۞ بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَٰنِ الرَّحِيمِ ۞
অনুবাদকে টিক দিন        


সমগ্র কুরআনে সার্চ করার জন্য আরবি অথবা বাংলা শব্দ দিন...


তথ্য খুজুন: যেমন মায়িদা x
সুরা লিস্ট দেখুন

সূরা নাম (Sura Name): �������� ���������� -- Al-Qalam -- ������-������������������
Arabic Font Size:
আয়ত নাম্বার বায়ান ফাউন্ডেশন মুজিবুর রহমান তাইসীরুল কুরআন আরবি
1 নূন; কলমের কসম এবং তারা যা লিখে তার কসম! নুন, শপথ কলমের এবং ওরা যা লিপিবদ্ধ করে তার। নূন, কলমের শপথ আর লেখকেরা যা লেখে তার শপথ। نٓ وَ الْقَلَمِ وَ مَا یَسْطُرُوْنَۙ﴿١ ﴾
2 তোমার রবের অনুগ্রহে তুমি পাগল নও। তোমার রবের অনুগ্রহে তুমি উম্মাদ নও। তোমার প্রতিপালকের অনুগ্রহে তুমি পাগল নও। مَاۤ اَنْتَ بِنِعْمَةِ رَبِّكَ بِمَجْنُوْنٍۚ﴿٢ ﴾
3 আর নিশ্চয় তোমার জন্য রয়েছে অফুরন্ত পুরস্কার। তোমার জন্য অবশ্যই রয়েছে নিরবচ্ছিন্ন পুরস্কার। তোমার জন্য অবশ্যই আছে অফুরন্ত পুরস্কার, وَ اِنَّ لَكَ لَاَجْرًا غَیْرَ مَمْنُوْنٍۚ﴿٣ ﴾
4 আর নিশ্চয় তুমি মহান চরিত্রের উপর অধিষ্ঠিত। তুমি অবশ্যই মহান চরিত্রের অধিকারী। নিশ্চয়ই তুমি মহান চরিত্রের উচ্চমার্গে উন্নীত। وَ اِنَّكَ لَعَلٰی خُلُقٍ عَظِیْمٍ﴿٤ ﴾
5 অতঃপর শীঘ্রই তুমি দেখতে পাবে এবং তারাও দেখতে পাবে- শীঘ্রই তুমি দেখবে এবং তারাও দেখবে – শীঘ্রই তুমি দেখতে পাবে আর তারাও দেখবে, فَسَتُبْصِرُ وَ یُبْصِرُوْنَۙ﴿٥ ﴾
6 তোমাদের মধ্যে কে বিকারগ্রস্ত? তোমাদের মধ্যে কে বিকারগ্রস্ত। তোমাদের মধ্যে কে পাগলামিতে আক্রান্ত। بِاَىیِّكُمُ الْمَفْتُوْنُ﴿٦ ﴾
7 নিশ্চয় তোমার রবই সম্যক পরিজ্ঞাত তাদের ব্যাপারে যারা তাঁর পথ থেকে বিচ্যুত হয়েছে, আর তিনি হিদায়াতপ্রাপ্তদের সম্পর্কেও সম্যক জ্ঞাত। তোমার রাব্বতো সম্যক অবগত আছেন যে, কে তাঁর পথ হতে বিচ্যুত হয়েছে এবং তিনি জানেন তাদেরকে যারা সৎ পথপ্রাপ্ত। তোমার প্রতিপালক বেশি জানেন কে তাঁর পথ থেকে গুমরাহ হয়ে গেছে, আর সঠিক পথপ্রাপ্তদেরকেও তিনি ভাল করে জানেন। اِنَّ رَبَّكَ هُوَ اَعْلَمُ بِمَنْ ضَلَّ عَنْ سَبِیْلِهٖ ۪ وَ هُوَ اَعْلَمُ بِالْمُهْتَدِیْنَ﴿٧ ﴾
