَطْشًا وَّ مَضٰی مَثَلُ الْاَوَّلِیْنَ﴿٨ ﴾
9 আর তুমি যদি জিজ্ঞাসা কর, আসমানসমূহ ও যমীন কে সৃষ্টি করেছেন? তারা অবশ্যই বলবে, মহাপরাক্রমশালী সর্বজ্ঞই কেবল এগুলো সৃষ্টি করেছেন। তুমি যদি তাদেরকে জিজ্ঞেস করঃ কে আকাশমন্ডলী ও পৃথিবী সৃষ্টি করেছেন? তারা অবশ্যই বলবেঃ এগুলিতো সৃষ্টি করেছেন পরাক্রমশালী, সর্বজ্ঞ আল্লাহ – তুমি যদি তাদেরকে জিজ্ঞেস কর- আকাশ ও যমীন কে সৃষ্টি করেছে? তারা অবশ্য অবশ্যই বলবে- ওগুলো প্রবল পরাক্রমশালী মহাজ্ঞানী আল্লাহ সৃষ্টি করেছেন, وَ لَىِٕنْ سَاَلْتَهُمْ مَّنْ خَلَقَ السَّمٰوٰتِ وَ الْاَرْضَ لَیَقُوْلُنَّ خَلَقَهُنَّ الْعَزِیْزُ الْعَلِیْمُۙ﴿٩ ﴾
10 যিনি যমীনকে তোমাদের জন্য শয্যা বানিয়েছেন এবং তাতে তোমাদের জন্য বানিয়েছেন চলার পথ, যাতে তোমরা সঠিক পথ পেতে পার। যিনি তোমাদের জন্য পৃথিবীকে করেছেন শয্যা এবং ওতে করেছেন তোমাদের চলার পথ, যাতে তোমরা সঠিক পথ পেতে পার; যিনি তোমাদের জন্য যমীনকে করেছেন বিস্তৃত, আর তাতে তোমাদের জন্য বানিয়েছেন চলার পথ- যাতে তোমরা সঠিক পথ পেতে পার। الَّذِیْ جَعَلَ لَكُمُ الْاَرْضَ مَهْدًا وَّ جَعَلَ لَكُمْ فِیْهَا سُبُلًا لَّعَلَّكُمْ تَهْتَدُوْنَۚ﴿١٠ ﴾
11 আর যিনি আসমান থেকে পরিমিতভাবে পানি বর্ষণ করেন। অতঃপর আমি তা দ্বারা মৃত জনপদকে সঞ্জীবিত করি। এভাবেই তোমাদেরকে বের করা হবে। এবং যিনি আকাশ হতে বারি বর্ষণ করেন পরিমিতভাবে। এবং আমি তদ্বারা সঞ্জীবিত করি নির্জীব ভূখন্ডকে। এভাবেই তোমাদেরকে পুনরুত্থিত করা হবে। যিনি আকাশ থেকে পরিমিত পানি বর্ষণ করেন যা দিয়ে তিনি মৃত ভূ-ভাগকে সঞ্জীবিত করেন। এভাবেই তোমাদেরকে বের করা হবে। وَ الَّذِیْ نَزَّلَ مِنَ السَّمَآءِ مَآءًۢ بِقَدَرٍ ۚ فَاَنْشَرْنَا بِهٖ بَلْدَةً مَّیْتًا ۚ كَذٰلِكَ تُخْرَجُوْنَ﴿١١ ﴾
12 আর যিনি সব কিছুই জোড়া জোড়া সৃষ্টি করেছেন এবং তিনি তোমাদের জন্য নৌযান ও গৃহপালিত জন্তু সৃষ্টি করেছেন, যাতে তোমরা আরোহণ কর, এবং যিনি যুগলসমূহের প্রত্যেককে সৃষ্টি করেন এবং যিনি তোমাদের জন্য সৃষ্টি করেন এমন নৌযান ও চতুস্পদ জন্তু যাতে তোমরা আরোহণ কর – তিনি সব কিছুকে জোড়া জোড়া সৃষ্টি করেছেন, আর তোমাদের জন্য নৌযান ও গবাদি পশু সৃষ্টি করেছেন যাতে তোমরা আরোহণ কর, وَ الَّذِیْ خَلَقَ الْاَزْوَاجَ كُلَّهَا وَ جَعَلَ لَكُمْ مِّنَ الْفُلْكِ وَ الْاَنْعَامِ مَا تَرْكَبُوْنَۙ﴿١٢ ﴾
13 যাতে তোমরা এর পিঠে স্থির থাকতে পার তারপর তোমাদের রবের অনুগ্রহ স্মরণ করবে, যখন তোমরা এর উপর স্থির হয়ে বসবে আর বলবে, ‘পবিত্র-মহান সেই সত্তা যিনি এগুলোকে আমাদের বশীভূত করে দিয়েছেন। আর আমরা এগুলোকে নিয়ন্ত্রণ করতে সক্ষম ছিলাম না’। যাতে তোমরা ওদের পৃষ্ঠে স্থির হয়ে বসতে পার, তারপর তোমাদের রবের অনুগ্রহ স্মরণ কর যখন তোমরা ওর উপর স্থির হয়ে বস এবং বলঃ পবিত্র ও মহান তিনি যিনি এদেরকে আমাদের বশীভূত করে দিয়েছেন যদিও আমরা সমর্থ ছিলামনা এদেরকে বশীভূত করতে। যাতে তোমরা যখন তাদের পিঠে স্থির হয়ে বস, তখন যেন তোমাদের প্রতিপালকের অনুগ্রহের কথা স্মরণ কর আর বল- মহান ও পবিত্র তিনি যিনি, এগুলোকে আমাদের (ব্যবহারের জন্য) বশীভূত করে দিয়েছেন, আমরা এগুলোকে বশীভূত করতে সক্ষম ছিলাম না। لِتَسْتَوٗا عَلٰی ظُهُوْرِهٖ ثُمَّ تَذْكُرُوْا نِعْمَةَ رَبِّكُمْ اِذَا اسْتَوَیْتُمْ عَلَیْهِ وَ تَقُوْلُوْا سُبْحٰنَ الَّذِیْ سَخَّرَ لَنَا هٰذَا وَ مَا كُنَّا لَهٗ مُقْرِنِیْنَۙ﴿١٣ ﴾
14 আর নিশ্চয় আমরা আমাদের রবের কাছেই প্রত্যাবর্তনকারী। আমরা আমাদের রবের নিকট অবশ্যই প্রত্যাবর্তন করব। আর আমাদেরকে অবশ্যই আমাদের প্রতিপালকের দিকে ফিরে যেতে হবে। وَ اِنَّاۤ اِلٰی رَبِّنَا لَمُنْقَلِبُوْنَ﴿١٤ ﴾
15 আর তারা তাঁর বান্দাদের মধ্য থেকে তাঁর অংশ সাব্যস্ত করেছে। নিশ্চয়ই মানুষ স্পষ্ট অকৃতজ্ঞ। তারা তাঁর বান্দাদের মধ্য হতে তাঁর অংশ সাব্যস্ত করেছে। মানুষতো স্পষ্টই অকৃতজ্ঞ। আর তারা আল্লাহর বান্দাদের মধ্য হতে কতককে আল্লাহর অংশ মনে করে নিয়েছে (যেমন ‘ঈসা (আঃ)-কে তারা আল্লাহর পুত্র মনে করে)। মানুষ অবশ্যই স্পষ্টতঃ অকৃতজ্ঞ। وَ جَعَلُوْا لَهٗ مِنْ عِبَادِهٖ جُزْءًا ؕ اِنَّ الْاِنْسَانَ لَكَفُوْرٌ مُّبِیْنٌؕ۠﴿١٥ ﴾
16 তিনি কি যা সৃষ্টি করেছেন তা থেকে কন্যা সন্তান গ্রহণ করেছেন, আর তোমাদেরকে বিশিষ্ট করেছেন পুত্র সন্তান দ্বারা? তিনি কি তাঁর সৃষ্টি হতে নিজের জন্য কন্যা সন্তান গ্রহণ করেছেন এবং তোমাদেরকে বিশিষ্ট করেছেন পুত্র সন্তান দ্বারা? কি! তিনি তাঁরই সৃষ্টি হতে কন্যা সন্তান গ্রহণ করেছেন আর তোমাদের জন্য মনোনীত করেছেন পুত্র সন্তান? اَمِ اتَّخَذَ مِمَّا یَخْلُقُ بَنٰتٍ وَّ اَصْفٰىكُمْ بِالْبَنِیْنَ﴿١٦ ﴾
17 আর যখন তাদের কাউকে সুসংবাদ দেয়া হয়, যা রহমানের প্রতি তারা দৃষ্টান্ত পেশ করে, তখন তার মুখমন্ডল মলিন হয়ে যায়। এমতাবস্থায় যে, সে দুঃসহ যাতনাপিষ্ট। দয়াময় আল্লাহর প্রতি তারা যা আরোপ করে তাদের কেহকে সেই সন্তানের সংবাদ দেয়া হলে তার মুখমন্ডল কালো হয়ে যায় এবং সে দুঃসহ মর্ম যাতনায় ক্লিষ্ট হয়। তাদের কাউকে যখন সংবাদ দেয়া হয় সেই সন্তানের যা তারা দয়াময় আল্লাহর প্রতি আরোপ করে, তখন তার মুখ মন্ডলে কালিমা ছেয়ে যায়, আর মন দুঃখ বেদনায় ভরে যায়। وَ اِذَا بُشِّرَ اَحَدُهُمْ بِمَا ضَرَبَ لِلرَّحْمٰنِ مَثَلًا ظَلَّ وَجْهُهٗ مُسْوَدًّا وَّ هُوَ كَظِیْمٌ﴿١٧ ﴾
