۞ بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَٰنِ الرَّحِيمِ ۞
অনুবাদকে টিক দিন        


সমগ্র কুরআনে সার্চ করার জন্য আরবি অথবা বাংলা শব্দ দিন...


তথ্য খুজুন: যেমন মায়িদা x
সুরা লিস্ট দেখুন

সূরা নাম (Sura Name): �������� ������������ -- Ad-Dukhan -- ������-���������������
Arabic Font Size:
আয়ত নাম্বার বায়ান ফাউন্ডেশন মুজিবুর রহমান তাইসীরুল কুরআন আরবি
1 হা-মীম। হা মীম। হা-মীম। حٰمٓۚۛ﴿١ ﴾
2 সুস্পষ্ট কিতাবের কসম! শপথ সুস্পষ্ট কিতাবের। সুস্পষ্ট কিতাবের কসম! وَ الْكِتٰبِ الْمُبِیْنِۙۛ﴿٢ ﴾
3 নিশ্চয় আমি এটি নাযিল করেছি বরকতময় রাতে; নিশ্চয় আমি সতর্ককারী। আমি ইহা অবতীর্ণ করেছি এক মুবারাক রাতে, আমিতো সতর্ককারী। আমি একে অবতীর্ণ করেছি এক বরকতময় রাতে, (কেননা) আমি (মানুষকে) সতর্ককারী। اِنَّاۤ اَنْزَلْنٰهُ فِیْ لَیْلَةٍ مُّبٰرَكَةٍ اِنَّا كُنَّا مُنْذِرِیْنَ﴿٣ ﴾
4 সে রাতে প্রত্যেক প্রজ্ঞাপূর্ণ বিষয়ে সিদ্ধান্ত অনুমোদিত হয়, এ রাতে প্রত্যেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় স্থিরীকৃত হয় – এ রাতে প্রতিটি প্রজ্ঞাপূর্ণ বিষয় স্থির করা হয় فِیْهَا یُفْرَقُ كُلُّ اَمْرٍ حَكِیْمٍۙ﴿٤ ﴾
5 আমার নির্দেশে। নিশ্চয় আমি রাসূল প্রেরণকারী। আমার আদেশক্রমে; আমি রাসূল প্রেরণ করে থাকি – আমার আদেশক্রমে, আমিই প্রেরণকারী, اَمْرًا مِّنْ عِنْدِنَا ؕ اِنَّا كُنَّا مُرْسِلِیْنَۚ﴿٥ ﴾
6 তোমার রবের কাছ থেকে রহমত হিসেবে; নিশ্চয় তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ। তোমার রবের অনুগ্রহ স্বরূপ, তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ – তোমার প্রতিপালকের অনুগ্রহ স্বরূপ তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ। رَحْمَةً مِّنْ رَّبِّكَ ؕ اِنَّهٗ هُوَ السَّمِیْعُ الْعَلِیْمُۙ﴿٦ ﴾
7 যিনি আসমানসমূহ, যমীন ও এ দু‘য়ের মধ্যবর্তী সবকিছুর রব; যদি তোমরা দৃঢ় বিশ্বাস পোষণকারী হও। যিনি আকাশমন্ডলী, পৃথিবী এবং ওগুলির মধ্যস্থিত সব কিছুর রাব্ব - যদি তোমরা নিশ্চিত বিশ্বাসী হও। আকাশ ও পৃথিবী এবং এ দু’য়ের মাঝে যা কিছু আছে সব কিছুর যিনি প্রতিপালক, (তাঁর মর্যাদা যে কত মহান এ কথা উপলব্ধি করে নাও) যদি তোমরা সত্যিকারই বিশ্বাসী হয়ে থাক। رَبِّ السَّمٰوٰتِ وَ الْاَرْضِ وَ مَا بَیْنَهُمَا ۘ اِنْ كُنْتُمْ مُّوْقِنِیْنَ﴿٧ ﴾