8 অতএব তুমি মিথ্যারোপকারীদের আনুগত্য করো না। সুতরাং তুমি মিথ্যাচারীদের অনুসরণ করনা। কাজেই তুমি মিথ্যাবাদীদের কথা মান্য কর না। فَلَا تُطِعِ الْمُكَذِّبِیْنَ﴿٨ ﴾
9 তারা কামনা করে, যদি তুমি আপোষকামী হও, তবে তারাও আপোষকারী হবে। তারা চায় যে, তুমি নমনীয় হও, তাহলে তারাও নমনীয় হবে। তারা চায় যে, তুমি যদি নমনীয় হও, তবে তারাও নমনীয় হবে, وَدُّوْا لَوْ تُدْهِنُ فَیُدْهِنُوْنَ﴿٩ ﴾
10 আর তুমি আনুগত্য করো না প্রত্যেক এমন ব্যক্তির যে অধিক কসমকারী, লাঞ্ছিত। এবং অনুসরণ করনা তার যে কথায় কথায় শপথ করে, যে লাঞ্ছিত – তুমি তার অনুসরণ কর না, যে বেশি বেশি কসম খায় আর যে (বার বার মিথ্যা কসম খাওয়ার কারণে মানুষের কাছে) লাঞ্ছিত। وَ لَا تُطِعْ كُلَّ حَلَّافٍ مَّهِیْنٍۙ﴿١٠ ﴾
11 পিছনে নিন্দাকারী ও যে চোগলখুরী করে বেড়ায়, পশ্চাতে নিন্দাকারী, যে একের কথা অপরের নিকট লাগিয়ে বেড়ায় – যে পশ্চাতে নিন্দা করে একের কথা অপরের কাছে লাগিয়ে ফিরে, هَمَّازٍ مَّشَّآءٍۭ بِنَمِیْمٍۙ﴿١١ ﴾
12 ভাল কাজে বাধাদানকারী, সীমালঙ্ঘনকারী অপরাধী, যে কল্যাণের কাজে বাঁধা দান করে, সে সীমালংঘনকারী, পাপিষ্ঠ। যে ভাল কাজে বাধা দেয়, সীমালঙ্ঘনকারী, পাপিষ্ঠ, مَّنَّاعٍ لِّلْخَیْرِ مُعْتَدٍ اَثِیْمٍۙ﴿١٢ ﴾
13 দুষ্ট প্রকৃতির, তারপর জারজ। রূঢ় স্বভাব এবং তদুপরি কুখ্যাত। কঠোর স্বভাব, তার উপরে আবার কুখ্যাত। عُتُلٍّۭ بَعْدَ ذٰلِكَ زَنِیْمٍۙ﴿١٣ ﴾
14 এ কারণে যে, সে ছিল ধন-সম্পদ ও সন্তান- সন্ততির অধিকারী। সে ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততিতে সমৃদ্ধশালী। কারণ সে সম্পদ আর (অনেক) সন্তানাদির অধিকারী। اَنْ كَانَ ذَا مَالٍ وَّ بَنِیْنَؕ﴿١٤ ﴾
15 যখন তার কাছে আমার আয়াতসমূহ তিলাওয়াত করা হয় তখন সে বলে, এগুলো পূর্ববর্তীদের কল্পকাহিনীমাত্র। তার নিকট আমার আয়াত আবৃত্তি করা হলে সে বলেঃ এটাতো সেকালের উপকথা মাত্র। তার কাছে যখন আমার আয়াত পাঠ করা হয় তখন সে বলে, ‘‘এতো আগে কালের লোকেদের কিসসা কাহিনী মাত্র। اِذَا تُتْلٰی عَلَیْهِ اٰیٰتُنَا قَالَ اَسَاطِیْرُ الْاَوَّلِیْنَ﴿١٥ ﴾
16 অচিরেই আমি তার শুঁড়ের* উপর দাগ দিয়ে দেব। আমি তার নাসিকা দাগিয়ে দিব। আমি তার শুঁড়ের উপর দাগ দিয়ে দিব (অর্থাৎ তাকে লাঞ্ছিত করব)। سَنَسِمُهٗ عَلَی الْخُرْطُوْمِ﴿١٦ ﴾