18 আর যে অলংকারে লালিত পালিত হয়; এবং বিতর্ককালে সুস্পষ্ট বক্তব্য প্রদানে অক্ষম। তারা কি আল্লাহর প্রতি আরোপ করে এমন সন্তান, যে অলংকারে আবৃত হয়ে লালিত পালিত হয় এবং তর্ক-বিতর্ক কালে স্পষ্ট বক্তব্যে অসমর্থ? তারা কি আল্লাহর জন্য নির্ধারিত করে এমন সন্তান যে অলংকারে লালিত পালিত হয়, আর বিতর্ককালে বক্তব্যকে স্পষ্ট করতে অসমর্থ? اَوَ مَنْ یُّنَشَّؤُا فِی الْحِلْیَةِ وَ هُوَ فِی الْخِصَامِ غَیْرُ مُبِیْنٍ﴿١٨ ﴾
19 আর তারা গণ্য করেছে রহমানের বান্দা ফেরেশতাদেরকে নারী। তারা কি তাদের সৃষ্টি প্রত্যক্ষ করেছে? তাদের সাক্ষ্য অবশ্যই লিখে রাখা হবে এবং তাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। তারা দয়াময় আল্লাহর বান্দা মালাইকাকে নারী গন্য করেছে। এদের সৃষ্টি কি তারা প্রত্যক্ষ করেছিল? তাদের উক্তি লিপিবদ্ধ করা হবে এবং তাদেরকে জিজ্ঞেস করা হবে। তারা দয়াময়ের বান্দাহ্ ফেরেশতাদেরকে নারী গণ্য করে। তারা কি ফেরেশতাদেরকে সৃষ্টি সরাসরি দেখেছে? তাদের সাক্ষ্য লিখে রাখা হবে এবং তারা জিজ্ঞাসিত হবে। وَ جَعَلُوا الْمَلٰٓىِٕكَةَ الَّذِیْنَ هُمْ عِبٰدُ الرَّحْمٰنِ اِنَاثًا ؕ اَشَهِدُوْا خَلْقَهُمْ ؕ سَتُكْتَبُ شَهَادَتُهُمْ وَ یُسْـَٔلُوْنَ﴿١٩ ﴾
20 তারা আর বলে, ‘পরম করুণাময় আল্লাহ ইচ্ছা করলে আমরা এদের ইবাদাত করতাম না’, এ বিষয়ে তাদের কোন জ্ঞান নেই। তারা শুধু মনগড়া কথা বলছে। তারা বলেঃ দয়াময় আল্লাহ ইচ্ছা করলে আমরা এদের পূজা করতামনা। এ বিষয়ে তাদের কোন জ্ঞান নেই; তারাতো শুধু মিথ্যাই বলছে। তারা আরো বলে- দয়াময় আল্লাহ ইচ্ছে করলে আমরা ওদের পূঁজা করতাম না। এ বিষয়ে তাদের কোন জ্ঞানই নেই। তারা শুধু আন্দাজ অনুমানে কথা বলে। وَ قَالُوْا لَوْ شَآءَ الرَّحْمٰنُ مَا عَبَدْنٰهُمْ ؕ مَا لَهُمْ بِذٰلِكَ مِنْ عِلْمٍ ۗ اِنْ هُمْ اِلَّا یَخْرُصُوْنَؕ﴿٢٠ ﴾
21 আমি কি তাদেরকে কুরআনের পূর্বে কোন কিতাব দিয়েছি, অতঃপর তারা তা দৃঢ়ভাবে ধারণ করে আছে? আমি কি তাদেরকে কুরআনের পূর্বে কোন কিতাব দান করেছি, যা তারা দৃঢ়ভাবে ধারণ করে আছে? আমি কি তাদেরকে এর (অর্থাৎ কুরআনের) আগে কোন কিতাব দিয়েছি অতঃপর তারা তা অাঁকড়ে ধরে আছে? اَمْ اٰتَیْنٰهُمْ كِتٰبًا مِّنْ قَبْلِهٖ فَهُمْ بِهٖ مُسْتَمْسِكُوْنَ﴿٢١ ﴾
22 বরং তারা বলে, ‘আমরা নিশ্চয় আমাদের পিতৃপুরুষদেরকে এক মতাদর্শের উপর পেয়েছি, আর নিশ্চয় আমরা তাদের পদাঙ্ক অনুসরণে হিদায়াতপ্রাপ্ত হব’। বরং তারা বলেঃ আমরাতো আমাদের পূর্ব পুরুষদেরকে পেয়েছি এক মতাদর্শের অনুসারী এবং আমরা তাদেরই পদাঙ্ক অনুসরণ করছি। বরং তারা বলে- আমরা আমাদের পূর্ব পুরুষদেরকে এক ধর্মমত পালনরত পেয়েছি আর আমরা তাদের পদাঙ্ক অনুসরণ করে পথপ্রাপ্ত হয়েছি। بَلْ قَالُوْۤا اِنَّا وَجَدْنَاۤ اٰبَآءَنَا عَلٰۤی اُمَّةٍ وَّ اِنَّا عَلٰۤی اٰثٰرِهِمْ مُّهْتَدُوْنَ﴿٢٢ ﴾
23 আর এভাবেই তোমাদের পূর্বে যখনই আমি কোন জনপদে সতর্ককারী পাঠিয়েছি, তখনই সেখানকার বিলাসপ্রিয়রা বলেছে, ‘নিশ্চয় আমরা আমাদের পিতৃপুরুষদেরকে এক মতাদর্শের উপর পেয়েছি এবং নিশ্চয় আমরা তাদের পদাঙ্ক অনুসরণ করব’। এভাবে তোমার পূর্বে কোন জনপদে যখনই কোন সতর্ককারী প্রেরণ করেছি তখন ওর সমৃদ্ধশালী ব্যক্তিরা বলতঃ আমরাতো আমাদের পূর্ব-পুরুষদেরকে পেয়েছি এক মতাদর্শের অনুসারী এবং আমরা তাদেরই পদাঙ্ক অনুসরণ করছি। এভাবে তোমার পূর্বে যখনই আমি কোন জনপদে সতর্ককারী (নবী-রসূল) পাঠিয়েছি, তখনই তাদের সম্পদশালী লোকেরা বলেছে- আমরা আমাদের পূর্বপুরুষদেরকে এক ধর্মমত পালনরত পেয়েছি আর আমরা তাদেরই পদাঙ্ক অনুসরণ করছি। وَ كَذٰلِكَ مَاۤ اَرْسَلْنَا مِنْ قَبْلِكَ فِیْ قَرْیَةٍ مِّنْ نَّذِیْرٍ اِلَّا قَالَ مُتْرَفُوْهَاۤ ۙ اِنَّا وَجَدْنَاۤ اٰبَآءَنَا عَلٰۤی اُمَّةٍ وَّ اِنَّا عَلٰۤی اٰثٰرِهِمْ مُّقْتَدُوْنَ﴿٢٣ ﴾
24 তখন সে (সতর্ককারী) বলেছে, ‘তোমরা তোমাদের পিতৃপুরুষদেরকে যে মতাদর্শে পেয়েছ, আমি যদি তোমাদের কাছে তার চেয়ে উৎকৃষ্ট পথে নিয়ে আসি তবুও কি’? (তোমরা তাদের অনুসরণ করবে?) তারা বলেছে, ‘নিশ্চয় তোমাদেরকে যা দিয়ে পাঠানো হয়েছে আমরা তার অস্বীকারকারী’। সেই সতর্ককারী বলতঃ তোমরা তোমাদের পূর্ব-পুরুষদেরকে যে পথে পেয়েছ, আমি যদি তোমাদের জন্য তদপেক্ষা উৎকৃষ্ট পথ-নির্দেশ আনয়ন করি তাহলেও কি তোমরা তাদের পদাঙ্ক অনুসরণ করবে? তারা বলতঃ তোমরা যা সহ প্রেরিত হয়েছ আমরা তা প্রত্যাখ্যান করি। তখন সেই সতর্ককারী বলত- তোমরা তোমাদের পিতৃপুরুষকে যে ধর্মমতের উপর পেয়েছ, আমি যদি তোমাদের কাছে তার চেয়ে উৎকৃষ্ট ধর্মমত নিয়ে আসি (তবুও কি তোমরা তাদেরই অনুসরণ করবে)? তারা বলতঃ তোমাদেরকে যা দিয়ে পাঠানো হয়েছে আমরা তা প্রত্যাখ্যান করি। قٰلَ اَوَ لَوْ جِئْتُكُمْ بِاَهْدٰی مِمَّا وَجَدْتُّمْ عَلَیْهِ اٰبَآءَكُمْ ؕ قَالُوْۤا اِنَّا بِمَاۤ اُرْسِلْتُمْ بِهٖ كٰفِرُوْنَ﴿٢٤ ﴾
25 ফলে আমি তাদের থেকে প্রতিশোধ নিলাম। অতএব দেখ, মিথ্যারোপকারীদের পরিণতি কেমন হয়েছিল? অতঃপর আমি তাদেরকে তাদের কর্মের প্রতিফল দিলাম; দেখ, মিথ্যাচারীদের পরিণাম কি হয়েছে! অতঃপর আমি তাদের উপর প্রতিশোধ গ্রহণ করলাম, এখন দেখ, মিথ্যুকদের পরিণতি কী হয়েছিল। فَانْتَقَمْنَا مِنْهُمْ فَانْظُرْ كَیْفَ كَانَ عَاقِبَةُ الْمُكَذِّبِیْنَ﴿٢٥ ﴾