8 তিনি ছাড়া কোন (সত্য) ইলাহ নেই; তিনিই জীবন দান করেন এবং তিনিই মৃত্যু দেন। তিনি তোমাদের রব এবং তোমাদের পিতৃপুরুষদের রব। তিনি ব্যতীত কোন মা‘বূদ নেই, তিনি জীবন দান করেন এবং তিনিই মৃত্যু ঘটান; তিনিই তোমাদের এবং তোমাদের পূর্ব-পুরুষদেরও রাব্ব। তিনি ছাড়া সত্যিকারের কোন ইলাহ নেই, তিনিই জীবিত করেন ও মৃত্যু ঘটান। তিনিই তোমাদের প্রতিপালক এবং তোমাদের পূর্ববর্তী তোমাদের পিতৃপুরুষদেরও প্রতিপালক। لَاۤ اِلٰهَ اِلَّا هُوَ یُحْیٖ وَ یُمِیْتُ ؕ رَبُّكُمْ وَ رَبُّ اٰبَآىِٕكُمُ الْاَوَّلِیْنَ﴿٨ ﴾
9 তারা বরং সন্দেহের বশবর্তী হয়ে খেলতামাশা করছে। বস্তুতঃ তারা সন্দেহের বশবর্তী হয়ে হাসি ঠাট্টা করছে। কিন্তু তারা সংশয়ের মাঝে খেলায় মত্ত। بَلْ هُمْ فِیْ شَكٍّ یَّلْعَبُوْنَ﴿٩ ﴾
10 অতএব অপেক্ষা কর সেদিনের যেদিন স্পষ্ট ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হবে আকাশ। অতএব তুমি অপেক্ষা কর সেই দিনের যেদিন স্পষ্ট ধুম্রাচ্ছন্ন হবে আকাশ। অতএব তুমি অপেক্ষা কর সে দিনের যেদিন আকাশ ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হবে যা সুস্পষ্ট (ভাবে দেখা যাবে)। فَارْتَقِبْ یَوْمَ تَاْتِی السَّمَآءُ بِدُخَانٍ مُّبِیْنٍۙ﴿١٠ ﴾
11 যা মানুষদেরকে আচ্ছন্ন করে ফেলবে: এটি যন্ত্রণাদায়ক আযাব। এবং তা আবৃত করে ফেলবে মানব জাতিকে। এটা হবে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি। (যা) মানুষকে ঢেকে নেবে, তা হবে ভয়াবহ শাস্তি। یَّغْشَی النَّاسَ ؕ هٰذَا عَذَابٌ اَلِیْمٌ﴿١١ ﴾
12 (তখন তারা বলবে) ‘হে আমাদের রব, আমাদের থেকে আযাব দূর করুন; নিশ্চয় আমরা মুমিন হব।’ তখন তারা বলবেঃ হে আমাদের রাব্ব! আমাদেরকে এই শাস্তি হতে মুক্তি দিন, আমরা ঈমান আনব। (তখন তারা আরয করবে)- হে আমাদের পালনকর্তা! আমাদের থেকে শাস্তি সরিয়ে দিন, আমরা ঈমান আনলাম। رَبَّنَا اكْشِفْ عَنَّا الْعَذَابَ اِنَّا مُؤْمِنُوْنَ﴿١٢ ﴾
13 এখন কীভাবে তারা উপদেশ গ্রহণ করবে, অথচ ইতঃপূর্বে তাদের কাছে সুস্পষ্টভাবে বর্ণনাকারী রাসূল এসেছিল? তারা কি করে উপদেশ গ্রহণ করবে? তাদের নিকটতো এসেছে স্পষ্ট ব্যাখ্যাকারী এক রাসূল; তারা কীভাবে উপদেশ গ্রহণ করবে? তাদের কাছে তো এসেছে সুস্পষ্ট বর্ণনাকারী এক রসূল। اَنّٰی لَهُمُ الذِّكْرٰی وَ قَدْ جَآءَهُمْ رَسُوْلٌ مُّبِیْنٌۙ﴿١٣ ﴾