17 নিশ্চয় আমি এদেরকে পরীক্ষা করেছি, যেভাবে পরীক্ষা করেছিলাম বাগানের মালিকদেরকে। যখন তারা কসম করেছিল যে, অবশ্যই তারা সকাল বেলা বাগানের ফল আহরণ করবে। আমি তাদেরকে পরীক্ষা করেছি, যেভাবে পরীক্ষা করেছিলাম উদ্যান অধিপতিদেরকে, যখন তারা শপথ করেছিল যে, তারা প্রত্যুষে আহরণ করবে বাগানের ফল, আমি এদেরকে (অর্থাৎ মক্কাবাসীদেরকে) পরীক্ষা করেছি যেমন আমি বাগানের মালিকদেরকে পরীক্ষা করেছিলাম। যখন তারা কসম করে বলেছিল যে, তারা সকাল বেলায় অবশ্যই বাগানের ফল সংগ্রহ করে নেবে। اِنَّا بَلَوْنٰهُمْ كَمَا بَلَوْنَاۤ اَصْحٰبَ الْجَنَّةِ ۚ اِذْ اَقْسَمُوْا لَیَصْرِمُنَّهَا مُصْبِحِیْنَۙ﴿١٧ ﴾
18 আর তারা ‘ইনশাআল্লাহ’ বলেনি। এবং তারা ইনশাআল্লাহ বলেনি। তারা ‘ইনশাআল্লাহ’ বলেনি। وَ لَا یَسْتَثْنُوْنَ﴿١٨ ﴾
19 অতঃপর তোমার রবের পক্ষ থেকে এক প্রদক্ষিণকারী (আগুন) বাগানের ওপর দিয়ে প্রদক্ষিণ করে গেল, আর তারা ছিল ঘুমন্ত। অতঃপর তোমার রবের নিকট হতে এক বিপর্যয় হানা দিল সেই উদ্যানে, যখন তারা ছিল নিদ্রিত। অতঃপর তোমার প্রতিপালকের পক্ষ থেকে বাগানে এক বিপদ এসে পড়ল যখন তারা ছিল নিদ্রিত। فَطَافَ عَلَیْهَا طَآىِٕفٌ مِّنْ رَّبِّكَ وَ هُمْ نَآىِٕمُوْنَ﴿١٩ ﴾
20 ফলে তা (পুড়ে) কালো বর্ণের হয়ে গেল। ফলে ওটা দগ্ধ হয়ে কৃষ্ণবর্ণ ধারণ করল। যার ফলে তা হয়ে গেল বিবর্ণ কাটা ফসলের মত। فَاَصْبَحَتْ كَالصَّرِیْمِۙ﴿٢٠ ﴾
21 তারপর সকাল বেলা তারা একে অপরকে ডেকে বলল, প্রত্যুষে তারা একে অপরকে ডেকে বলল – সকালে একে অপরকে ডেকে বলল, فَتَنَادَوْا مُصْبِحِیْنَۙ﴿٢١ ﴾
22 ‘তোমরা যদি ফল আহরণ করতে চাও তাহলে সকাল সকাল তোমাদের বাগানে যাও’। তোমরা যদি ফল আহরণ করতে চাও তাহলে তরিৎ বাগানে চল। ‘তোমরা যদি ফল সংগ্রহ করতে চাও তবে সকাল সকাল ক্ষেতে চল। اَنِ اغْدُوْا عَلٰی حَرْثِكُمْ اِنْ كُنْتُمْ صٰرِمِیْنَ﴿٢٢ ﴾
23 তারপর তারা চলল, নিম্নস্বরে একথা বলতে বলতে- অতঃপর তারা চললো নিম্ন স্বরে কথা বলতে বলতে। তারা চুপি চুপি কথা বলতে বলতে চলল। فَانْطَلَقُوْا وَ هُمْ یَتَخَافَتُوْنَۙ﴿٢٣ ﴾
24 যে, ‘আজ সেখানে তোমাদের কাছে কোন অভাবী যেন প্রবেশ করতে না পারে’। অদ্য যেন তোমাদের নিকট কোন অভাবগ্রস্ত ব্যক্তি প্রবেশ করতে না পারে। ‘আজ যেন সেখানে তোমাদের কাছে মিসকীনরা অবশ্যই ঢুকতে না পারে।’ اَنْ لَّا یَدْخُلَنَّهَا الْیَوْمَ عَلَیْكُمْ مِّسْكِیْنٌۙ﴿٢٤ ﴾