26 আর স্মরণ কর, যখন ইবরাহীম স্বীয় পিতা ও তার কওমকে বলেছিল, ‘তোমরা যেগুলোর ইবাদাত কর, নিশ্চয় আমি তাদের থেকে সম্পর্কমুক্ত’। স্মরণ কর, ইবরাহীম তার পিতা এবং সম্প্রদায়কে বলেছিলঃ তোমরা যাদের পূজা কর তাদের সাথে আমার কোন সম্পর্ক নেই। স্মরণ কর, ইবরাহীম (আ.) যখন তার পিতাকে ও তার জাতিকে বলেছিল- তোমরা যেগুলোর পূজা কর, সেগুলো থেকে আমি সম্পর্কহীন। وَ اِذْ قَالَ اِبْرٰهِیْمُ لِاَبِیْهِ وَ قَوْمِهٖۤ اِنَّنِیْ بَرَآءٌ مِّمَّا تَعْبُدُوْنَۙ﴿٢٦ ﴾
27 ‘তবে (তিনি ছাড়া) যিনি আমাকে সৃষ্টি করেছেন। অতঃপর নিশ্চয় তিনি আমাকে শীঘ্রই হিদায়াত দিবেন।’ সম্পর্ক আছে শুধু তাঁরই সাথে যিনি আমাকে সৃষ্টি করেছেন এবং তিনিই আমাকে সৎ পথে পরিচালিত করবেন। আমার সম্পর্ক আছে শুধু তাঁর সাথে যিনি আমাকে সৃষ্টি করেছেন, তিনিই আমাকে সঠিক পথ দেখাবেন। اِلَّا الَّذِیْ فَطَرَنِیْ فَاِنَّهٗ سَیَهْدِیْنِ﴿٢٧ ﴾
28 আর এটিকে সে তার উত্তরসূরীদের মধ্যে এক চিরন্তন বাণী বানিয়ে রেখে গেল, যাতে তারা প্রত্যাবর্তন করতে পারে। এই ঘোষণাকে সে স্থায়ী বাণী রূপে রেখে গেছে তার পরবর্তীদের জন্য যাতে তারা প্রত্যাবর্তন করে। এ কথাটিকে সে স্থায়ী বাণীরূপে তার পরবর্তীদের মধ্যে রেখে গেছে, যাতে তারা (আল্লাহর পথে) ফিরে আসে। وَ جَعَلَهَا كَلِمَةًۢ بَاقِیَةً فِیْ عَقِبِهٖ لَعَلَّهُمْ یَرْجِعُوْنَ﴿٢٨ ﴾
29 বরং তাদের কাছে সত্য ও স্পষ্ট বর্ণনাকারী রাসূল আগমন না করা পর্যন্ত আমি তাদের এবং তাদের পিতৃপুরুষদের ভোগ করার সুযোগ দিয়েছিলাম। বরং আমিই তাদেরকে এবং তাদের পূর্ব-পুরুষদেরকে সুযোগ দিয়েছিলাম ভোগের; অবশেষে তাদের নিকট এলো সত্য ও স্পষ্ট প্রচারক রাসূল। হ্যাঁ, আমিই তাদেরকে আর তাদের পূর্বপুরুষকে ভোগের সামগ্রী দিয়েছিলাম। অবশেষে তাদের কাছে আসলো সত্য এবং সবকিছু স্পষ্টকারী রসূল। بَلْ مَتَّعْتُ هٰۤؤُلَآءِ وَ اٰبَآءَهُمْ حَتّٰی جَآءَهُمُ الْحَقُّ وَ رَسُوْلٌ مُّبِیْنٌ﴿٢٩ ﴾
30 অথচ যখন সত্য তাদের কাছে আসল তখন তারা বলল, ‘এতো যাদু এবং নিশ্চয় আমরা তা অস্বীকার করছি।’ যখন তাদের নিকট সত্য এলো তখন তারা বললঃ এটাতো যাদু এবং আমরা এটা প্রত্যাখ্যান করি। সত্য যখন তাদের কাছে আসল তখন তারা বলল- এটা যাদু, আমরা এটা মানি না। وَ لَمَّا جَآءَهُمُ الْحَقُّ قَالُوْا هٰذَا سِحْرٌ وَّ اِنَّا بِهٖ كٰفِرُوْنَ﴿٣٠ ﴾
31 আর তারা বলল, ‘এ কুরআন কেন দুই জনপদের মধ্যকার কোন মহান ব্যক্তির উপর নাযিল করা হল না’?। এবং তারা বলেঃ এই কুরআন কেন অবতীর্ণ করা হলনা দুই জনপদের কোন প্রতিপত্তিশালী ব্যক্তির উপর? তারা বলল- এ কুরআন (মক্কা ও তায়েফ এ) দু’ জনপদের কোন গণ্যমান্য ব্যক্তির উপর কেন অবতীর্ণ হল না? وَ قَالُوْا لَوْ لَا نُزِّلَ هٰذَا الْقُرْاٰنُ عَلٰی رَجُلٍ مِّنَ الْقَرْیَتَیْنِ عَظِیْمٍ﴿٣١ ﴾
32 তারা কি তোমার রবের রহমত ভাগ-বণ্টন করে? আমিই দুনিয়ার জীবনে তাদের মধ্যে তাদের জীবিকা বণ্টন করে দেই এবং তাদের একজনকে অপর জনের উপর মর্যাদায় উন্নীত করি যাতে একে অপরকে অধিনস্থ হিসেবে গ্রহণ করতে পারে। আর তারা যা সঞ্চয় করে তোমার রবের রহমত তা অপেক্ষা উৎকৃষ্ট। তারা কি তোমার রবের করুণা বন্টন করে? আমিই তাদের মধ্যে জীবিকা বন্টন করি তাদের পার্থিব জীবনে এবং একজনকে অপরের উপর মর্যাদায় উন্নীত করি যাতে একে অপরের দ্বারা কাজ করিয়ে নিতে পারে; এবং তারা যা জমা করে তা হতে তোমার রবের অনুগ্রহ উৎকৃষ্টতর। তোমার প্রতিপালকের রহমত কি তারা বণ্টন করে (যে তাদের মর্জিমত কুরআন নাযিল করতে হবে)? তাদের মাঝে তাদের জীবিকা আমিই বণ্টন করেছি পার্থিব জীবনে এবং মর্যাদায় এককে অন্যের উপর উন্নত করি যাতে একে অপরের সহায়তায় গ্রহণ করতে পারে। তারা যা সঞ্চয় করে, তোমার প্রতিপালকের রহমত তাত্থেকে উত্তম اَهُمْ یَقْسِمُوْنَ رَحْمَتَ رَبِّكَ ؕ نَحْنُ قَسَمْنَا بَیْنَهُمْ مَّعِیْشَتَهُمْ فِی الْحَیٰوةِ الدُّنْیَا وَ رَفَعْنَا بَعْضَهُمْ فَوْقَ بَعْضٍ دَرَجٰتٍ لِّیَتَّخِذَ بَعْضُهُمْ بَعْضًا سُخْرِیًّا ؕ وَ رَحْمَتُ رَبِّكَ خَیْرٌ مِّمَّا یَجْمَعُوْنَ﴿٣٢ ﴾
33 যদি সব মানুষ একই জাতিতে পরিণত হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা না থাকত, তবে যারা পরম করুণাময়ের প্রতি কুফরী করে আমি তাদের গৃহসমূহের জন্য রৌপ্যনির্মিত ছাদ ও ঊর্ধ্বে আরোহণের সিঁড়ি তৈরী করে দিতাম। সত্য প্রত্যাখ্যানে মানুষ এক মতাবলম্বী হয়ে পড়বে, এই আশংকা না থাকলে দয়াময় আল্লাহকে যারা অস্বীকার করে তাদেরকে আমি দিতাম তাদের গৃহের জন্য রৌপ্য নির্মিত ছাদ ও সিড়ি যাতে তারা আরোহণ করে। (সত্যকে অস্বীকার ক’রে) সব এক জাতিতে পরিণত হবে এ আশঙ্কা না থাকলে যারা দয়াময় আল্লাহকে অস্বীকার করে তাদেরকে অবশ্যই দিতাম তাদের গৃহের জন্য রৌপ্য নির্মিত ছাদ আর সিঁড়ি যাতে তারা আরোহণ করত। وَ لَوْ لَاۤ اَنْ یَّكُوْنَ النَّاسُ اُمَّةً وَّاحِدَةً لَّجَعَلْنَا لِمَنْ یَّكْفُرُ بِالرَّحْمٰنِ لِبُیُوْتِهِمْ سُقُفًا مِّنْ فِضَّةٍ وَّ مَعَارِجَ عَلَیْهَا یَظْهَرُوْنَۙ﴿٣٣ ﴾
34 আর তাদের গৃহসমূহের জন্য দরজা ও পালঙ্ক, যাতে তারা হেলান দেয়। এবং তাদের গৃহের জন্য দিতাম রৌপ্য নির্মিত দরজা, বিশ্রামের জন্য পালঙ্ক যাতে তারা হেলান দিয়ে বসত। আর তাদের গৃহের জন্য দিতাম দরজা ও পালঙ্ক যাতে তারা হেলান দিয়ে বসত। وَ لِبُیُوْتِهِمْ اَبْوَابًا وَّ سُرُرًا عَلَیْهَا یَتَّكِـُٔوْنَۙ﴿٣٤ ﴾