14 তারপর তারা তাঁর দিক থেকে বিমুখ হয়েছিল এবং বলেছিল ‘এ শিক্ষাপ্রাপ্ত পাগল’। অতঃপর তারা তাকে অমান্য করে বলেঃ সেতো শিখানো বুলি বলছে, সেতো এক পাগল। এখন তারা তার থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে আর তারা বলছে (সে হল এক) পাগল- যাকে শিখিয়ে দেয়া হয়েছে। ثُمَّ تَوَلَّوْا عَنْهُ وَ قَالُوْا مُعَلَّمٌ مَّجْنُوْنٌۘ﴿١٤ ﴾
15 নিশ্চয় আমি ক্ষণকালের জন্য আযাব দূর করব; নিশ্চয় তোমরা পূর্বাবস্থায় ফিরে যাবে। আমি তোমাদের শাস্তি কিছু কালের জন্য রহিত করছি, তোমরাতো তোমাদের পূর্বাবস্থায় ফিরে যাবে। আমি কিছুকালের জন্য ‘আযাব সরিয়ে নেব, তখন তোমরা আগে যা করছিলে তাই আবার করবে। اِنَّا كَاشِفُوا الْعَذَابِ قَلِیْلًا اِنَّكُمْ عَآىِٕدُوْنَۘ﴿١٥ ﴾
16 সেদিন আমি প্রবলভাবে পাকড়াও করব; নিশ্চয় আমি হব প্রতিশোধ গ্রহণকারী। যেদিন আমি তোমাদেরকে প্রবলভাবে পাকড়াও করব সেদিন আমি তোমাদেরকে শাস্তি দিবই। যেদিন আমি তোমাদেরকে ভীষণভাবে পাকড়াও করব, সেদিন আমি আবশ্যই প্রতিশোধ নেব। یَوْمَ نَبْطِشُ الْبَطْشَةَ الْكُبْرٰی ۚ اِنَّا مُنْتَقِمُوْنَ﴿١٦ ﴾
17 আর অবশ্যই এদের পূর্বে আমি ফির‘আউনের কওমকে পরীক্ষা করেছিলাম এবং তাদের কাছে এসেছিল এক সম্মানিত রাসূল, এদের পূর্বে আমি ফির‘আউন সম্প্রদায়কে পরীক্ষা করেছিলাম এবং তাদের নিকটও এসেছিল এক মহান রাসূল। তাদের পূর্বে আমি ফেরাউন জাতিকে পরীক্ষা করেছিলাম। তাদের কাছে এসেছিল এক সম্মানিত রসূল। وَ لَقَدْ فَتَنَّا قَبْلَهُمْ قَوْمَ فِرْعَوْنَ وَ جَآءَهُمْ رَسُوْلٌ كَرِیْمٌۙ﴿١٧ ﴾
18 (সে বলেছিল) ‘আল্লাহর বান্দাদেরকে আমার কাছে ফিরিয়ে দাও; নিশ্চয় আমি তোমাদের জন্য এক বিশ্বস্ত রাসূল।’ সে বললঃ আল্লাহর বান্দাদেরকে আমার নিকট প্রত্যর্পণ কর। আমি তোমাদের জন্য এক বিশ্বস্ত রাসূল। সে বলেছিল- আল্লাহর বান্দাদেরকে আমার কাছে অর্পণ কর। আমি তোমাদের জন্য প্রেরিত বিশ্বস্ত রসূল। اَنْ اَدُّوْۤا اِلَیَّ عِبَادَ اللّٰهِ ؕ اِنِّیْ لَكُمْ رَسُوْلٌ اَمِیْنٌۙ﴿١٨ ﴾
19 ‘আর আল্লাহর বিরুদ্ধে ঔদ্ধত্য প্রকাশ করো না। নিশ্চয় আমি তোমাদের কাছে সুস্পষ্ট প্রমাণ নিয়ে আসব।’ এবং তোমরা আল্লাহর বিরুদ্ধে উদ্ধত হয়োনা, আমি তোমাদের নিকট উপস্থিত করছি স্পষ্ট প্রমাণ। আর আল্লাহর বিরুদ্ধে ঔদ্ধত্য দেখাইও না, আমি তোমাদের কাছে (আমার রসূল হওয়ার) সুস্পষ্ট প্রমাণ পেশ করছি। وَّ اَنْ لَّا تَعْلُوْا عَلَی اللّٰهِ ۚ اِنِّیْۤ اٰتِیْكُمْ بِسُلْطٰنٍ مُّبِیْنٍۚ﴿١٩ ﴾