25 আর তারা ভোর বেলা দৃঢ় ইচ্ছা শক্তি নিয়ে সক্ষম অবস্থায় (বাগানে) গেল। অতঃপর তারা নিবৃত্ত করতে সক্ষম - এই বিশ্বাস নিয়ে প্রভাতকালে বাগানে যাত্রা করল। তারা এক (অন্যায়) সিদ্ধান্তে সংকল্পবদ্ধ হয়ে সকাল করল। وَّ غَدَوْا عَلٰی حَرْدٍ قٰدِرِیْنَ﴿٢٥ ﴾
26 তারপর তারা যখন বাগানটি দেখল, তখন তারা বলল, ‘অবশ্যই আমরা পথভ্রষ্ট’। অতঃপর তারা যখন বাগানের অবস্থা প্রত্যক্ষ করল, তারা বললঃ আমরাতো দিশা হারিয়ে ফেলেছি! অতঃপর তারা যখন বাগানটি দেখল তখন তারা বলল, ‘‘আমরা অবশ্যই পথ হারিয়ে ফেলেছি, فَلَمَّا رَاَوْهَا قَالُوْۤا اِنَّا لَضَآلُّوْنَۙ﴿٢٦ ﴾
27 ‘বরং আমরা বঞ্চিত’। না, আমরাতো বঞ্চিত! (অতঃপর ব্যাপারটি বুঝতে পারার পর তারা বলে উঠল) বরং আমরা তো কপাল পোড়া।’’ بَلْ نَحْنُ مَحْرُوْمُوْنَ﴿٢٧ ﴾
28 তাদের মধ্যে সবচেয়ে ভাল ব্যক্তিটি বলল, ‘আমি কি তোমাদেরকে বলিনি যে, তোমরা কেন (আল্লাহর) তাসবীহ পাঠ করছ না’? তাদের শ্রেষ্ঠ ব্যক্তি বললঃ আমি কি তোমাদেরকে বলিনি? এখন তোমরা আল্লাহর পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করছনা কেন? তাদের মধ্যেকার সবচেয়ে ভাল লোকটি বলল, ‘আমি কি তোমাদেরকে বলিনি যে, তোমরা আল্লাহর পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করছ না কেন?’ قَالَ اَوْسَطُهُمْ اَلَمْ اَقُلْ لَّكُمْ لَوْ لَا تُسَبِّحُوْنَ﴿٢٨ ﴾
29 তারা বলল, ‘আমরা আমাদের রবের পবিত্রতা ঘোষণা করছি। অবশ্যই আমরা যালিম ছিলাম’। তখন তারা বললঃ আমরা আমাদের রবের পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করছি, আমরাতো ছিলাম সীমালংঘনকারী। তারা বলল, ‘আমরা আমাদের প্রতিপালকের পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করছি, আমরা সীমালঙ্ঘনকারীই ছিলাম।’ قَالُوْا سُبْحٰنَ رَبِّنَاۤ اِنَّا كُنَّا ظٰلِمِیْنَ﴿٢٩ ﴾
30 তারপর তারা একে অপরের প্রতি দোষারোপ করতে লাগল। অতঃপর তারা একে অপরের প্রতি দোষারোপ করতে লাগল। অতঃপর তারা একে অপরের দিকে এগিয়ে গিয়ে পরস্পরের প্রতি দোষারোপ করতে লাগল। فَاَقْبَلَ بَعْضُهُمْ عَلٰی بَعْضٍ یَّتَلَاوَمُوْنَ﴿٣٠ ﴾