35 আর তাদের জন্য স্বর্ণনির্মিত এর সব কয়টিই দুনিয়ার জীবনের ভোগ-সামগ্রী। আর আখিরাত তো তোমার রবের কাছে মুত্তাকীদের জন্য । এবং স্বর্ণের নির্মিতও। আর এই সবইতো শুধু পার্থিব জীবনের ভোগ সম্ভার। মুত্তাকীদের জন্য তোমার রবের নিকট রয়েছে আখিরাতের কল্যাণ। আর স্বর্ণ নির্মিতও দিতাম। এগুলো সবই তো পার্থিব জীবনের ভোগ্য সামগ্রী মাত্র। আর আখিরাত তোমার প্রতিপালকের কাছে তাদেরই জন্য যারা (আল্লাহকে) ভয় করে। وَ زُخْرُفًا ؕ وَ اِنْ كُلُّ ذٰلِكَ لَمَّا مَتَاعُ الْحَیٰوةِ الدُّنْیَا ؕ وَ الْاٰخِرَةُ عِنْدَ رَبِّكَ لِلْمُتَّقِیْنَ﴿٣٥ ﴾
36 আর যে পরম করুণাময়ের যিকির থেকে বিমুখ থাকে আমি তার জন্য এক শয়তানকে নিয়োজিত করি, ফলে সে হয়ে যায় তার সঙ্গী। যে ব্যক্তি দয়াময় আল্লাহর স্মরণে বিমুখ হয় আমি তার জন্য নিয়োজিত করি এক শাইতান, অতঃপর সে হয় তার সহচর। যে ব্যক্তি দয়াময় আল্লাহর স্মরণ থেকে নিজেকে ফিরিয়ে নেয়, আমি তার জন্য শয়ত্বানকে নিয়োজিত করি, অতঃপর সে হয় তার ঘনিষ্ঠ সহচর। وَ مَنْ یَّعْشُ عَنْ ذِكْرِ الرَّحْمٰنِ نُقَیِّضْ لَهٗ شَیْطٰنًا فَهُوَ لَهٗ قَرِیْنٌ﴿٣٦ ﴾
37 আর নিশ্চয় তারাই (শয়তান) মানুষদেরকে আল্লাহর পথ থেকে বাধা দেয়। অথচ মানুষ মনে করে তারা হিদায়াতপ্রাপ্ত। শাইতানরাই মানুষকে সৎ পথ হতে বিরত রাখে, অথচ মানুষ মনে করে যে, তারা সৎ পথে পরিচালিত হচ্ছে। তারাই মানুষকে সৎপথে চলতে অবশ্যই বাধা দেয়, আর মানুষ মনে করে যে, তারা সঠিক পথে রয়েছে। وَ اِنَّهُمْ لَیَصُدُّوْنَهُمْ عَنِ السَّبِیْلِ وَ یَحْسَبُوْنَ اَنَّهُمْ مُّهْتَدُوْنَ﴿٣٧ ﴾
38 অবশেষে যখন সে আমার নিকট আসবে তখন সে [তার শয়তান সংগীকে উদ্দেশ্য করে] বলবে, ‘হায়, আমার ও তোমার মধ্যে যদি পূর্ব-পশ্চিমের ব্যবধান থাকত’ সুতরাং কতইনা নিকৃষ্ট সে সঙ্গী! অবশেষে যখন সে আমার নিকট উপস্থিত হবে তখন সে শাইতানকে বলবেঃ হায়! আমার ও তোমার মধ্যে যদি পূর্ব ও পশ্চিমের ব্যবধান থাকত! কত নিকৃষ্ট সহচর সে! অবশেষে সে যখন আমার কাছে আসবে, তখন শয়ত্বানকে বলবে, হায়! আমার ও তোমার মাঝে যদি পূর্ব ও পশ্চিমের ব্যবধান থাকত! কতই না নিকৃষ্ট সহচর সে! حَتّٰۤی اِذَا جَآءَنَا قَالَ یٰلَیْتَ بَیْنِیْ وَ بَیْنَكَ بُعْدَ الْمَشْرِقَیْنِ فَبِئْسَ الْقَرِیْنُ﴿٣٨ ﴾
39 আর আজ তা [তোমাদের এই অনুতাপ] তোমাদের কোন উপকারেই আসবে না। যেহেতু তোমরা যুলম করেছিলে। নিশ্চয় তোমরা আযাবে পরস্পর অংশীদার হয়ে থাকবে। যেহেতু তোমরা সীমালংঘন করেছিলে, তাই আজ তোমাদের এই অনুতাপ তোমাদের কোন কাজে আসবে না, তোমরা তো সবাই শাস্তিতে শরীক। তোমাদের হা-হুতাশ আজ তোমাদের কোন কাজে আসবে না যেহেতু তোমরা সীমালঙ্ঘন করেছিলে। তোমরা হবে শাস্তির অংশীদার। وَ لَنْ یَّنْفَعَكُمُ الْیَوْمَ اِذْ ظَّلَمْتُمْ اَنَّكُمْ فِی الْعَذَابِ مُشْتَرِكُوْنَ﴿٣٩ ﴾
40 তুমি কি বধিরকে শুনাতে পারবে অথবা হিদায়াত করতে পারবে অন্ধকে এবং তাকে যে স্পষ্ট পথভ্রষ্টতায় রয়েছে? তুমি কি শোনাতে পারবে বধিরকে? অথবা যে অন্ধ এবং যে ব্যক্তি স্পষ্ট বিভ্রান্তিতে আছে তাকে কি পারবে সৎ পথে পরিচালিত করতে? তুমি কি বধিরকে শুনাতে পারবে অথবা যে অন্ধ আর যে আছে সুস্পষ্ট পথভ্রষ্টের মধ্যে তাকে সৎপথ দেখাতে পারবে? اَفَاَنْتَ تُسْمِعُ الصُّمَّ اَوْ تَهْدِی الْعُمْیَ وَ مَنْ كَانَ فِیْ ضَلٰلٍ مُّبِیْنٍ﴿٤٠ ﴾
41 অতঃপর যদি আমি তোমাকে নিয়ে যাই, তবে নিশ্চয় আমি তাদের থেকে প্রতিশোধ গ্রহণ করব। আমি যদি তোমার মৃত্যু ঘটাই, তবুও আমি তাদেরকে শাস্তি দিব। আমি যদি তোমাকে (দুনিয়া থেকে) নিয়েও যাই, তবু আমি তাদের কাছ থেকে প্রতিশোধ গ্রহণ করব। فَاِمَّا نَذْهَبَنَّ بِكَ فَاِنَّا مِنْهُمْ مُّنْتَقِمُوْنَۙ﴿٤١ ﴾
42 অথবা আমি তাদের যে শাস্তির ওয়াদা দিয়েছি তা যদি তোমাকে প্রত্যক্ষ করাই, তবে নিশ্চয় আমি তাদের উপর পূর্ণ ক্ষমতাবান থাকব। অথবা আমি তাদেরকে যে শাস্তির ভীতি প্রদর্শন করেছি যদি আমি তোমাকে তা প্রত্যক্ষ করাই তাহলে তাদের উপর আমার পূর্ণ ক্ষমতা রয়েছে। অথবা আমি তাদেরকে যে ‘আযাবের ও‘য়াদা দিয়েছি তা যদি তোমাকে দেখিয়ে দেই (আমার পক্ষে সবই সম্ভব), কারণ তাদের উপর আমার পূর্ণ ক্ষমতা আছে। اَوْ نُرِیَنَّكَ الَّذِیْ وَعَدْنٰهُمْ فَاِنَّا عَلَیْهِمْ مُّقْتَدِرُوْنَ﴿٤٢ ﴾
43 অতএব তোমার প্রতি যা ওহী করা হয়েছে তাকে তুমি সুদৃঢ়ভাবে ধারণ কর। নিশ্চয় তুমি সরল পথের উপর রয়েছ। সুতরাং তোমার প্রতি যা অহী করা হয়েছে তা দৃঢ়ভাবে অবলম্বন কর। তুমি সরল পথেই রয়েছ। কাজেই তোমার প্রতি যা ওয়াহী করা হয় তুমি তা দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধর, কেননা তুমি তো আছ সরল সঠিক পথে। فَاسْتَمْسِكْ بِالَّذِیْۤ اُوْحِیَ اِلَیْكَ ۚ اِنَّكَ عَلٰی صِرَاطٍ مُّسْتَقِیْمٍ﴿٤٣ ﴾
44 নিশ্চয় এ কুরআন তোমার জন্য এবং তোমার কওমের জন্য উপদেশ। আর অচিরেই তোমাদেরকে জিজ্ঞাসা করা হবে। নিশ্চয়ই ইহা (কুরআন) তোমার এবং তোমার সম্প্রদায়ের জন্য উপদেশ, তোমাদেরকে অবশ্যই এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হবে। কুরআন হল অবশ্যই তোমার জন্য আর তোমার জাতির জন্য উপদেশ বাণী। আর এ সম্পর্কে অচিরেই তোমাদেরকে জওয়াবদিহি করতে হবে। وَ اِنَّهٗ لَذِكْرٌ لَّكَ وَ لِقَوْمِكَ ۚ وَ سَوْفَ تُسْـَٔلُوْنَ﴿٤٤ ﴾
45 আর তোমার পূর্বে আমি রাসূলগণ থেকে যাদের প্রেরণ করেছিলাম তুমি তাদেরকে জিজ্ঞাসা করে দেখ, আমি কি রহমানের পরিবর্তে অন্য কোন উপাস্য নির্ধারণ করে দিয়েছিলাম, যাদের ইবাদাত করা যাবে? তোমার পূর্বে আমি যে সব রাসূল প্রেরণ করেছিলাম তাদেরকে তুমি জিজ্ঞেস কর, আমি কি দয়াময় আল্লাহ ব্যতীত কোন উপাস্য স্থির করেছিলাম যার ইবাদাত করা যায়? আমি তোমার পূর্বে যে সব রসূল পাঠিয়েছিলাম তাদেরকে জিজ্ঞেস কর (অর্থাৎ তাদের কিতাব দেখ ও তাদের সত্যিকার অনুসারীদের নিকট যাচাই কর) আমি কি দয়াময় আল্লাহ ছাড়া কোন ইলাহ স্থির করেছিলাম যাদের ‘ইবাদাত করতে হবে? وَ سْـَٔلْ مَنْ اَرْسَلْنَا مِنْ قَبْلِكَ مِنْ رُّسُلِنَاۤ اَجَعَلْنَا مِنْ دُوْنِ الرَّحْمٰنِ اٰلِهَةً یُّعْبَدُوْنَ﴿٤٥ ﴾