20 আর তোমাদের প্রস্তরাঘাত থেকে আমি আমার রব ও তোমাদের রবের কাছে আশ্রয় চাচ্ছি। তোমরা যাতে আমাকে প্রস্তরাঘাতে হত্যা করতে না পার তজ্জন্য আমি আমার রাব্ব ও তোমাদের রবের আশ্রয় প্রার্থনা করছি। আমি আমার ও তোমাদের প্রতিপালকের নিকট আশ্রয় গ্রহণ করছি যাতে তোমরা আমাকে পাথরের আঘাতে হত্যা না কর। وَ اِنِّیْ عُذْتُ بِرَبِّیْ وَ رَبِّكُمْ اَنْ تَرْجُمُوْنِؗ﴿٢٠ ﴾
21 ‘আর তোমরা যদি আমার উপর বিশ্বাস না রাখ, তবে আমাকে ছেড়ে যাও।’ যদি তোমরা আমার কথায় বিশ্বাস স্থাপন না কর তাহলে তোমরা আমা হতে দূরে থাক। তোমরা যদি আমার প্রতি বিশ্বাস না আনো, কমপক্ষে আমার কাছ থেকে দূরে থাক। وَ اِنْ لَّمْ تُؤْمِنُوْا لِیْ فَاعْتَزِلُوْنِ﴿٢١ ﴾
22 অতঃপর সে তার রবকে ডেকে বলল, ‘নিশ্চয় এরা এক অপরাধী সম্প্রদায়।’ অতঃপর মূসা তার রবের নিকট নিবেদন করলঃ এরাতো এক অপরাধী সম্প্রদায়। (কিন্তু তারা ছিল আক্রমণমুখী) তখন সে তার পালনকর্তার নিকট দু‘আ করল- এরা অপরাধী জাতি। فَدَعَا رَبَّهٗۤ اَنَّ هٰۤؤُلَآءِ قَوْمٌ مُّجْرِمُوْنَ﴿٢٢ ﴾
23 (আল্লাহ বললেন) ‘তাহলে আমার বান্দাদের নিয়ে রাতে বেরিয়ে পড়; নিশ্চয় তোমাদের পশ্চাদ্ধাবন করা হবে’। আমি বলেছিলামঃ তুমি আমার বান্দাদেরকে নিয়ে রাতে বের হয়ে পড়, তোমাদের পশ্চাদ্ধাবন করা হবে। (তখন আমি বললাম) তুমি আমার বান্দাহদেরকে নিয়ে রাতের বেলায় বের হয়ে পড়, তোমাদের পিছু ধাওয়া করা হবে। فَاَسْرِ بِعِبَادِیْ لَیْلًا اِنَّكُمْ مُّتَّبَعُوْنَۙ﴿٢٣ ﴾
24 আর সমুদ্রকে রেখে দাও শান্ত, নিশ্চয় তারা হবে এক ডুবন্ত বাহিনী’। সমুদ্রকে স্থির থাকতে দাও, তারা এমন এক বাহিনী যারা নিমজ্জিত হবে। (মূসা বানী ইসরাঈলকে নিয়ে সমুদ্র পার হয়ে গিয়ে সমুদ্রকে আবার প্রবহমান করার জন্য স্বীয় লাঠি নিক্ষেপ করলে আল্লাহ বললেন) সমুদ্রকে স্থির থাকতে দাও, তারা (অর্থাৎ ফেরাউনী দল) এমন এক বাহিনী যারা নিমজ্জিত হবে। وَ اتْرُكِ الْبَحْرَ رَهْوًا ؕ اِنَّهُمْ جُنْدٌ مُّغْرَقُوْنَ﴿٢٤ ﴾
25 তারা অনেক বাগান ও ঝর্না রেখেছিল। তারা পশ্চাতে রেখে গেল কত উদ্যান ও প্রস্রবণ, তারা ছেড়ে গিয়েছিল কত উদ্যান আর ঝর্ণা, كَمْ تَرَكُوْا مِنْ جَنّٰتٍ وَّ عُیُوْنٍۙ﴿٢٥ ﴾
26 শ্যামল শস্যক্ষেত ও সুরম্য বাসস্থান, কত শস্য ক্ষেত ও সুরম্য প্রাসাদ, শস্য ক্ষেত, আর অভিজাত স্থান, وَّ زُرُوْعٍ وَّ مَقَامٍ كَرِیْمٍۙ﴿٢٦ ﴾