31 তারা বলল, ‘হায়, আমাদের ধ্বংস! নিশ্চয় আমরা সীমালঙ্ঘনকারী ছিলাম’। তারা বললঃ হায়! দুর্ভোগ আমাদের! আমরাতো ছিলাম সীমালংঘনকারী। তারা বলল, ‘দুর্ভোগ আমাদের, আমরা ছিলাম সীমালঙ্ঘনকারী, قَالُوْا یٰوَیْلَنَاۤ اِنَّا كُنَّا طٰغِیْنَ﴿٣١ ﴾
32 সম্ভবতঃ আমাদের রব আমাদেরকে এর চেয়েও উৎকৃষ্টতর বিনিময় দেবেন। অবশ্যই আমরা আমাদের রবের প্রতি আগ্রহী। আমরা আশা রাখি, আমাদের রাব্ব এর পরিবর্তে আমাদেরকে দিবেন উৎকৃষ্টতর উদ্যান; আমরা আমাদের রবের অভিমুখী হলাম। সম্ভবতঃ আমাদের প্রতিপালক এর পরিবর্তে আমাদেরকে উত্তম (বাগান) দিবেন, আমরা আমাদের প্রতিপালকের অভিমুখী হলাম।’ عَسٰی رَبُّنَاۤ اَنْ یُّبْدِلَنَا خَیْرًا مِّنْهَاۤ اِنَّاۤ اِلٰی رَبِّنَا رٰغِبُوْنَ﴿٣٢ ﴾
33 এভাবেই হয় আযাব। আর পরকালের আযাব অবশ্যই আরো বড়, যদি তারা জানত। শাস্তি এরূপই হয়ে থাকে এবং আখিরাতের শাস্তি কঠিনতর, যদি তারা জানত! ‘আযাব এ রকমই হয়ে থাকে। আর আখিরাতের ‘আযাব তো সবচেয়ে কঠিন। যদি তারা জানত! كَذٰلِكَ الْعَذَابُ ؕ وَ لَعَذَابُ الْاٰخِرَةِ اَكْبَرُ ۘ لَوْ كَانُوْا یَعْلَمُوْنَ﴿٣٣ ﴾
34 নিশ্চয় মুত্তাকীদের জন্য তাদের রবের কাছে রয়েছে নিআমতপূর্ণ জান্নাত। মুত্তাকীদের জন্য অবশ্যই রয়েছে ভোগ বিলাসপূর্ণ জান্নাত, তাদের রবের নিকট। মুত্তাক্বীদের জন্য তাদের প্রতিপালকের নিকট আছে নি‘মাতে পরিপূর্ণ জান্নাত। اِنَّ لِلْمُتَّقِیْنَ عِنْدَ رَبِّهِمْ جَنّٰتِ النَّعِیْمِ﴿٣٤ ﴾
35 তবে কি আমি মুসলিমদেরকে (অনুগতদেরকে) অবাধ্যদের মতই গণ্য করব? আমি কি আত্মসমর্পনকারীদেরকে অপরাধীদের সদৃশ গন্য করব? আমি কি আত্মসমর্পণকারীদেরকে অপরাধীদের মত গণ্য করব? اَفَنَجْعَلُ الْمُسْلِمِیْنَ كَالْمُجْرِمِیْنَؕ﴿٣٥ ﴾
36 তোমাদের কী হল, তোমরা কিভাবে ফয়সালা করছ? তোমাদের কি হয়েছে? তোমাদের এ কেমন সিদ্ধান্ত? তোমাদের কী হয়েছে, তোমরা কেমনভাবে বিচার করে সিদ্ধান্ত দিচ্ছ? مَا لَكُمْ ۥ كَیْفَ تَحْكُمُوْنَۚ﴿٣٦ ﴾
37 তোমাদের কাছে কি কোন কিতাব আছে যাতে তোমরা পাঠ করছ? তোমাদের নিকট কি কোন কিতাব আছে যা তোমরা অধ্যয়ন কর – তোমাদের কাছে কি (আল্লাহর নাযিলকৃত) কোন কিতাব আছে যা পড়ে তোমরা জানতে পার যে, اَمْ لَكُمْ كِتٰبٌ فِیْهِ تَدْرُسُوْنَۙ﴿٣٧ ﴾