46 আর অবশ্যই আমি মূসাকে আমার নিদর্শনাবলী দিয়ে ফির‘আউন ও তার নেতৃবর্গের নিকট প্রেরণ করেছিলাম। সে বলেছিল, ‘নিশ্চয় আমি সৃষ্টিকুলের রবের একজন রাসূল’। মূসাকে আমি আমার নিদর্শনসহ ফির‘আউন ও তার পরিষদবর্গের নিকট পাঠিয়েছিলাম; সে বলেছিলঃ আমি জগতসমূহের রবের পক্ষ হতে প্রেরিত রাসূল। আমি মূসাকে আমার নিদর্শনসহ ফেরাউন ও তার প্রধানদের নিকট পাঠিয়েছিলাম। মূসা (আ.) বলেছিল- আমি বিশ্বজগতের প্রতিপালকের রসূল। وَ لَقَدْ اَرْسَلْنَا مُوْسٰی بِاٰیٰتِنَاۤ اِلٰی فِرْعَوْنَ وَ مَلَاۡىِٕهٖ فَقَالَ اِنِّیْ رَسُوْلُ رَبِّ الْعٰلَمِیْنَ﴿٤٦ ﴾
47 অতঃপর যখন সে আমার নিদর্শনাবলী নিয়ে তাদের কাছে আসল, তখন তারা তা নিয়ে হাসি-ঠাট্টা করতে লাগল। সে তাদের নিকট আমার নিদর্শনসহ আসা মাত্র তারা তা নিয়ে হাসি-ঠাট্টা করতে লাগল। যখন সে আমার আয়াতসমূহ নিয়ে তাদের কাছে আসলো, তখন তারা তা নিয়ে হাসি-ঠাট্টা করতে লাগল। فَلَمَّا جَآءَهُمْ بِاٰیٰتِنَاۤ اِذَا هُمْ مِّنْهَا یَضْحَكُوْنَ﴿٤٧ ﴾
48 আমি তাদের যে নিদর্শনই দেখাইনা কেন তা ছিল তার অনুরূপ নিদর্শন অপেক্ষা শ্রেষ্ঠতর। আর আমি তাদেরকে আযাবের মাধ্যমে পাকড়াও করলাম, যাতে তারা ফিরে আসে। আমি তাদেরকে এমন কোন নিদর্শন দেখাইনি যা ওর অনুরূপ নিদর্শন অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ নয়। আমি তাদেরকে শাস্তি দিলাম যাতে তারা প্রত্যাবর্তন করে। আমি তাদেরকে যে নিদর্শনই দেখাতাম তা হত পূর্ববর্তী নিদর্শন থেকে বড়। আমি তাদেরকে শাস্তি দ্বারা পাকড়াও করলাম যাতে তারা (আমার পথে) ফিরে আসে। وَ مَا نُرِیْهِمْ مِّنْ اٰیَةٍ اِلَّا هِیَ اَكْبَرُ مِنْ اُخْتِهَا ؗ وَ اَخَذْنٰهُمْ بِالْعَذَابِ لَعَلَّهُمْ یَرْجِعُوْنَ﴿٤٨ ﴾
49 আর তারা বলল, ‘হে যাদুকর, তোমার রবের কাছে তুমি আমাদের জন্য তাই প্রার্থনা কর, যার ওয়াদা তিনি তোমার সাথে করেছেন। নিশ্চয় আমরা হিদায়াতের পথে আসব।’ তারা বলেছিলঃ হে যাদুকর! তোমার রবের নিকট তুমি আমাদের জন্য তা প্রার্থনা কর যা তিনি তোমার সাথে অংগীকার করেছেন; তাহলে আমরা অবশ্যই সৎ পথ অবলম্বন করব। (শাস্তিতে আক্রান্ত হয়ে) তারা বলেছিল- ওহে যাদুকর! তুমি আমাদের জন্য তোমার প্রতিপালকের কাছে তা চাও যার ও‘য়াদা তিনি তোমার কাছে করেছেন। আমরা অবশ্যই সৎপথে চলব। وَ قَالُوْا یٰۤاَیُّهَ السّٰحِرُ ادْعُ لَنَا رَبَّكَ بِمَا عَهِدَ عِنْدَكَ ۚ اِنَّنَا لَمُهْتَدُوْنَ﴿٤٩ ﴾
50 অতঃপর যখন আমি তাদের থেকে আযাব সরিয়ে নিলাম, তখনই তারা অঙ্গীকার ভঙ্গ করে বসল। অতঃপর যখন আমি তাদের উপর হতে শাস্তি বিদূরিত করলাম তখনই তারা অংগীকার ভংগ করতে লাগল। কিন্তু যখনই আমি তাদের থেকে শাস্তি সরিয়ে দিলাম, তখনই তারা অঙ্গীকার ভঙ্গ করে বসল। فَلَمَّا كَشَفْنَا عَنْهُمُ الْعَذَابَ اِذَا هُمْ یَنْكُثُوْنَ﴿٥٠ ﴾
51 আর ফির‘আউন তার কওমের মধ্যে ঘোষণা দিয়ে বলল, ‘হে আমার কওম, মিসরের রাজত্ব কি আমার নয়? আর এ সব নদ-নদী কি আমার পাদদেশ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে না, তোমরা কি দেখছ না’? ফির‘আউন তার সম্প্রদায়ের মধ্যে এই বলে ঘোষণা করলঃ হে আমার সম্প্রদায়! মিসর রাজ্য কি আমার নয়? এই নদীগুলি আমার পাদদেশে প্রবাহিত, তোমরা কি দেখনা? ফেরাউন তার সম্প্রদায়ের মাঝে ঘোষণা দিল। বলল- হে আমার সম্প্রদায়! মিসরের রাজত্ব কি আমার নয়? আর এ সব নদনদী আমার নীচ দিয়ে বয়ে যাচ্ছে, তোমরা কি তা দেখ না? وَ نَادٰی فِرْعَوْنُ فِیْ قَوْمِهٖ قَالَ یٰقَوْمِ اَلَیْسَ لِیْ مُلْكُ مِصْرَ وَ هٰذِهِ الْاَنْهٰرُ تَجْرِیْ مِنْ تَحْتِیْ ۚ اَفَلَا تُبْصِرُوْنَؕ﴿٥١ ﴾
52 ‘আমি কি এই ব্যক্তি থেকে শ্রেষ্ঠ নই, যে হীন এবং স্পষ্ট বর্ণনা করতে প্রায় অক্ষম’? আমি কি শ্রেষ্ঠ নই এই ব্যক্তি হতে যে হীন এবং স্পষ্ট কথা বলতে অক্ষম? আমি কি এ লোক থেকে শ্রেষ্ঠ নই যে নীচ, যে নিজের কথাটিও স্পষ্ট করে বলতে অক্ষম! اَمْ اَنَا خَیْرٌ مِّنْ هٰذَا الَّذِیْ هُوَ مَهِیْنٌ ۙ۬ وَّ لَا یَكَادُ یُبِیْنُ﴿٥٢ ﴾
53 ‘তবে তাকে কেন স্বর্ণবলয় প্রদান করা হল না অথবা দলবদ্ধভাবে ফেরেশতাগণ তার সাথে কেন আসল না?’ মূসাকে কেন দেয়া হল না স্বর্ণ বলয়, অথবা তার সাথে কেন এলো না মালাইকা/ফেরেশতা দলবদ্ধভাবে? (সে যদি আল্লাহর রসূলই হয়ে থাকে) তাহলে তাঁকে কেন স্বর্ণ কঙ্কন দেয়া হল না? অথবা সারিবদ্ধভাবে ফেরেশতারা কেন তার সাথে আসল না? فَلَوْ لَاۤ اُلْقِیَ عَلَیْهِ اَسْوِرَةٌ مِّنْ ذَهَبٍ اَوْ جَآءَ مَعَهُ الْمَلٰٓىِٕكَةُ مُقْتَرِنِیْنَ﴿٥٣ ﴾
54 এভাবেই সে তার কওমকে বোকা বানালো, ফলে তারা তার আনুগত্য করল। নিশ্চয় তারা ছিল এক ফাসিক কওম। এভাবে সে তার সম্প্রদায়কে হতবুদ্ধি করে দিল। ফলে তারা তার কথা মেনে নিল। তারাতো ছিল এক সত্যত্যাগী সম্প্রদায়। এভাবে সে তার জাতির লোকেদের বোকা বানিয়ে দিল। ফলে তারা তার কথা মেনে নিল। তারা ছিল এক পাপাচারী সম্প্রদায়। فَاسْتَخَفَّ قَوْمَهٗ فَاَطَاعُوْهُ ؕ اِنَّهُمْ كَانُوْا قَوْمًا فٰسِقِیْنَ﴿٥٤ ﴾