27 আর নানা বিলাস-সামগ্রী, যাতে তারা আনন্দ উপভোগ করত। কত বিলাস উপকরণ, যা তাদেরকে আনন্দ দিত। আর বিলাস সামগ্রী- যা নিয়ে তারা আনন্দ করত। وَّ نَعْمَةٍ كَانُوْا فِیْهَا فٰكِهِیْنَۙ﴿٢٧ ﴾
28 এমনটিই হয়েছিল এবং আমি এগুলোর উত্তরাধিকারী করেছিলাম অন্য কওমকে। এরূপই ঘটেছিল এবং আমি এই সমুদয়ের উত্তরাধিকারী করেছিলাম ভিন্ন সম্প্রদায়কে। এমনটাই হয়েছিল, অতঃপর আমি অন্য জাতির লোকদেরকে সে সবের উত্তরাধিকারী করে দিয়েছিলাম। كَذٰلِكَ ۫ وَ اَوْرَثْنٰهَا قَوْمًا اٰخَرِیْنَ﴿٢٨ ﴾
29 অতঃপর আসমান ও যমীন তাদের জন্য কাঁদেনি এবং তারা অবকাশপ্রাপ্ত ছিল না। আকাশ এবং পৃথিবীর কেহই তাদের জন্য অশ্রুপাত করেনি এবং তাদেরকে অবকাশও দেয়া হয়নি। আসমান আর যমীন তাদের জন্য কাঁদেনি, আর তাদেরকে একটু অবসরও দেয়া হয়নি। فَمَا بَكَتْ عَلَیْهِمُ السَّمَآءُ وَ الْاَرْضُ وَ مَا كَانُوْا مُنْظَرِیْنَ﴿٢٩ ﴾
30 আর অবশ্যই আমি বনী ইসরাঈলকে লাঞ্ছনাদায়ক আযাব থেকে উদ্ধার করেছিলাম, আমি উদ্ধার করেছিলাম বানী ইসরাঈলকে লাঞ্ছনাদায়ক শাস্তি হতে – আমি বানী ইসরাঈলকে রক্ষা করেছিলাম অপমানজনক শাস্তি হতে وَ لَقَدْ نَجَّیْنَا بَنِیْۤ اِسْرَآءِیْلَ مِنَ الْعَذَابِ الْمُهِیْنِۙ﴿٣٠ ﴾
31 ফির‘আউন থেকে, নিশ্চয় সে ছিল সীমালঙ্ঘনকারীদের শীর্ষস্থানীয়। ফির‘আউনের; সে তো পরাক্রান্ত সীমালংঘনকারীদের মধ্যে। ফেরাউনের। সে ছিল সীমালঙ্ঘনকারীদের শীর্ষে। مِنْ فِرْعَوْنَ ؕ اِنَّهٗ كَانَ عَالِیًا مِّنَ الْمُسْرِفِیْنَ﴿٣١ ﴾
32 আর আমি জ্ঞাতসারেই তাদেরকে সকল সৃষ্টির উপর নির্বাচিত করেছিলাম। আমি জেনে শুনেই তাদেরকে বিশ্বে শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছিলাম। আমি জেনে বুঝেই বিশ্বজগতের উপর তাদেরকে (অর্থাৎ বানী ইসরাঈলকে) বেছে নিয়েছিলাম। وَ لَقَدِ اخْتَرْنٰهُمْ عَلٰی عِلْمٍ عَلَی الْعٰلَمِیْنَۚ﴿٣٢ ﴾
33 আর আমি তাদেরকে এমন নিদর্শনাবলী দিয়েছিলাম যাতে ছিল সুস্পষ্ট পরীক্ষা। এবং তাদেরকে দিয়েছিলাম নিদর্শনাবলী, যাতে ছিল সুস্পষ্ট পরীক্ষা। এবং তাদেরকে আমি এমন নিদর্শনাবলী দিয়েছিলাম যাতে সুস্পষ্ট পরীক্ষা নিহিত ছিল। وَ اٰتَیْنٰهُمْ مِّنَ الْاٰیٰتِ مَا فِیْهِ بَلٰٓؤٌا مُّبِیْنٌ﴿٣٣ ﴾
34 নিশ্চয় তারা বলেই থাকে, তারা বলেই থাকে – এই কাফিররা বলে, اِنَّ هٰۤؤُلَآءِ لَیَقُوْلُوْنَۙ﴿٣٤ ﴾