38 যে, নিশ্চয় তোমাদের জন্য সেখানে রয়েছে যা তোমরা পছন্দ কর? যে, তোমাদের জন্য ওতে রয়েছে যা তোমরা পছন্দ কর? তোমাদের জন্য সেখানে তাই আছে যা তোমরা পছন্দ কর? اِنَّ لَكُمْ فِیْهِ لَمَا تَخَیَّرُوْنَۚ﴿٣٨ ﴾
39 অথবা তোমাদের জন্য কি আমার উপর কিয়ামত পর্যন্ত বলবৎ কোন অঙ্গীকার রয়েছে যে, অবশ্যই তোমাদের জন্য থাকবে তোমরা যা ফয়সালা করবে? আমি কি তোমাদের সাথে কিয়ামাত পর্যন্ত বলবৎ এমন কোন প্রতিজ্ঞায় আবদ্ধ আছি যে, তোমরা নিজেদের জন্য যা স্থির করবে তা পাবে? অথবা তোমাদের জন্য আমার উপর কি ক্বিয়ামত পর্যন্ত বলবৎ কোন দায়বদ্ধতা আছে যে, তোমরা যা দাবী করবে তাই পাবে? اَمْ لَكُمْ اَیْمَانٌ عَلَیْنَا بَالِغَةٌ اِلٰی یَوْمِ الْقِیٰمَةِ ۙ اِنَّ لَكُمْ لَمَا تَحْكُمُوْنَۚ﴿٣٩ ﴾
40 তুমি তাদেরকে জিজ্ঞাসা কর, কে এ ব্যাপারে যিম্মাদার? তুমি তাদেরকে জিজ্ঞেস কর, তাদের মধ্যে এই দাবীর যিম্মাদার কে? তুমি তাদেরকে জিজ্ঞেস কর (আল্লাহ যে তাদের সঙ্গে প্রতিশ্রুতিতে দায়বদ্ধ) এ ব্যাপারে তাদের মধ্যে কোন্ ব্যক্তি জামিনদার (গ্যারান্টর)? سَلْهُمْ اَیُّهُمْ بِذٰلِكَ زَعِیْمٌۚۛ﴿٤٠ ﴾
41 অথবা তাদের জন্য কি অনেক শরীক আছে? তাহলে তারা তাদের শরীকদেরকে উপস্থিত করুক যদি তারা সত্যবাদী হয়। তাদের কি কোন শরীক আছে? থাকলে তারা তাদের শরীকদের উপস্থিত করুক, যদি তারা সত্যবাদী হয়। অথবা তাদের কি শরীক উপাস্য আছে, থাকলে তাদের শরীক উপাস্যদেরকে হাজির করুক- তারা যদি সত্যবাদী হয়ে থাকে। اَمْ لَهُمْ شُرَكَآءُ ۛۚ فَلْیَاْتُوْا بِشُرَكَآىِٕهِمْ اِنْ كَانُوْا صٰدِقِیْنَ﴿٤١ ﴾
42 সে দিন পায়ের গোছা* উন্মোচন করা হবে। আর তাদেরকে সিজদা করার জন্য আহবান জানানো হবে, কিন্তু তারা সক্ষম হবে না। স্মরণ কর, গোছা পর্যন্ত পা খোলার দিনের কথা, সেদিন তাদেরকে আহবান করা হবে সাজদাহ করার জন্য, কিন্তু তারা তা করতে সক্ষম হবেনা। যেদিন (ক্বিয়ামতে) পায়ের গোছা (হাঁটুর নিম্নভাগ) উন্মোচিত হবে আর তাদেরকে ডাকা হবে সেজদা করার জন্য, কিন্তু তারা সেজদা করতে সক্ষম হবে না। یَوْمَ یُكْشَفُ عَنْ سَاقٍ وَّ یُدْعَوْنَ اِلَی السُّجُوْدِ فَلَا یَسْتَطِیْعُوْنَۙ﴿٤٢ ﴾