55 তারপর যখন তারা আমাকে ক্রোধান্বিত করল, তখন আমি তাদের থেকে প্রতিশোধ গ্রহণ করলাম এবং তাদের সকলকে নিমজ্জিত করে দিলাম। যখন তারা আমাকে ক্রোধান্বিত করল তখন আমি তাদেরকে শাস্তি দিলাম এবং নিমজ্জিত করলাম তাদের সবাইকে। তারা যখন আমাকে রাগান্বিত করল, তখন আমি তাদের উপর প্রতিশোধ নিলাম, অতঃপর সব্বাইকে ডুবিয়ে মারলাম। فَلَمَّاۤ اٰسَفُوْنَا انْتَقَمْنَا مِنْهُمْ فَاَغْرَقْنٰهُمْ اَجْمَعِیْنَۙ﴿٥٥ ﴾
56 ফলে আমি তাদেরকে পরবর্তীদের জন্য অতীত ইতিহাস ও দৃষ্টান্ত বানালাম। অতঃপর পরবর্তীদের জন্য আমি তাদেরকে করে রাখলাম অতীত ইতিহাস ও দৃষ্টান্ত। এভাবে আমি তাদেরকে করলাম অতীতের মানুষ আর পরবর্তীদের জন্য দৃষ্টান্ত। فَجَعَلْنٰهُمْ سَلَفًا وَّ مَثَلًا لِّلْاٰخِرِیْنَ﴿٥٦ ﴾
57 আর যখনই মারইয়াম পুত্রকে দৃষ্টান্তস্বরূপ পেশ করা হয়, তখন তোমার কওম শোরগোল শুরু করে দেয়। যখন মারইয়াম তনয়ের দৃষ্টান্ত উপস্থিত করা হয় তখন তোমার সম্প্রদায় শোরগোল শুরু করে দেয়। যখন মারইয়াম-পুত্র ‘ঈসার দৃষ্টান্ত তুলে ধরা হয়, তখন তোমার জাতির লোকেরা হট্টগোল শুরু করে দেয়, وَ لَمَّا ضُرِبَ ابْنُ مَرْیَمَ مَثَلًا اِذَا قَوْمُكَ مِنْهُ یَصِدُّوْنَ﴿٥٧ ﴾
58 আর তারা বলে, ‘আমাদের উপাস্যরা শ্রেষ্ঠ নাকি ঈসা’? তারা কেবল কূটতর্কের খাতিরেই তাকে তোমার সামনে পেশ করে। বরং এরাই এক ঝগড়াটে সম্প্রদায়। এবং বলেঃ আমাদের দেবতাগুলি শ্রেষ্ঠ, না ঈসা? তারা শুধু বাক-বিতন্ডার উদ্দেশেই তোমাকে এ কথা বলে। বস্তুতঃ তারাতো শুধু বাক-বিতন্ডাকারী সম্প্রদায়। এবং বলে আমাদের উপাস্যরা উত্তম না ‘ঈসা? (কারণ খৃস্টানরা ‘ঈসাকে উপাস্য বানিয়েছে আর আমরা মক্কাবাসীরা উপাস্য বানিয়েছি অন্যদেরকে)। তারা শুধু বিতর্ক সৃষ্টির উদ্দেশেই তোমার সামনে এ দৃষ্টান্ত পেশ করে। আসলে তারা হল এক ঝগড়াটে জাতি। وَ قَالُوْۤا ءَاٰلِهَتُنَا خَیْرٌ اَمْ هُوَ ؕ مَا ضَرَبُوْهُ لَكَ اِلَّا جَدَلًا ؕ بَلْ هُمْ قَوْمٌ خَصِمُوْنَ﴿٥٨ ﴾
59 সে কেবল আমার এক বান্দা। আমি তার উপর অনুগ্রহ করেছিলাম এবং বনী ইসরাঈলের জন্য তাকে দৃষ্টান্ত বানিয়েছিলাম। সেতো ছিল আমারই এক বান্দা, যাকে আমি অনুগ্রহ করেছিলাম এবং করেছিলাম বানী ইসরাঈলের জন্য দৃষ্টান্ত। মারইয়াম-পুত্র তো শুধু একজন বান্দাহ যার প্রতি আমি অনুগ্রহ করেছিলাম আর বানী ইসরাঈলের জন্য আমি তাকে করেছিলাম (আমার কুদরাতের বিশেষ এক) নমুনা। اِنْ هُوَ اِلَّا عَبْدٌ اَنْعَمْنَا عَلَیْهِ وَ جَعَلْنٰهُ مَثَلًا لِّبَنِیْۤ اِسْرَآءِیْلَؕ﴿٥٩ ﴾
60 আর যদি আমি চাইতাম, তবে আমি তোমাদের পরিবর্তে ফেরেশতা সৃষ্টি করে পাঠাতাম যারা যমীনে তোমাদের উত্তরাধিকার হত। আমি ইচ্ছা করলে তোমাদের মধ্য হতে মালাইকা/ফেরেশতা সৃষ্টি করতে পারতাম, যারা পৃথিবীতে উত্তরাধিকারী হত। আমি ইচ্ছে করলে তোমাদের মধ্য হতে ফেরেশতা পয়দা করতে পারি যারা পর পর উত্তরাধিকারী হবে। وَ لَوْ نَشَآءُ لَجَعَلْنَا مِنْكُمْ مَّلٰٓىِٕكَةً فِی الْاَرْضِ یَخْلُفُوْنَ﴿٦٠ ﴾
61 আর নিশ্চয় সে (ঈসা) হবে কিয়ামতের এক সুনিশ্চিত আলামত। সুতরাং তোমরা কিয়ামত সম্পর্কে সংশয় পোষণ করো না। তোমরা আমারই অনুসরণ কর। এটিই সরল পথ। ঈসাতো কিয়ামাতের নিদর্শন; সুতরাং তোমরা কিয়ামাতে সন্দেহ পোষণ করনা এবং আমাকে অনুসরণ কর। এটাই সরল পথ। ‘ঈসা (’র দুনিয়াতে পুনরায় আগমন) ক্বিয়ামতের একটি নিশ্চিত নিদর্শন। অতএব তোমরা ক্বিয়ামতে সন্দেহ পোষণ করো না আর আমার অনুসরণ কর, এটাই সরল সঠিক পথ। وَ اِنَّهٗ لَعِلْمٌ لِّلسَّاعَةِ فَلَا تَمْتَرُنَّ بِهَا وَ اتَّبِعُوْنِ ؕ هٰذَا صِرَاطٌ مُّسْتَقِیْمٌ﴿٦١ ﴾
62 শয়তান যেন তোমাদের কিছুতেই বাধা দিতে না পারে। নিশ্চয় সে তোমাদের প্রকাশ্য শত্রু। শাইতান যেন তোমাদেরকে কিছুতেই নিবৃত্ত না করে, সেতো তোমাদের প্রকাশ্য শত্রু। শয়ত্বান তোমাদেরকে (সৎ পথে চলতে) কিছুতেই যেন বাধাগ্রস্ত করতে না পারে, সে তোমাদের খোলাখুলি দুশমন। وَ لَا یَصُدَّنَّكُمُ الشَّیْطٰنُ ۚ اِنَّهٗ لَكُمْ عَدُوٌّ مُّبِیْنٌ﴿٦٢ ﴾
63 আর যখন ঈসা সুস্পষ্ট প্রমাণাদি নিয়ে আসল, তখন সে বলল, ‘আমি অবশ্যই তোমাদের কাছে হিকমত নিয়ে এসেছি এবং এসেছি তোমরা যে কতক বিষয়ে মতবিরোধে লিপ্ত তা স্পষ্ট করে দিতে। অতএব তোমরা আল্লাহকে ভয় কর এবং আমার আনুগত্য কর’। ঈসা যখন স্পষ্ট নিদর্শনসহ এলো তখন সে বললঃ আমিতো তোমাদের নিকট এসেছি প্রজ্ঞাসহ এবং তোমরা যে বিষয়ে মতভেদ করছ তা স্পষ্ট করে দেয়ার জন্য। সুতরাং তোমরা আল্লাহকে ভয় কর এবং আমার অনুসরণ কর। ‘ঈসা যখন স্পষ্ট নিদর্শন নিয়ে এসেছিল তখন সে বলেছিল- আমি তোমাদের কাছে হিকমত নিয়ে এসেছি আর এসেছি কতকগুলো বিষয় স্পষ্ট করার জন্য যাতে তোমরা মতভেদ করছ। কাজেই তোমরা আল্লাহকে ভয় কর, আর আমার কথা মান্য কর। وَ لَمَّا جَآءَ عِیْسٰی بِالْبَیِّنٰتِ قَالَ قَدْ جِئْتُكُمْ بِالْحِكْمَةِ وَ لِاُبَیِّنَ لَكُمْ بَعْضَ الَّذِیْ تَخْتَلِفُوْنَ فِیْهِ ۚ فَاتَّقُوا اللّٰهَ وَ اَطِیْعُوْنِ﴿٦٣ ﴾
64 ‘নিশ্চয় আল্লাহ, তিনিই আমার রব ও তোমাদের রব। অতএব তাঁর ইবাদাত কর; এটিই সরল পথ’। আল্লাহই আমার রাব্ব এবং তোমাদের রাব্ব। অতএব তাঁর ইবাদাত কর; এটাই সরল পথ। আল্লাহ তিনি তো আমারও রবব আর তোমাদেরও রবব, কাজেই তোমরা তাঁরই ‘ইবাদাত কর, এটাই সরল সঠিক পথ। اِنَّ اللّٰهَ هُوَ رَبِّیْ وَ رَبُّكُمْ فَاعْبُدُوْهُ ؕ هٰذَا صِرَاطٌ مُّسْتَقِیْمٌ﴿٦٤ ﴾