35 ‘আমাদের প্রথম মৃত্যু ছাড়া আর কিছুই নেই এবং আমরা পুনরুত্থিত হবার নই’। আমাদের প্রথম মৃত্যু ব্যতীত আর কিছুই নেই এবং আমরা আর পুনরুত্থিত হবনা। আমাদের প্রথম মৃত্যুর পর আর কিছু নাই আর আমরা পুনরুত্থিত হব না। اِنْ هِیَ اِلَّا مَوْتَتُنَا الْاُوْلٰی وَ مَا نَحْنُ بِمُنْشَرِیْنَ﴿٣٥ ﴾
36 ‘যদি তোমরা সত্যবাদী হও, তবে আমাদের পিতৃপুরুষদেরকে নিয়ে এসো’। অতএব তোমরা যদি সত্যবাদী হও তাহলে আমাদের পূর্ব-পুরুষদেরকে উপস্থিত কর। (মৃত্যুর পর মানুষকে পুনরুত্থিত করা হবে- তোমাদের এ কথায়) তোমরা যদি সত্য হও, তাহলে আমাদের পূর্বপুরুষদেরকে হাজির কর। فَاْتُوْا بِاٰبَآىِٕنَاۤ اِنْ كُنْتُمْ صٰدِقِیْنَ﴿٣٦ ﴾
37 তারা কি শ্রেষ্ঠ না তুব্বা সম্প্রদায় এবং তাদের পূর্বে যারা ছিল তারা? আমি তাদেরকে ধ্বংস করেছিলাম। নিশ্চয় তারা ছিল অপরাধী। শ্রেষ্ঠ কি তারা না তুব্বা সম্প্রদায় ও তাদের পূর্ববর্তীরা? আমি তাদেরকে ধ্বংস করেছিলাম, অবশ্যই তারা ছিল অপরাধী। এরাই শ্রেষ্ঠ, না তুব্বা সম্প্রদায় আর তাদের আগে যারা ছিল তারা? আমিতো ওদেরকে ধ্বংস করে দিয়েছি। তারা ছিল অপরাধী। اَهُمْ خَیْرٌ اَمْ قَوْمُ تُبَّعٍ ۙ وَّ الَّذِیْنَ مِنْ قَبْلِهِمْ ؕ اَهْلَكْنٰهُمْ ؗ اِنَّهُمْ كَانُوْا مُجْرِمِیْنَ﴿٣٧ ﴾
38 আর আমি আসমানসমূহ, যমীন এবং এতদোভয়ের মধ্যে যা কিছু আছে তা খেলাচ্ছলে সৃষ্টি করিনি। আমি আকাশমন্ডলী ও পৃথিবী এবং এতদুভয়ের মধ্যস্থিত কোন কিছুই ক্রীড়াচ্ছলে সৃষ্টি করিনি। আমি আকাশ, যমীন আর এদের মাঝে যা আছে সে সব খেল-তামাশার ফলে সৃষ্টি করিনি। وَ مَا خَلَقْنَا السَّمٰوٰتِ وَ الْاَرْضَ وَ مَا بَیْنَهُمَا لٰعِبِیْنَ﴿٣٨ ﴾
39 আমি এ দু’টোকে যথাযথভাবেই সৃষ্টি করেছি, কিন্তু তাদের অধিকাংশই তা জানে না। আমি এ দু’টি অযথা সৃষ্টি করিনি, কিন্তু তাদের অধিকাংশই এটা জানেনা। আমি ওদু’টিকে সত্যিকার উদ্দেশ্যে সৃষ্টি করেছি। কিন্তু তাদের অধিকাংশই (তা) জানে না। مَا خَلَقْنٰهُمَاۤ اِلَّا بِالْحَقِّ وَ لٰكِنَّ اَكْثَرَهُمْ لَا یَعْلَمُوْنَ﴿٣٩ ﴾
40 নিশ্চয় ফয়সালার দিনটি তাদের সকলের জন্যই নির্ধারিত সময়। নিশ্চয়ই সকলের জন্য নির্ধারিত রয়েছে তাদের বিচার দিবস – ফয়সালার দিনটি তাদের সবারই নির্ধারিত সময় । اِنَّ یَوْمَ الْفَصْلِ مِیْقَاتُهُمْ اَجْمَعِیْنَۙ﴿٤٠ ﴾
41 সেদিন এক বন্ধু অপর বন্ধুর কোন কাজে আসবে না এবং তারা সাহায্যপ্রাপ্তও হবে না। যেদিন এক বন্ধু অপর বন্ধুর কোন কাজে আসবেনা এবং তারা সাহায্যও পাবেনা। যেদিন বন্ধু বন্ধুর কোন উপকারে আসবে না, আর তাদেরকে সাহায্যও করা হবে না। یَوْمَ لَا یُغْنِیْ مَوْلًی عَنْ مَّوْلًی شَیْـًٔا وَّ لَا هُمْ یُنْصَرُوْنَۙ﴿٤١ ﴾