43 তাদের দৃষ্টিসমূহ অবনত অবস্থায় থাকবে, অপমান তাদেরকে আচ্ছন্ন করবে। অথচ তাদেরকে তো নিরাপদ অবস্থায় সিজদা করার জন্য আহবান করা হত (তখন তো তারা সিজদা করেনি)। তাদের দৃষ্টি অবনত, হীনতা তাদেরকে আচ্ছন্ন করবে, অথচ যখন তারা নিরাপদ ছিল তখনতো তাদেরকে আহবান করা হয়েছিল সাজদাহ করতে। তাদের দৃষ্টি হবে অবনত, অপমান লাঞ্ছনা তাদের উপর চেপে বসবে। (দুনিয়াতে) তারা যখন সুস্থ ও নিরাপদ ছিল তখনও তাদেরকে সেজদা করার জন্য ডাকা হত (কিন্তু তারা সেজদা করত না) خَاشِعَةً اَبْصَارُهُمْ تَرْهَقُهُمْ ذِلَّةٌ ؕ وَ قَدْ كَانُوْا یُدْعَوْنَ اِلَی السُّجُوْدِ وَ هُمْ سٰلِمُوْنَ﴿٤٣ ﴾
44 অতএব ছেড়ে দাও আমাকে এবং যারা এ বাণী প্রত্যাখ্যান করে তাদেরকে। আমি তাদেরকে ধীরে ধীরে এমনভাবে পাকড়াও করব যে, তারা জানতে পারবে না। যারা আমাকে এবং এই বাণীকে প্রত্যাখ্যান করে তাদেরকে ছেড়ে দাও আমার হাতে, আমি তাদেরকে এমনভাবে ক্রমে ক্রমে ধরব যে, তারা জানতে পারবেনা। কাজেই ছেড়ে দাও আমাকে আর তাদেরকে যারা এ বাণীকে অস্বীকার করেছে। আমি তাদেরকে ক্রমে ক্রমে আস্তে আস্তে এমনভাবে ধরে টান দিব যে, তারা একটু টেরও পাবে না। فَذَرْنِیْ وَ مَنْ یُّكَذِّبُ بِهٰذَا الْحَدِیْثِ ؕ سَنَسْتَدْرِجُهُمْ مِّنْ حَیْثُ لَا یَعْلَمُوْنَۙ﴿٤٤ ﴾
45 আর আমি তাদেরকে অবকাশ দেব। অবশ্যই আমার কৌশল অত্যন্ত বলিষ্ঠ। আর আমি তাদেরকে সময় দিয়ে থাকি, আমার কৌশল অত্যন্ত বলিষ্ঠ। আমি তাদেরকে (লম্বা) সময় দেই, আমার কৌশল বড়ই মজবুত। وَ اُمْلِیْ لَهُمْ ؕ اِنَّ كَیْدِیْ مَتِیْنٌ﴿٤٥ ﴾
46 তুমি কি তাদের কাছে পারিশ্রমিক চাচ্ছ? ফলে তারা ঋণের কারণে ভারাক্রান্ত হয়ে পড়ছে। তুমি কি তাদের নিকট পারিশ্রমিক চাচ্ছ যে, তারা একে একটি দুর্বহ দন্ড মনে করে? তুমি কি তাদের কাছে কোন পারিশ্রমিক চাচ্ছ যে, দেনার দায়ভার বহন করা তাদের জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে? اَمْ تَسْـَٔلُهُمْ اَجْرًا فَهُمْ مِّنْ مَّغْرَمٍ مُّثْقَلُوْنَۚ﴿٤٦ ﴾
47 অথবা তাদের কাছে কি ‘গায়েব’ (লওহে মাহফুয) আছে যে, তারা লিখে রাখছে। তাদের কি অদৃশ্যের জ্ঞান আছে যে, তারা তা লিখে রাখে? নাকি তাদের কাছে গায়বের খবর আছে যা তা তারা লিখে রাখে। اَمْ عِنْدَهُمُ الْغَیْبُ فَهُمْ یَكْتُبُوْنَ﴿٤٧ ﴾