65 অতঃপর তাদের মধ্যকার কতগুলি দল মতভেদ করেছিল। সুতরাং যালিমদের জন্য যন্ত্রণাদায়ক দিনের আযাবের দুর্ভোগ! অতঃপর তাদের কতিপয় দল মতানৈক্য সৃষ্টি করল; সুতরাং যালিমদের জন্য দুর্ভোগ, যন্ত্রণাদায়ক দিনের শাস্তির। অতঃপর তাদের বিভিন্ন দল নিজেদের মধ্যে মতানৈক্য করল। কাজেই যালিমদের জন্য যন্ত্রণাদায়ক দিনের ‘আযাবের দুর্ভোগ। فَاخْتَلَفَ الْاَحْزَابُ مِنْۢ بَیْنِهِمْ ۚ فَوَیْلٌ لِّلَّذِیْنَ ظَلَمُوْا مِنْ عَذَابِ یَوْمٍ اَلِیْمٍ﴿٦٥ ﴾
66 তারা তো তাদের অজ্ঞাতসারে অকস্মাৎ কিয়ামত আসার অপেক্ষা করছে। তারাতো তাদের অজ্ঞাতসারে আকস্মিকভাবে কিয়ামাত আসারই অপেক্ষা করছে। তারা কি তাদের উপর ক্বিয়ামত অকস্মাৎ এসে পড়ার অপেক্ষা করছে যা তারা টেরও পাবে না। هَلْ یَنْظُرُوْنَ اِلَّا السَّاعَةَ اَنْ تَاْتِیَهُمْ بَغْتَةً وَّ هُمْ لَا یَشْعُرُوْنَ﴿٦٦ ﴾
67 সেদিন বন্ধুরা একে অন্যের শত্রু হবে, মুত্তাকীরা ছাড়া। বন্ধুরা সেই দিন হয়ে পড়বে একে অপরের শত্রু, তবে মু’মিনরা ব্যতীত। বন্ধুরা সেদিন হয়ে যাবে একজন আরেকজনের দুশমন, তবে মুত্তাকীরা ছাড়া। اَلْاَخِلَّآءُ یَوْمَىِٕذٍۭ بَعْضُهُمْ لِبَعْضٍ عَدُوٌّ اِلَّا الْمُتَّقِیْنَؕ۠﴿٦٧ ﴾
68 হে আমার বান্দাগণ, আজ তোমাদের কোন ভয় নেই এবং তোমরা চিন্তিতও হবে না। হে আমার বান্দাগণ! আজ তোমাদের কোন ভয় নেই এবং দুঃখিতও হবেনা তোমরা – (মুত্তাকীদেরকে বলা হবে) হে আমার বান্দাগণ! আজ তোমাদের কোন ভয় নেই আর তোমরা দুঃখিতও হবে না- یٰعِبَادِ لَا خَوْفٌ عَلَیْكُمُ الْیَوْمَ وَ لَاۤ اَنْتُمْ تَحْزَنُوْنَۚ﴿٦٨ ﴾
69 যারা আমার আয়াতে ঈমান এনেছিল এবং যারা ছিল মুসলিম। যারা আমার আয়াতে বিশ্বাস করেছিল এবং আত্মসমর্পণ করেছিল। তোমরা যারা আমার আয়াতসমূহে বিশ্বাস করেছিলে এবং অনুগত ছিলে। اَلَّذِیْنَ اٰمَنُوْا بِاٰیٰتِنَا وَ كَانُوْا مُسْلِمِیْنَۚ﴿٦٩ ﴾
70 তোমরা সস্ত্রীক সানন্দে জান্নাতে প্রবেশ কর। তোমরা এবং তোমাদের সহধর্মিনীগণ সানন্দে জান্নাতে প্রবেশ কর। সানন্দে জান্নাতে প্রবেশ কর তোমরা আর তোমাদের স্ত্রীরা। اُدْخُلُوا الْجَنَّةَ اَنْتُمْ وَ اَزْوَاجُكُمْ تُحْبَرُوْنَ﴿٧٠ ﴾
71 স্বর্ণখচিত থালা ও পানপাত্র নিয়ে তাদেরকে প্রদক্ষিণ করা হবে, সেখানে মন যা চায় আর যাতে চোখ তৃপ্ত হয় তা-ই থাকবে এবং সেখানে তোমরা হবে স্থায়ী। স্বর্ণের থালা ও পানপাত্র নিয়ে তাদেরকে প্রদক্ষিণ করা হবে; সেখানে রয়েছে সবকিছু, অন্তর যা চায় এবং নয়ন যাতে তৃপ্ত হয়। সেখানে তোমরা স্থায়ী হবে। তাদের কাছে চক্রাকারে পরিবেশন করা হবে স্বর্ণের থালা ও পান পাত্র। সেখানে তা-ই আছে মন যা চাইবে, আর চোখ যাতে তৃপ্ত হবে। তোমরা তাতে চিরকাল থাকবে। یُطَافُ عَلَیْهِمْ بِصِحَافٍ مِّنْ ذَهَبٍ وَّ اَكْوَابٍ ۚ وَ فِیْهَا مَا تَشْتَهِیْهِ الْاَنْفُسُ وَ تَلَذُّ الْاَعْیُنُ ۚ وَ اَنْتُمْ فِیْهَا خٰلِدُوْنَۚ﴿٧١ ﴾
72 আর এটিই জান্নাত, নিজদের আমলের ফলস্বরূপ তোমাদেরকে এর অধিকারী করা হয়েছে। এটাই জান্নাত, তোমাদেরকে যার অধিকারী করা হয়েছে, তোমাদের কর্মের ফল স্বরূপ। এই হল জান্নাত তোমাদেরকে যার উত্তরাধিকারী করা হয়েছে, কারণ তোমরা (সৎ) ‘আমাল করেছিলে। وَ تِلْكَ الْجَنَّةُ الَّتِیْۤ اُوْرِثْتُمُوْهَا بِمَا كُنْتُمْ تَعْمَلُوْنَ﴿٧٢ ﴾
73 সেখানে তোমাদের জন্য রয়েছে অনেক ফলমূল, যা থেকে তোমরা খাবে। সেখানে তোমাদের জন্য রয়েছে প্রচুর ফলমূল, তোমরা আহার করবে তা হতে। তোমাদের জন্য সেখানে আছে প্রচুর ফল যাত্থেকে তোমরা খাবে। لَكُمْ فِیْهَا فَاكِهَةٌ كَثِیْرَةٌ مِّنْهَا تَاْكُلُوْنَ﴿٧٣ ﴾
74 নিশ্চয় অপরাধীরা জাহান্নামের আযাবে স্থায়ী হবে; নিশ্চয়ই অপরাধীরা জাহান্নামের শাস্তিতে থাকবে স্থায়ী। (আর অন্যদিকে) অপরাধীরা জাহান্নামের ‘আযাবে চিরকাল থাকবে। اِنَّ الْمُجْرِمِیْنَ فِیْ عَذَابِ جَهَنَّمَ خٰلِدُوْنَۚۖ﴿٧٤ ﴾
75 তাদের থেকে আযাব কমানো হবে না এবং তাতে তারা হতাশ হয়ে পড়বে। তাদের শাস্তি লাঘব করা হবেনা এবং তারা হতাশ হয়ে পড়বে। তাদের শাস্তি কমানো হবে না, আর তাতে তারা হতাশ হয়ে পড়বে। لَا یُفَتَّرُ عَنْهُمْ وَ هُمْ فِیْهِ مُبْلِسُوْنَۚ﴿٧٥ ﴾
76 আর আমি তাদের উপর যুলম করিনি; কিন্তু তারাই ছিল যালিম। আমি তাদের প্রতি যুলম করিনি, বরং তারা নিজেরাই ছিল যালিম। আমি তাদের উপর যুলম করিনি, বরং তারা নিজেরাই যালিম ছিল। وَ مَا ظَلَمْنٰهُمْ وَ لٰكِنْ كَانُوْا هُمُ الظّٰلِمِیْنَ﴿٧٦ ﴾
77 তারা চিৎকার করে বলবে, ‘হে মালিক, তোমার রব যেন আমাদেরকে শেষ করে দেন’। সে বলবে, ‘নিশ্চয় তোমরা অবস্থানকারী’। তারা চিৎকার করে বলবেঃ হে মালিক (জাহান্নামের অধিকর্তা) তোমার রাব্ব আমাদেরকে নিঃশেষ করে দিন। সে বলবেঃ তোমরা এভাবেই থাকবে। তারা চীৎকার ক’রে বলবে- হে ‘মালেক (জাহান্নামের দাড়োয়ান)! তোমার প্রতিপালক যেন আমাদের দফারফা ক’রে দেন। সে জওয়াব দিবে- ‘তোমরা (এ অবস্থাতেই পড়ে) থাকবে’। وَ نَادَوْا یٰمٰلِكُ لِیَقْضِ عَلَیْنَا رَبُّكَ ؕ قَالَ اِنَّكُمْ مّٰكِثُوْنَ﴿٧٧ ﴾
78 ‘অবশ্যই তোমাদের কাছে আমি সত্য নিয়ে এসেছিলাম; কিন্তু তোমাদের অধিকাংশই ছিলে সত্য অপছন্দকারী*। আল্লাহ বলবেনঃ আমি তোমাদের নিকট সত্য পৌঁছিয়ে ছিলাম, কিন্তু তোমাদের অধিকাংশই ছিলে সত্য বিমুখ। আমি তো তোমাদের কাছে সত্য নিয়ে গিয়েছিলাম, কিন্তু তোমাদের অধিকাংশই ছিলে সত্যকে অপছন্দকারী। لَقَدْ جِئْنٰكُمْ بِالْحَقِّ وَ لٰكِنَّ اَكْثَرَكُمْ لِلْحَقِّ كٰرِهُوْنَ﴿٧٨ ﴾