42 সে ছাড়া, যার প্রতি আল্লাহ অনুগ্রহ করেন। নিশ্চয় তিনিই মহাপরাক্রমশালী, পরম দয়ালু। তবে আল্লাহ যার প্রতি দয়া করেন তার কথা স্বতন্ত্র। তিনি পরাক্রমশালী, পরম দয়ালু। তবে আল্লাহ যার প্রতি রহমত করবেন তার কথা আলাদা। তিনি মহাপরাক্রান্ত, বড়ই দয়ালু। اِلَّا مَنْ رَّحِمَ اللّٰهُ ؕ اِنَّهُ هُوَ الْعَزِیْزُ الرَّحِیْمُ﴿٤٢ ﴾
43 নিশ্চয় যাক্কূম বৃক্ষ নিশ্চয়ই যাক্কুম বৃক্ষ হবে – নিশ্চয়ই যাক্কুম গাছ (হবে) اِنَّ شَجَرَتَ الزَّقُّوْمِۙ﴿٤٣ ﴾
44 পাপীর খাদ্য; পাপীর খাদ্য। পাপীর খাদ্য طَعَامُ الْاَثِیْمِ ۖۛۚ﴿٤٤ ﴾
45 গলিত তামার মত, উদরসমূহে ফুটতে থাকবে। গলিত তাম্রের মত; ওটা তার উদরে ফুটতে থাকবে – গলিত তামার মত পেটে ফুটতে থাকবে। كَالْمُهْلِ ۛۚ یَغْلِیْ فِی الْبُطُوْنِۙ﴿٤٥ ﴾
46 ফুটন্ত পানির মত ফুটন্ত পানির মত। ফুটন্ত পানির মত, كَغَلْیِ الْحَمِیْمِ﴿٤٦ ﴾
47 (বলা হবে) ‘ওকে ধর, অতঃপর তাকে জাহান্নামের মধ্যস্থলে টেনে নিয়ে যাও’। (বলা হবে) তাকে ধর এবং টেনে নিয়ে যাও জাহান্নামের মধ্যস্থলে। (বলা হবে) ওকে ধর, আর ওকে টেনে নিয়ে যাও জাহান্নামের আগুনের মাঝখানে। خُذُوْهُ فَاعْتِلُوْهُ اِلٰی سَوَآءِ الْجَحِیْمِۗۖ﴿٤٧ ﴾
48 তারপর তার মাথার উপর ফুটন্ত পানির আযাব ঢেলে দাও। অতঃপর তার মাথার উপর ফুটন্ত পানি ঢেলে দিয়ে শাস্তি দাও। অতঃপর তার মাথার উপর ফুটন্ত পানি ঢেলে ‘আযাব দাও। ثُمَّ صُبُّوْا فَوْقَ رَاْسِهٖ مِنْ عَذَابِ الْحَمِیْمِؕ﴿٤٨ ﴾
49 (বলা হবে) ‘তুমি আস্বাদন কর, নিশ্চয় তুমিই সম্মানিত, অভিজাত’। এবং বলা হবেঃ আস্বাদন কর, তুমিতো ছিলে সম্মানিত, অভিজাত। (বলা হবে) গ্রহণ কর স্বাদ-তুমি তো ছিলে ক্ষমতাশালী, সম্মানী। ذُقْ ۙۚ اِنَّكَ اَنْتَ الْعَزِیْزُ الْكَرِیْمُ﴿٤٩ ﴾
50 নিশ্চয় এটা তা-ই যে বিষয়ে তোমরা সন্দেহ করতে। এটাতো ওটাই, যে বিষয়ে তোমরা সন্দেহ করতে। এ হল তাই যাতে তোমরা সন্দেহ করতে। اِنَّ هٰذَا مَا كُنْتُمْ بِهٖ تَمْتَرُوْنَ﴿٥٠ ﴾
51 নিশ্চয় মুত্তাকীরা থাকবে নিরাপদ স্থানে, মুত্তাকীরা থাকবে নিরাপদ স্থানে – নিশ্চয়ই মুত্তাকীরা থাকবে নিরাপদ স্থানে, اِنَّ الْمُتَّقِیْنَ فِیْ مَقَامٍ اَمِیْنٍۙ﴿٥١ ﴾