48 অতএব তুমি তোমার রবের হুকুমের জন্য ধৈর্যধারণ কর। আর তুমি মাছওয়ালার মত হয়ো না, যখন সে দুঃখে কাতর হয়ে ডেকেছিল। অতএব তুমি ধৈর্য ধারণ কর তোমার রবের নির্দেশের অপেক্ষায়, তুমি মৎস্য সহচরের ন্যায় অধৈর্য হয়োনা, সে বিষাদ আচ্ছন্ন অবস্থায় কাতর প্রার্থনা করছিল। কাজেই তুমি তোমার প্রতিপালকের হুকুমের জন্য ধৈর্য ধরে অপেক্ষা কর, আর মাছওয়ালা [ইউনুস (আঃ)] এর মত (অধৈর্য) হয়ো না। স্মরণ কর যখন সে (তার প্রতিপালককে ডাক দিয়েছিল চিন্তায় দুঃখে আচ্ছন্ন হয়ে। فَاصْبِرْ لِحُكْمِ رَبِّكَ وَ لَا تَكُنْ كَصَاحِبِ الْحُوْتِ ۘ اِذْ نَادٰی وَ هُوَ مَكْظُوْمٌؕ﴿٤٨ ﴾
49 যদি তার রবের অনুগ্রহ তার কাছে না পৌঁছত, তাহলে সে নিন্দিত অবস্থায় উন্মুক্ত প্রান্তরে নিক্ষিপ্ত হত। তার রবের অনুগ্রহ তার নিকট না পৌঁছলে সে লাঞ্ছিত হয়ে নিক্ষিপ্ত হত উন্মুক্ত প্রান্তরে। তার প্রতিপালকের অনুগ্রহ যদি তার কাছে না পৌঁছত, তাহলে সে লাঞ্ছিত অবস্থায় ধুঁধুঁ বালুকাময় তীরে নিক্ষিপ্ত হত। لَوْ لَاۤ اَنْ تَدٰرَكَهٗ نِعْمَةٌ مِّنْ رَّبِّهٖ لَنُبِذَ بِالْعَرَآءِ وَ هُوَ مَذْمُوْمٌ﴿٤٩ ﴾
50 তারপর তার রব তাকে মনোনীত করলেন এবং তাকে সৎকর্মপরায়ণদের অন্তর্ভুক্ত করলেন। পুনরায় তার রাব্ব তাকে মনোনীত করলেন এবং তাকে সৎ কর্মপরায়ণদের অন্তর্ভুক্ত করলেন। এভাবে তার প্রতিপালক তাকে বেছে নিলেন আর তাকে সৎকর্মশীলদের অন্তর্ভুক্ত করলেন। فَاجْتَبٰىهُ رَبُّهٗ فَجَعَلَهٗ مِنَ الصّٰلِحِیْنَ﴿٥٠ ﴾
51 আর কাফিররা যখন উপদেশবাণী শুনে তখন তারা যেন তাদের দৃষ্টি দ্বারা তোমাকে আছড়ে ফেলবে, আর তারা বলে, ‘এ তো এক পাগল’। কাফিরেরা যখন কুরআন শ্রবণ করে তখন তারা যেন উহাদের তীক্ষ্ণ দৃষ্টি দ্বারা তোমাকে আছড়ে ফেলে দিবে এবং বলবে ‘‘এতো এক পাগল’’। কাফিররা যখন কুরআন শুনে তখন তারা যেন তাদের দৃষ্টি দিয়ে তোমাকে আছড়ে ফেলবে। আর তারা বলে, ‘‘সে তো অবশ্যই পাগল।’’ وَ اِنْ یَّكَادُ الَّذِیْنَ كَفَرُوْا لَیُزْلِقُوْنَكَ بِاَبْصَارِهِمْ لَمَّا سَمِعُوا الذِّكْرَ وَ یَقُوْلُوْنَ اِنَّهٗ لَمَجْنُوْنٌۘ﴿٥١ ﴾
52 আর এ কুরআন তো সৃষ্টিকুলের জন্য শুধুই উপদেশবাণী। কুরআনতো বিশ্ব জগতের জন্য উপদেশ। অথচ এ কুরআন বিশ্বজগতের জন্য উপদেশ ছাড়া অন্য কিছুই নয়। وَ مَا هُوَ اِلَّا ذِكْرٌ لِّلْعٰلَمِیْنَ﴿٥٢ ﴾