79 না কি তারা কোন ব্যাপারে পাকা সিদ্ধান্ত নিয়েছে? নিশ্চয় আমি চূড়ান্ত সিদ্ধান্তকারী। তারা কি কোন ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে? আমিই সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী। তারা কি (নিজেদের মধ্যে সলা-পরামর্শ করে কোন) চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে? চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত তো আমিই নিয়ে থাকি (যাবতীয় ব্যাপারে আল্লাহ যা চান তাই শেষে ঘটে)। اَمْ اَبْرَمُوْۤا اَمْرًا فَاِنَّا مُبْرِمُوْنَۚ﴿٧٩ ﴾
80 না কি তারা মনে করে, আমি তাদের গোপনীয় বিষয় ও নিভৃত সলাপরামর্শ শুনতে পাই না? অবশ্যই হ্যাঁ, আর আমার ফেরেশতাগণ তাদের কাছে থেকে লিখছে। তারা কি মনে করে যে, আমি তাদের গোপন বিষয় ও মন্ত্রনার খবর রাখিনা? অবশ্যই রাখি। আমার মালাইকা/ফেরেশতাতো তাদের নিকট থেকে সব কিছু লিপিবদ্ধ করে। তারা কি মনে করে যে, আমি তাদের গোপন কথা, গোপন পরামর্শ শুনি না? নিশ্চয়ই শুনি, আর আমার ফেরেশতারাহ তাদের কাছে থেকে লিখে নেয়। اَمْ یَحْسَبُوْنَ اَنَّا لَا نَسْمَعُ سِرَّهُمْ وَ نَجْوٰىهُمْ ؕ بَلٰی وَ رُسُلُنَا لَدَیْهِمْ یَكْتُبُوْنَ﴿٨٠ ﴾
81 বল, ‘রহমানের যদি সন্তান থাকত তবে আমি প্রথম তাঁর ইবাদাতকারী হতাম। বলঃ দয়াময় ‘রাহমানের’ কোন সন্তান থাকলে আমি হতাম তার উপাসকগণের অগ্রণী। বল- দয়াময়ের কোন সন্তান থাকলে আমিই তার সর্বপ্রথম ‘ইবাদাতকারী হতাম। قُلْ اِنْ كَانَ لِلرَّحْمٰنِ وَلَدٌ ۖۗ فَاَنَا اَوَّلُ الْعٰبِدِیْنَ﴿٨١ ﴾
82 তারা যা আরোপ করে, আসমানসমূহ ও যমীনের রব এবং আরশের রব তা থেকে পবিত্র-মহান। তারা যা আরোপ করে তা হতে পবিত্র আকাশমন্ডলী ও পৃথিবীর মহান অধিপতি এবং আরশের অধিকারী। তারা যা (তাঁর প্রতি) আরোপ করে তা হতে আকাশ ও পৃথিবীর প্রতিপালক ‘আরশের পালনকর্তা মহান, পবিত্র। سُبْحٰنَ رَبِّ السَّمٰوٰتِ وَ الْاَرْضِ رَبِّ الْعَرْشِ عَمَّا یَصِفُوْنَ﴿٨٢ ﴾
83 অতএব তাদেরকে ছেড়ে দাও, তারা মগ্ন থাকুক বেহুদা কথায় আর খেল-তামাশায় মত্ত থাকুক যতক্ষণ না সেদিনের সাথে তারা সাক্ষাৎ করে যার প্রতিশ্রুতি তাদেরকে দেয়া হয়েছে। অতএব তাদেরকে যে দিনের কথা বলা হয়েছে তার সম্মুখীন হবার পূর্ব পর্যন্ত বাক-বিতন্ডা ও ক্রীড়া-কৌতুক করতে দাও। কাজেই তাদেরকে বাক-চতুরতা ও ক্রীড়া-কৌতুক করতে দাও সে দিনের সাক্ষাৎ পর্যন্ত যে দিনের ও‘য়াদা তাদেরকে দেয়া হয়েছে। فَذَرْهُمْ یَخُوْضُوْا وَ یَلْعَبُوْا حَتّٰی یُلٰقُوْا یَوْمَهُمُ الَّذِیْ یُوْعَدُوْنَ﴿٨٣ ﴾
84 আর তিনিই আসমানে ইলাহ এবং তিনিই যমীনে ইলাহ; আর তিনি প্রজ্ঞাময়, সর্বজ্ঞ। তিনিই মা‘বূদ নভোমন্ডলের, তিনিই মা‘বূদ ভূতলের এবং তিনি প্রজ্ঞাময়, সর্বজ্ঞ। আকাশমন্ডলে তিনিই ইলাহ, যমীনে তিনিই ইলাহ, তিনি মহাবিজ্ঞ, সর্বজ্ঞ। وَ هُوَ الَّذِیْ فِی السَّمَآءِ اِلٰهٌ وَّ فِی الْاَرْضِ اِلٰهٌ ؕ وَ هُوَ الْحَكِیْمُ الْعَلِیْمُ﴿٨٤ ﴾
85 আর তিনি বরকতময়, যার কর্তৃত্বে রয়েছে আসমানসমূহ, যমীন ও এ দু’য়ের মধ্যবর্তী সবকিছু; আর কিয়ামতের জ্ঞান কেবল তাঁরই আছে এবং তাঁরই নিকট তোমাদেরকে ফিরিয়ে নেয়া হবে। কত মহান তিনি, আকাশমন্ডলী ও পৃথিবী এবং এইগুলির মধ্যবর্তী সব কিছুর সার্বভৌম অধিপতি! কিয়ামাতের জ্ঞান শুধু তাঁরই আছে এবং তাঁরই নিকট তোমরা প্রত্যাবর্তিত হবে। অতি মহান ও পবিত্র তিনি, আকাশ, পৃথিবী ও এ দু’য়ের মাঝে যা আছে তার একচ্ছত্র কর্তৃত্ব যাঁর হাতে, ক্বিয়ামতের জ্ঞান তাঁর কাছেই আছে (যে তা কখন ঘটবে), আর তোমাদেরকে তাঁর কাছেই ফিরে যেতে হবে। وَ تَبٰرَكَ الَّذِیْ لَهٗ مُلْكُ السَّمٰوٰتِ وَ الْاَرْضِ وَ مَا بَیْنَهُمَا ۚ وَ عِنْدَهٗ عِلْمُ السَّاعَةِ ۚ وَ اِلَیْهِ تُرْجَعُوْنَ﴿٨٥ ﴾
86 আর তিনি ছাড়া যাদেরকে তারা আহবান করে তারা সুপারিশের মালিক হবে না; তবে তারা ছাড়া যারা জেনে-শুনে সত্য সাক্ষ্য দেয় । আল্লাহর পরিবর্তে তারা যাদেরকে ডাকে, সুপারিশের ক্ষমতা তাদের নেই, তবে যারা সত্য উপলব্ধি করে ওর সাক্ষ্য দেয় তারা ব্যতীত। আল্লাহর পরিবর্তে যাদেরকে তারা ডাকে তারা সুপারিশের অধিকারী নয়, তবে যে জ্ঞানের ভিত্তিতে সত্যের সাক্ষ্য দেয় সে ছাড়া। وَ لَا یَمْلِكُ الَّذِیْنَ یَدْعُوْنَ مِنْ دُوْنِهِ الشَّفَاعَةَ اِلَّا مَنْ شَهِدَ بِالْحَقِّ وَ هُمْ یَعْلَمُوْنَ﴿٨٦ ﴾
87 আর তুমি যদি তাদেরকে জিজ্ঞাসা কর, কে তাদেরকে সৃষ্টি করেছে? তারা অবশ্যই বলবে, ‘আল্লাহ।’ তবু তারা কীভাবে বিমুখ হয়? তুমি যদি তাদেরকে জিজ্ঞেস কর, কে তাদেরকে সৃষ্টি করেছে তাহলে তারা অবশ্যই বলবেঃ আল্লাহ! তবুও তারা কোথায় ফিরে যাচ্ছে? তুমি যদি তাদেরকে জিজ্ঞেস কর- তাদেরকে কে সৃষ্টি করেছে, তাহলে তারা অবশ্য অবশ্যই বলবে, আল্লাহ। অত:পর তারা কোথায় ফিরে যাচ্ছে? وَ لَىِٕنْ سَاَلْتَهُمْ مَّنْ خَلَقَهُمْ لَیَقُوْلُنَّ اللّٰهُ فَاَنّٰی یُؤْفَكُوْنَۙ﴿٨٧ ﴾
88 আর তার (রাসূলের) বাণী ‘হে আমার রব, নিশ্চয় এরা এমন কওম যারা ঈমান আনবে না।’ আমি অবগত আছি রাসূলের এই উক্তি - হে আমার রাব্ব! এই সম্প্রদায়তো ঈমান আনবেনা। রসূলের এ উক্তির শপথঃ ‘হে আমার প্রতিপালক! এ জাতির লোকেরা ঈমান আনবে না।’ وَ قِیْلِهٖ یٰرَبِّ اِنَّ هٰۤؤُلَآءِ قَوْمٌ لَّا یُؤْمِنُوْنَۘ﴿٨٨ ﴾
89 অতএব তুমি তাদেরকে এড়িয়ে চল এবং বল, ‘সালাম’; তবে তারা শীঘ্রই জানতে পারবে। সুতরাং তুমি তাদেরকে উপেক্ষা কর এবং বলঃ সালাম! তারা শীঘ্রই জানতে পারবে। কাজেই তুমি তাদের থেকে মুখ ফিরিয়ে নাও আর বল- (তোমাদের প্রতি) সালাম। শীঘ্রই তারা জানতে পারবে (তাদের আচরণের পরিণতি কী)। فَاصْفَحْ عَنْهُمْ وَ قُلْ سَلٰمٌ ؕ فَسَوْفَ یَعْلَمُوْنَ﴿٨٩ ﴾