52 বাগ-বাগিচা ও ঝর্নাধারার মধ্যে, উদ্যান ও ঝর্ণার মাঝে। বাগান আর ঝরণার মাঝে فِیْ جَنّٰتٍ وَّ عُیُوْنٍۚۙ﴿٥٢ ﴾
53 তারা পরিধান করবে পাতলা ও পুরু রেশমী বস্ত্র এবং বসবে মুখোমুখী হয়ে। তারা পরিধান করবে মিহি ও পুরু রেশমী বস্ত্র এবং তারা মুখোমুখী হয়ে বসবে। তারা পরিধান করবে পাতলা ও পুরু রেশমী কাপড়, আর বসবে মুখোমুখী হয়ে। یَّلْبَسُوْنَ مِنْ سُنْدُسٍ وَّ اِسْتَبْرَقٍ مُّتَقٰبِلِیْنَۚۙ﴿٥٣ ﴾
54 এরূপই ঘটবে, আর আমি তাদেরকে বিয়ে দেব ডাগর নয়না হূরদের সাথে। এরূপই ঘটবে; তাদেরকে সঙ্গিনী দিব আয়তলোচনা হুর। এ রকমই হবে, আর তাদের বিয়ে দিয়ে দেব ডাগর ডাগর সুন্দর উজ্জ্বল চোখওয়ালা কুমারীদের (হুরদের) সাথে। كَذٰلِكَ ۫ وَ زَوَّجْنٰهُمْ بِحُوْرٍ عِیْنٍؕ﴿٥٤ ﴾
55 সেখানে তারা প্রশান্তচিত্তে সকল প্রকারের ফলমূল আনতে বলবে। সেখানে তারা প্রশান্তচিত্তে বিবিধ ফলমূল আনতে বলবে। সেখানে তারা পূর্ণ শান্তি ও নিরাপত্তার সাথে নানান ফলমূল আনতে বলবে। یَدْعُوْنَ فِیْهَا بِكُلِّ فَاكِهَةٍ اٰمِنِیْنَۙ﴿٥٥ ﴾
56 প্রথম মৃত্যুর পর সেখানে তারা আর মৃত্যু আস্বাদন করবে না। আর তিনি তাদেরকে জাহান্নামের আযাব থেকে রক্ষা করবেন। প্রথম মৃত্যুর পর তারা সেখানে আর মৃত্যু আস্বাদন করবেনা। তাদেরকে জাহান্নামের শাস্তি হতে রক্ষা করবেন – সেখানে তারা মৃত্যু আস্বাদন করবে না (সেই) প্রথম মৃত্যুর পর, আর তিনি তাদেরকে আগুনের শাস্তি থেকে রক্ষা করবেন لَا یَذُوْقُوْنَ فِیْهَا الْمَوْتَ اِلَّا الْمَوْتَةَ الْاُوْلٰی ۚ وَ وَقٰىهُمْ عَذَابَ الْجَحِیْمِۙ﴿٥٦ ﴾
57 তোমার রবের অনুগ্রহস্বরূপ, এটাই তো মহা সাফল্য। তোমার রাব্ব নিজ অনুগ্রহে। এটাইতো মহা সাফল্য। তোমার প্রতিপালকের অনুগ্রহ স্বরূপ, এটাই হল মহা সাফল্য। فَضْلًا مِّنْ رَّبِّكَ ؕ ذٰلِكَ هُوَ الْفَوْزُ الْعَظِیْمُ﴿٥٧ ﴾
58 অতঃপর আমি তো তোমার ভাষায় কুরআনকে সহজ করে দিয়েছি, যাতে তারা উপদেশ গ্রহণ করে। আমি তোমার ভাষায় কুরআনকে সহজ করে দিয়েছি যাতে তারা উপদেশ গ্রহণ করে। আমি তোমার ভাষায় কুরআনকে সহজ করে দিয়েছি যাতে তারা উপদেশ গ্রহণ করে। فَاِنَّمَا یَسَّرْنٰهُ بِلِسَانِكَ لَعَلَّهُمْ یَتَذَكَّرُوْنَ﴿٥٨ ﴾
59 অতএব তুমি অপেক্ষা কর, তারাও অপেক্ষাকারী। সুতরাং তুমি প্রতীক্ষা কর, তারাওতো প্রতীক্ষমান। কাজেই তুমি অপেক্ষা কর (তাদের পরিণতি দেখার জন্য) তারাও অপেক্ষা করছে (তোমাদের পরিণতি দেখার জন্য)। فَارْتَقِبْ اِنَّهُمْ مُّرْتَقِبُوْنَ﴿٥٩ ﴾